বৈশ্বিক পেশিশক্তির থাবা থেকে বাঁচার পথ কী
Advertisement
আসিফ রশীদ
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
১৯৯১ সালের ২৬ ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে দীর্ঘ চার দশকের স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটায় বিশ্ববাসী ভেবেছিল, এবার হয়তো পারমাণবিক যুদ্ধের বিভীষিকা কাটবে, অস্ত্রের ঝনঝনানি থামবে আর শুরু হবে এক শান্তিপূর্ণ সুবর্ণ যুগ। কিন্তু ইতিহাস বড় নিষ্ঠুর। তিন দশক পর এসে দেখা যাচ্ছে, সেই আশা শুধু মরীচিকাই ছিল না, বরং পৃথিবী এখন আগের চেয়েও বেশি অস্থির, অনিরাপদ এবং একমেরুকেন্দ্রিক আধিপত্যের জাঁতাকলে পিষ্ট। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের পর মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা দম্ভ করে বলেছিলেন ‘এন্ড অব হিস্ট্রি’ বা ইতিহাসের সমাপ্তি। তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, উদারনৈতিক গণতন্ত্র আর পুঁজিবাদের চূড়ান্ত জয় হয়ে গেছে। কিন্তু আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা দেখছি সেই ইতিহাস সমাপ্ত হয়নি; বরং তা এক রক্তক্ষয়ী পুনরাবৃত্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিশ্রুতির খেলাপ ও ন্যাটো সম্প্রসারণ
সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের সময় জার্মানির পুনঃএকত্রীকরণের শর্ত হিসাবে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস বেকার মিখাইল গরবাচেভকে কথা দিয়েছিলেন-‘ন্যাটো এক ইঞ্চিও পূর্বদিকে এগোবে না।’ অথচ আজ আমরা কী দেখছি? ওয়ারশ জোট বিলুপ্ত হয়ে গেলেও ন্যাটো বিলুপ্ত হয়নি। বরং এটি ক্রমাগত পূর্বদিকে সম্প্রসারিত হচ্ছে। ১৯৯৯ সালে পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি ও চেক প্রজাতন্ত্রের যোগদানের মাধ্যমে ন্যাটোর সীমানা রাশিয়ার দিকে সরতে শুরু করে। এরপর ২০০৪ সালে আরও সাতটি দেশ (এস্তোনিয়া, লাতভিয়া, লিথুয়ানিয়া, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া) ন্যাটোতে যোগ দেয়। এটি সরাসরি রাশিয়ার দোরগোড়ায় পশ্চিমাদের সামরিক উপস্থিতির শামিল। ন্যাটোর এই পূর্বমুখী সম্প্রসারণই মূলত আজকের ইউক্রেন সংকটের মূল কারণ। রাশিয়া দীর্ঘকাল ধরেই ইউক্রেনকে তার জন্য ‘রেড লাইন’ হিসাবে ঘোষণা করে আসছিল। ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়ার জন্য ইউক্রেনের সংবিধান সংশোধন এবং পশ্চিমাদের মদদকে রাশিয়া তার অস্তিত্বের প্রতি হুমকি হিসাবে দেখেছে। ফলে যে ন্যাটো গঠিত হয়েছিল শান্তিরক্ষার দোহাই দিয়ে, তার সম্প্রসারণই শেষ পর্যন্ত একটি ভয়াবহ যুদ্ধের প্রধান উসকানিদাতা হিসাবে কাজ করছে।
ন্যাটোর সম্প্রসারণের পেছনে শুধু নিরাপত্তা নয়, বরং মার্কিন অস্ত্রশিল্পের এক বিশাল বাজারও কাজ করেছে। নতুন সদস্য দেশগুলোকে ন্যাটোর মানদণ্ড অনুযায়ী অস্ত্র কিনতে হয়, যার সিংহভাগ লাভ যায় যুক্তরাষ্ট্রের সমরশিল্পের পকেটে। যখন একটি সামরিক জোট শুধু একটি নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষকে দমনের লক্ষ্যে কাজ করে, তখন শান্তি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ন্যাটোর টিকে থাকা এবং এর পরিধি বৃদ্ধি প্রমাণ করে, স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হলেও পশ্চিমাদের ‘শত্রু খোঁজা’র মানসিকতা শেষ হয়নি।
ইরাক থেকে গাজা : দ্বিমুখী নীতির নগ্নরূপ
স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি সংঘটিত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই ‘গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র’ থাকার অজুহাতে ইরাকে ধ্বংস অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। লাখ লাখ মানুষ হত্যা আর একটি সুন্দর রাষ্ট্রকে নরক বানিয়ে ফেলার যুক্তি আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্যপট আমরা আজ দেখছি গাজায়। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের যে বর্বরোচিত ও অমানবিক কর্মকাণ্ড চলছে, তাতে নির্লজ্জভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে মানবাধিকারের তথাকথিত ধ্বজাধারী আমেরিকা। গাজায় ইসরাইলের বর্তমান অভিযান এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থার নৈতিক কাঠামোকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। গাজায় যখন হাজার হাজার শিশু ও নারী নির্বিচারে প্রাণ হারাচ্ছিল, হাসপাতাল এবং স্কুল যখন বোমা মেরে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্র শুধু মৌখিকভাবে ‘বেসামরিক লোকবল রক্ষার’ আহ্বান জানিয়েছে।
শুধু গাজার ধ্বংসযজ্ঞ নয়-ভেনিজুয়েলার নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা ও সরকার পরিবর্তনের হুমকি, কিউবাকে হুমকি, এমনকি গ্রিনল্যান্ড দখল করার অদ্ভুত বাসনা-ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ আচরণই ইঙ্গিত দেয়, আন্তর্জাতিক আইন এখন শুধু দুর্বল রাষ্ট্রের ওপর প্রয়োগ করার জন্য। শক্তিশালীরা এসব ক্ষেত্রে আইনের ঊর্ধ্বে।
আধিপত্যবাদ যখন অশান্তির উৎস
বর্তমান পৃথিবীর অশান্তির মূলে রয়েছে একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা। মধ্যযুগে পৃথিবী চেঙ্গিস খান-হালাকু খানদের দাপটে ‘জোর যার মুল্লুক তার’ হয়ে উঠেছিল, সেই পৃথিবীই যেন আবার ফিরে এসেছে ট্রাম্পযুগে। পেশিশক্তি দিয়ে শুধু অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের চেষ্টাই নয়, প্রকাশ পাচ্ছে ভূখণ্ড দখলেরও ইচ্ছা। বিশ্ব এখন আর কার্যত বাই-পোলার (দ্বি-মেরুকেন্দ্রিক) নেই, কিন্তু এটি এখনো সত্যিকারের মাল্টি-পোলার (বহু-মেরুকেন্দ্রিক) হয়ে উঠতে পারেনি। এই ক্রান্তিকালেই জন্ম নিচ্ছে সংঘাত। যখন কোনো একক রাষ্ট্র নিজেকে বিশ্বের ‘মোড়ল’ ভাবতে শুরু করে, তখন গণতন্ত্র আর মানবাধিকার শুধু তাদের স্বার্থরক্ষার ঢাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়। গাজায় যা গণহত্যা, ইউক্রেনে তা-ই রাশিয়ার ‘আগ্রাসন’-এই দ্বিমুখী নীতি বিশ্বকে অনিরাপদ করে তুলছে।
বর্তমান ভূ-রাজনীতির এই অস্থিরতা শুধু সীমান্ত সংঘাত বা রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি আজ একটি গভীর সংকটের মুখোমুখি। বিশেষ করে ন্যাটো সম্প্রসারণ ঘিরে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের আগ্রাসন বৈশ্বিক বাজারব্যবস্থাকে তছনছ করে দিয়েছে। এর অর্থনৈতিক প্রভাবগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় কীভাবে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় কোষাগার পর্যন্ত সবকিছুই এই অশান্তির শিকার হচ্ছে :
১. জ্বালানি তেলের বাজার এবং ‘এনার্জি পলিটিক্স’ : রাশিয়া পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন ধ্বংসের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে এর চেইন রিঅ্যাকশন হিসাবে পরিবহণ খরচ এবং নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। ইউরোপ আজ আমেরিকার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা তার অর্থনীতির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।
২. খাদ্য নিরাপত্তা : রাশিয়া ও ইউক্রেনকে বলা হয় ‘ব্রেড বাস্কেট অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ (বিশ্বের রুটির ঝুড়ি)। বিশ্ববাজারের ৩০ শতাংশ গম ও সূর্যমুখী তেলের বড় অংশ এ অঞ্চল থেকে আসে। যুদ্ধের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় আফ্রিকা ও এশিয়ার অনেক দেশ খাদ্য সংকটের মুখে পড়েছে। সারের দাম বাড়ার কারণে বিশ্বজুড়ে কৃষি উৎপাদন ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
৩. ডলারের একাধিপত্য ও ‘ডি-ডলারাইজেশন’ : আমেরিকা তার রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে যখনই কোনো দেশের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তখনই তারা ডলারকে একটি অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে। রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ জব্দ করার পর চীন, ভারত, ব্রাজিল এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন ডলারে বাণিজ্য কমিয়ে নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেনের পথ খুঁজছে। একে বলা হচ্ছে ‘ডি-ডলারাইজেশন’। এই অর্থনৈতিক মেরুকরণ বিশ্ব অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে অস্থির করে তুলছে।
৪. সামরিক ব্যয় বনাম উন্নয়ন : বর্তমান অশান্ত পরিস্থিতি দেশগুলোকে তাদের বাজেট পুনর্বিন্যাস করতে বাধ্য করছে। ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো এখন তাদের জিডিপির একটি বড় অংশ সামরিক খাতে ব্যয় করার ঘোষণা দিয়েছে। জার্মানির মতো দেশ, যারা এতদিন সামরিক ব্যয়ে সংযত ছিল, তারাও এখন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অস্ত্রের পেছনে ঢালছে।
