Logo
Logo
×
   

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

দৃষ্টিপাত

দ্বৈত নাগরিকদের অংশগ্রহণ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে

Advertisement

Icon

ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দ্বৈত নাগরিকদের অংশগ্রহণ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে

Advertisement

নির্বাচনি ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাসে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে কোনো বিচারেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যবাহী। এটি শুধু রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদলের নির্বাচন নয়, এটি যুগান্তকারী একটি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে জাতি কি উদার গণতান্ত্রিক পথে যাত্রা শুরু করবে, নাকি আবারও স্বৈরশাসনের নিকষ কালো অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। যেমনটি হয়েছিল ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণ-আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছে, তা বাস্তবায়ন এবং জুলাই শহীদদের চাওয়া অনুযায়ী সব ধরনের বৈষম্য বিলোপের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সত্যিকার একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করার এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য আসন্ন নির্বাচন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচনের মাধ্যমে যদি সত্যিকার জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠন করা না যায়, তাহলে দেশ আবারও দীর্ঘমেয়াদের জন্য বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে। জনগণ যদি তাদের পছন্দমতো উপযুক্ত প্রার্থীকে ভোটদানের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে পারে, তাহলে রাষ্ট্রপরিচালনায় জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে এবং দেশ সঠিক পথে পরিচালিত হবে। আগামীতে আর কোনো সরকার যাতে নির্বাচনব্যবস্থাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে বিগত সরকারের মতো স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিগত সরকারামলে ১৬ বছর দেশের মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। ২০০৯ সালে যাদের বয়স ছিল ১৮ বছর, তারা অন্তত ১৭ বছর নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। ভোটাধিকারবঞ্চিত এ বিপুলসংখ্যক তরুণসহ দেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। নির্বাচনে কারা জয়লাভ করবে, কারা পরাজিত হবেন, এটি বিবেচ্য বিষয় নয়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হচ্ছে, নির্বাচনটি অবাধ, নিরপেক্ষ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে কিনা।

ইলেকশন কমিশন (ইসি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কাজ সম্পন্ন করেছে। গত ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন পর্যন্ত ২৯৮টি সংসদীয় আসনে প্রায় ২ হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অর্থাৎ প্রতিটি আসনে প্রায় সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর মধ্যে শীর্ষ রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রার্থীরা ২৮৫টি আসনে এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রার্থী আছেন ২৪৩টি আসনে। দল দুটো অবশিষ্ট আসন তাদের রাজনৈতিক মিত্রদের জন্য ছেড়ে দিয়েছে। পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এ দুটি আসনে নতুন নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন ব্যাপকমাত্রায় অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় তারা ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। নির্বাচনে ৭৯টি সংসদীয় আসনে বিএনপির ৯২ জন বিদ্রোহী প্রার্থী এবং একটি সংসদীয় আসনে জামায়াতের একজন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ৪৭৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ২ হাজার ৫৬৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে ৭২৩ জন প্রার্থী বাদ পড়লেও পরবর্তীকালে আপিলের মাধ্যমে ৩০৫ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকরাও রয়েছেন, যা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে প্রার্থীদের বাদ দেওয়া-না দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। প্রাথমিক বাছাইয়ে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে ২৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলেও আপিলের মাধ্যমে ২১ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। একইভাবে ঋণখেলাপিদের অনেকেই নানা কৌশলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচন কমিশন থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা জুলাই চেতনাকে সামনে রেখে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন; কিন্তু দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগদান কোনোভাবেই জুলাই চেতনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতে পারে না। এছাড়া সংবিধানের ৬৬ নম্বর অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১২নং অনুচ্ছেদ মোতাবেক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অযোগ্য বিবেচিত হবেন। তাহলে কীভাবে দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য বলে বিবেচিত হলেন? একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, ‘আইন পারমিট করায় ঋণখেলাপিদের মনে কষ্ট নিয়ে ছাড় দিয়েছি।’ অন্য একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, ‘মনোনয়ন বৈধ করলাম। মানুষ হিসাবে বলছি, ব্যাংকের টাকা দিয়ে দিয়েন।’