৫. বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ : শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় যে অর্থ ব্যয় করার কথা ছিল, তা চলে যাচ্ছে অস্ত্র কিনতে। এটি প্রকারান্তরে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান কমিয়ে দিচ্ছে।
বিশ্ববাসীর করণীয় কী
পৃথিবী আজ এক বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে। এ অবস্থায় শান্তিকামী মানুষের বসে থাকার সুযোগ নেই। আমাদের যা করা উচিত :
১. শক্তিশালী বিশ্ব জনমত গড়ে তোলা : রাষ্ট্রগুলো যখন অস্ত্রের ভাষায় কথা বলে, তখন জনগণের উচিত প্রতিবাদের ভাষা ব্যবহার করা। গাজা ইস্যুতে আমরা দেখেছি কীভাবে সারা বিশ্বের ছাত্রসমাজ এবং সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। এই জনমতই পারে শাসকদের পিছু হটতে বাধ্য করতে। রাষ্ট্রযন্ত্রের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ‘না’ বলার সাহস অর্জন করতে হবে।
২. জাতিসংঘকে ঢেলে সাজানো : জাতিসংঘ একটি অকার্যকর সংস্থায় পরিণত হয়েছে। যেখানে পাঁচটি দেশের হাতে ‘ভেটো’ ক্ষমতা থাকে, সেখানে সাম্য আসতে পারে না। বিশ্ববাসীকে দাবি তুলতে হবে-জাতিসংঘের সংস্কার চাই। নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষমতা কমিয়ে সাধারণ পরিষদের ক্ষমতা বাড়াতে হবে। মুষ্টিমেয় কয়েকটা দেশ পুরো পৃথিবীর ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করবে, এই প্রথা বন্ধ করতে হবে।
৩. আঞ্চলিক জোট শক্তিশালী করা : পশ্চিমা অর্থনৈতিক ও সামরিক কাঠামোর ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। ব্রিকস বা এ ধরনের বিকল্প অর্থনৈতিক জোটগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে, যাতে ডলারের একাধিপত্য বা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখিয়ে কোনো রাষ্ট্রকে জিম্মি করা না যায়। গ্লোবাল সাউথ বা দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য এখন সময়ের দাবি।
৪. তথ্যের উপনিবেশবাদ রুখে দেওয়া : আমরা যা দেখছি বা শুনছি, তার সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করে গুটিকয়েক পশ্চিমা মিডিয়া। ইরাক যুদ্ধের সময় তারা যা বলেছে, আমরা তা-ই বিশ্বাস করেছি। এখন সময় এসেছে বিকল্প মিডিয়া এবং সত্যনিষ্ঠ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিজস্ব বয়ান তৈরি করার। ইসরাইলি প্রোপাগান্ডা যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ভেঙে দিচ্ছে, সেই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে।
৫. সামরিক ব্যয় হ্রাসের দাবি : পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ যখন দারিদ্র্য আর জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার, তখন ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে মারণাস্ত্র তৈরিতে। বিশ্ববাসীকে দাবি তুলতে হবে-অস্ত্র নয়, অন্ন চাই। পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ শুধু খাতা-কলমে নয়, বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে।
স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্ব আমাদের যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল, বাস্তবে এর বিপরীতটিই ঘটছে। তবে বিশ্ব এখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন একাধিপত্যের দিন শেষ হয়ে আসছে এবং একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে উঠছে। এই সন্ধিক্ষণে আমাদের সচেতন থাকতে হবে যাতে আমরা নতুন কোনো সাম্রাজ্যবাদের কবলে না পড়ি। সাম্রাজ্যবাদ আর আধিপত্যবাদকে রুখতে না পারলে পৃথিবী কখনোই শান্ত হবে না। আসুন, আমরা রাষ্ট্রের সীমানা পেরিয়ে মানবতার পক্ষে কথা বলি। পৃথিবীর মানচিত্র থেকে অন্যায্য দখলদারত্ব আর যুদ্ধবাজদের বিদায় করার শপথ নিই। মনে রাখতে হবে, পৃথিবীটা আমাদের সবার, কোনো নির্দিষ্ট পরাশক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। বর্তমান অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে হলে একক দেশের আধিপত্য নয়, বরং একটি ভারসাম্যপূর্ণ বহু-মেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা অপরিহার্য।
আসিফ রশীদ : উপসম্পাদক, যুগান্তর