কথায় বলে, ‘চোরা নাহি শুনে ধর্মের কাহিনি’। একজন নির্বাচন কমিশনার পরামর্শ দেবেন, আর ঋণখেলাপিরা ভালো হয়ে যাবেন; ব্যাংকের ঋণকৃত অর্থ ফেরত দেবেন, এটা কি প্রত্যাশা করা যায়? আরেকজন নির্বাচন কমিশনার আইনের দোহাই দিয়েছেন। আমাদের মনে রাখতে হবে, কোনো আইনই চিরস্থায়ী নয়। আর আইন মানুষের কল্যাণ ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্যই তৈরি হয়, মানুষ আইনের জন্য তৈরি হয় না। ইসি যদি ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে বাদ রাখতে চাইত, তাহলে সে ব্যবস্থাও ছিল। তারা নিজেরা অথবা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রশাসনিক অধ্যাদেশ জারি করাতে পারতেন। কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ২ শতাংশ নগদ ডাউন পেমেন্ট জমাদানসাপেক্ষ ঋণখেলাপিদের দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের সুবিধা দিয়েছে। বিগত সরকারামলে আ হ ম মোস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন ঋণখেলাপিদের এ ধরনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে সেই সময় প্রচণ্ড সমালোচনা হয়েছিল। তখন গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়েছিল এক বছর, আর এখন গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়েছে দুই বছর। প্রশ্ন হলো, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ঋণখেলাপিদের এমন আপত্তিকর সুবিধা কেন দেওয়া হলো? ইসি হয়তো বলবে, বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের সুযোগ দিয়েছে, এক্ষেত্রে আমাদের কী করণীয় থাকতে পারে? তাদের করার অনেক কিছুই ছিল। নির্বাচন কমিশন নিজেরা অথবা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এমন একটি অধ্যাদেশ জারি করতে অথবা করাতে পারতেন যে, কোনো ব্যক্তিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হলে তাকে অন্তত এক বছর আগে থেকে ঋণখেলাপিমুক্ত থাকতে হবে। কোনো বিশেষ সুবিধার আওতায় নয়, কিস্তি পরিশোধের মাধ্যমে এক বছর আগেই নিজেকে ঋণখেলাপি ‘তকমা’ মুক্ত করতে হবে। নির্বাচন কমিশন কি সত্যি ঋণখেলাপিদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য আন্তরিক? নাকি তারা লোকদেখানোর চেষ্টা করছেন? একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, মনে কষ্ট নিয়ে ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছি। তার এ বক্তব্যের মধ্যে ইসির অসহায়ত্ত ফুটে উঠেছে। তারা কি কোনো বিশেষ মহলের চাপের কাছে নতি স্বীকার করলেন? অন্তর্বর্তী সরকার স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে অঙ্গীকারবদ্ধ। কিন্তু কোনো কোনো উপদেষ্টার কার্যকলাপে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

নির্বাচন কোন ধরনের সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হলো, তা যতটা না গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে, যারা মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনা করবেন, তাদের ব্যক্তিগত আচার-আচরণ কেমন, তার ওপর। নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তা; যেমন-রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসাররা নির্বাচনকালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। তারা চাইলে যে কোনো সময় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলতে পারেন। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশ, যেখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রতি দলবিশেষের লিপ্সা বেশি থাকে, সেখানে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সত্যিই খুব কঠিন। অন্তর্বর্তী অথবা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই তা সর্বাঙ্গীণ সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ২০০৮ সালে সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারে অধীনে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তাতে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে জেতানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে চেষ্টা চালানো হয়েছিল। ফলে যে সরকার নির্বাচিত হয়, তারা পরবর্তীকালে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে পারেনি।

এমন ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে, যেখানে একজন মানুষ চাইলেই নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবে। আর ভোটাররা তাদের ইচ্ছামতো পছন্দনীয় প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে। নির্বাচনে সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনকে যদি ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য ও বিতর্কমুক্ত করতে হয়, তাহলে অন্তত চারটি প্রতিবন্ধকতা থেকে নির্বাচনকে মুক্ত রাখতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মধ্যে প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় টাকার খেলার কথা। আমাদের দেশে নির্বাচন মানেই টাকার খেলা। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে বিপুল পরিমাণ টাকা থাকতে হয়। ভোটারদের সন্তুষ্ট করার জন্য টাকা ব্যয় করতে হয়। এ অবস্থায় যারা দরিদ্র বা স্বল্প সম্পদের মালিক, তাদের পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও জয়লাভ করা সম্ভব হয় না। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে পেশিশক্তির ব্যবহার। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের পেশিশক্তি প্রদর্শন করার মাধ্যমে ভোটারদের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করে থাকে। তৃতীয় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা এবং আঞ্চলিকতার প্রচার-প্রচারণা। চতুর্থ প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং কারসাজি বন্ধ করা। আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যার কারণে নির্বাচনব্যবস্থাটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচনব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা না যাবে এবং বিদ্যমান সমাজব্যবস্থার কিছুটা পরিবর্তন করা না যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা নির্বাচনব্যবস্থাকে পুরোপুরি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে পারব না। নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যারা সম্ভাব্য বিজয়ী দলের পক্ষে কাজ করেন। এটি সম্পূর্ণ নৈতিকতাবিরোধী এবং কোনোভাবেই গ্রহণীয় হতে পারে না।

অন্তর্বর্তী সরকার যতই চাক না কেন, মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা যদি সঠিক এবং সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন না করেন, তাহলে কোনোভাবেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য একটি বিশেষ মহল তৎপর রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার যদি গণপ্রত্যাশা অনুযায়ী সুষ্ঠু এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারে, তাহলে তাদের অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আর যদি তা করতে ব্যর্থ হয় এবং কোনো কারণে নির্বাচন বিতর্কিত হয়, তার ‘দায়ভার’ সম্পূর্ণরূপেই তাদের ওপর বর্তাবে এবং তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী একটি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত কোনো পক্ষেরই দায়িত্ব পালনে গাফিলতির সুযোগ নেই। তাহলে জাতি তাদের ক্ষমা করবে না।

ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী : অবসরপ্রাপ্ত উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম