ভারতের হুমকি এবং বাংলাদেশের অবস্থান
Advertisement
এইচ আর এম রোকন উদ্দিন
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে সবচেয়ে টানাপোড়েনপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ একপর্যায় অতিক্রম করছে। একসময় যাকে নয়াদিল্লি ‘বিশেষ সম্পর্ক’ হিসাবে উপস্থাপন করত, সেটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের চোখে ক্রমশ একতরফা ও অসম সম্পর্ক হিসাবে প্রতিভাত হয়েছে; যেখানে ভারত কেবল দ্বিপাক্ষিক বিষয়েই নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতেও অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশের মানুষের বড় অংশের কাছে-কিছু রাজনৈতিক সুবিধাভোগী ও সহযোগী গোষ্ঠী বাদে-এ পরীক্ষার ফল গভীর অসন্তোষ ও অবিশ্বাসই সৃষ্টি করেছে।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে যাকে বহু মানুষ ফ্যাসিবাদী ও অবৈধ শাসন হিসাবে দেখত, তার পতন বাংলাদেশের জনমনে গভীর পরিবর্তন আনে। পতিত সরকারের প্রতি ভারতের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অবিচল সমর্থনকে বাংলাদেশিরা সাধারণভাবে জনগণের ইচ্ছা দমনের প্রতি সমর্থন হিসাবেই দেখেছে। এটি আবেগনির্ভর প্রতিক্রিয়া নয়; বরং এ উপলব্ধি থেকেই এসেছে যে, ভারত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারতের নীতিতে সংশোধন আসার বদলে, বাস্তবে উলটো চিত্রই স্পষ্ট হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিকল্পিত ভ্রান্ত তথ্য ও মিডিয়া প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে, যার উদ্দেশ্য নতুন প্রশাসনকে অবৈধ ও অকার্যকর হিসাবে তুলে ধরা। ‘রাষ্ট্রব্যর্থতা’, ‘চরমপন্থা’ ও ‘নিরাপত্তাহীনতা’-এ ধরনের বয়ান প্রায়ই তথ্যভিত্তিক প্রমাণ ছাড়াই ছড়ানো হয়েছে, যাতে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আস্থা নষ্ট হয় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিরুৎসাহিত হয়।
অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ যখন জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, তখন ভারতের কর্মকাণ্ড আরও উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। বহু বাংলাদেশির কাছে এ নির্বাচন হলো বহু বছরের কারচুপি ও নিয়ন্ত্রিত রাজনীতির পর গণতান্ত্রিক বৈধতা পুনরুদ্ধারের সুযোগ। কিন্তু এ সংবেদনশীল মুহূর্তে ভারতের প্রোপাগান্ডা তৎপরতা তীব্র হয়েছে-যা থেকে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, নয়াদিল্লি নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত বা আগেভাগেই অবৈধ প্রমাণ করতে চায়। নির্বাচন সম্ভব কিনা, প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সন্দেহ ছড়ানো হচ্ছে-যেন ভোটের আগেই ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়। একই সময়ে সীমান্তে ভারতের অবস্থান আরও আক্রমণাত্মক হয়েছে। সেনা মোতায়েন, উন্নত সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তর, নজরদারি বৃদ্ধি এবং আকাশপথে সামরিক সম্পদের উপস্থিতি নিয়ে খবরগুলো দেশে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভারত এসব পদক্ষেপকে নিয়মিত বা প্রতিরক্ষামূলক বললেও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এগুলোকে বাংলাদেশে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসাবেই দেখা হচ্ছে। এ ধরনের সামরিক প্রদর্শন ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বাধীনতার জন্য সরাসরি হুমকি। কয়েকটি উচ্চ প্রোফাইল ঘটনায় জনরোষ আরও বেড়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে ঘিরে আচরণ, ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারের হঠাৎ প্রত্যাহার, ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ওপর হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ, হঠাৎ ভিসা প্রদান বন্ধ বা কঠোর সীমাবদ্ধতা-এসব ঘটনাকে অনেকেই সম্মিলিত শাস্তি ও ভয় দেখানোর অংশ হিসাবে দেখছেন। আলাদা আলাদাভাবে এগুলোকে প্রশাসনিক বা নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্ত বলা গেলেও সামগ্রিকভাবে এগুলো একটি সুস্পষ্ট চাপ সৃষ্টির ধারারই ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশের ভেতরে এসব ঘটনার প্রভাব পড়ছে নির্বাচনি রাজনীতিতেও। যেসব রাজনৈতিক শক্তিকে ভারতের ঘনিষ্ঠ বা প্রভাবাধীন বলে মনে করা হয়, তারা জনসমর্থনের ক্ষেত্রে ক্রমেই চাপে পড়ছে। বিপরীতে, সার্বভৌমত্ব, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের কথা বলা দল ও আন্দোলনগুলো জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। অর্থনৈতিক চাপ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নির্বাচনের ফল এখনো অনিশ্চিত হলেও একটি বিষয় স্পষ্ট-ভারতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল বা অনুগত বলে বিবেচিত কোনো শক্তির জন্য ব্যাপক জনসমর্থন অর্জন করা কঠিন হবে। ভারতের এ অবস্থান আঞ্চলিক পর্যায়েও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশকে হেজেমনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার মাধ্যমে নয়াদিল্লি কার্যত ঢাকাকে বিকল্প কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা অংশীদার খুঁজতে উৎসাহিত করছে। এতে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। আঞ্চলিক নেতৃত্ব সুসংহত করার বদলে, ভারতের বর্তমান নীতি তার প্রভাব ও সদিচ্ছা উভয়ই ক্ষয় করছে। মূলত ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের এ সংকট কোনো জনগণের মধ্যে শত্রুতার ফল নয়; বরং এটি সার্বভৌমত্ব, গণতান্ত্রিক পছন্দ এবং রাষ্ট্রগুলোর সমতার প্রশ্ন। আজ বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা বহুমাত্রিক হুমকির মুখে, শুধু সামরিক বা সীমান্তসংক্রান্ত নয়, বরং তথ্য, রাজনীতি ও মনস্তত্ত্বের ক্ষেত্রেও। ভ্রান্ত তথ্য প্রচার, নির্বাচনকে অবৈধ প্রমাণের চেষ্টা, অর্থনৈতিক চাপ এবং কূটনৈতিক বার্তা-সব মিলিয়ে এমন এক অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে, যখন দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের জন্য শান্ত পরিবেশ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আসন্ন নির্বাচন তাই কেবল একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়; এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও পররাষ্ট্রনীতিতে স্বাধীন অবস্থান প্রতিষ্ঠার এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ভারত যদি বর্তমান পথে চলতে থাকে-সহযোগিতার বদলে চাপ ও প্রভাব বিস্তারের নীতি অবলম্বন করে-তাহলে সে শুধু অঞ্চলে বন্ধু হারাবে না, বরং নিজের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অবস্থানও দুর্বল করবে। সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য ভারতের প্রয়োজন হেজেমনিক মনোভাব ত্যাগ করা, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করা এবং সমান প্রতিবেশী হিসাবে সংলাপে ফিরে আসা। এ পরিবর্তন ছাড়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক-সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বদলে উত্তেজনা ও প্রতিরোধের দ্বারাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্র। আমাদের জাতীয় নীতির মূল ভিত্তি হলো শান্তি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্মান। আমরা কারও সঙ্গে সংঘাত বা যুদ্ধ চাই না, চাই না কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে-জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি অঙ্গীকার এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান তারই প্রমাণ। তবে শান্তিপ্রিয় হওয়া মানে দুর্বল থাকা নয়। ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, শান্তি কেবল সদিচ্ছা দিয়ে টিকে থাকে না; শান্তি রক্ষার জন্য শক্তি, প্রস্তুতি ও আত্মরক্ষার সক্ষমতা অপরিহার্য।
বাংলাদেশ কারও সঙ্গে যুদ্ধ চায় না, কিন্তু যদি কোনো রাষ্ট্র আমাদের ওপর সংঘাত চাপিয়ে দেয়, হুমকি দেয় বা আগ্রাসনে লিপ্ত হয়, তাহলে মাতৃভূমি রক্ষার জন্য লড়াই করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা এবং জনগণের নিরাপত্তা রক্ষা কোনো বিকল্প বিষয় নয়। সে কারণেই প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নেওয়া শান্তিনীতির পরিপন্থি নয়; বরং এটি টেকসই শান্তিরই একটি মৌলিক শর্ত। যে রাষ্ট্র আত্মরক্ষা করতে পারে না, সে রাষ্ট্র চাপ ও হস্তক্ষেপের শিকার হয়; আর যে রাষ্ট্র প্রস্তুত থাকে, তার বিরুদ্ধে আগ্রাসনের সাহস কেউ সহজে দেখায় না। এ প্রস্তুতির কেন্দ্রে রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন। আধুনিক যুদ্ধ আর শুধু স্থলযুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; আকাশ, সমুদ্র, সাইবার জগৎ, গোয়েন্দা ও তথ্যযুদ্ধ-সব মিলিয়েই আজকের যুদ্ধক্ষেত্র। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে সময়োপযোগী অস্ত্র, প্রযুক্তি ও সমন্বিত কমান্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে আরও সক্ষম করে তুলতে হবে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, আগাম সতর্কীকরণ রাডার, ড্রোন প্রযুক্তি, সাইবার প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সক্ষমতা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে যে কোনো হুমকি শুরুতেই শনাক্ত ও প্রতিহত করা যায়। একইসঙ্গে স্থলসীমান্ত ও সমুদ্রসীমা সুরক্ষায় আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা, দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনী এবং সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো অপরিহার্য।
আকাশসীমা সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে, কারণ আধুনিক যুদ্ধে আকাশের নিয়ন্ত্রণ প্রায়ই বিজয় নির্ধারণ করে। শক্তিশালী বিমানবাহিনী, কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং রিয়েল টাইম গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি। একইভাবে বঙ্গোপসাগর ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সক্ষম ও আধুনিক নৌবাহিনী সমুদ্র নজরদারি, সমুদ্রপৃষ্ঠ ও পানির নিচের হুমকি মোকাবিলায় দেশের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করে। কৌশলগত অংশীদারত্ব ও সামরিক সহযোগিতাও জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাংলাদেশ সংঘাতমুখী কোনো জোটে যেতে চায় না; কিন্তু প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও যৌথ মহড়ার জন্য নির্ভরযোগ্য অংশীদার থাকা জরুরি। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বহুমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলা একক কোনো শক্তির ওপর অতিনির্ভরতা কমায় এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বাড়ায়। এতে বাংলাদেশ একদিকে নিজের সক্ষমতা বাড়াতে পারে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্বশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্র হিসাবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারে। এর পাশাপাশি জাতীয় প্রতিরক্ষাকে একটি সামষ্টিক দায়িত্ব হিসাবে গড়ে তোলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুবসমাজের জন্য কাঠামোবদ্ধ ও বাধ্যতামূলক সামরিক বা জাতীয় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে-যার উদ্দেশ্য সমাজকে সামরিকীকরণ নয়, বরং শৃঙ্খলা, সহনশীলতা, মৌলিক আত্মরক্ষা দক্ষতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা। এ ধরনের প্রশিক্ষণ দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বাড়াবে, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা উন্নত করবে এবং প্রয়োজনে একটি প্রশিক্ষিত রিজার্ভ শক্তি তৈরি করবে। যখন জনগণ প্রশিক্ষিত ও সচেতন থাকে, তখন প্রতিরোধ শক্তি বহুগুণে বেড়ে যায়, কারণ জাতীয় প্রতিরক্ষা কেবল সশস্ত্র বাহিনীর একক দায়িত্বে সীমাবদ্ধ থাকে না।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের শান্তির পথ একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতির ওপর দাঁড়িয়ে-একদিকে কূটনীতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও শান্তির প্রতি অঙ্গীকার; অন্যদিকে আত্মরক্ষার জন্য দৃঢ় প্রস্তুতি। প্রস্তুতিকে কখনোই আগ্রাসন হিসাবে দেখা উচিত নয়, যেমন শান্তিপ্রিয়তাকেও দুর্বলতা হিসাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন, সীমান্ত ও আকাশসীমা সুরক্ষা, কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং যুবসমাজকে জাতীয় প্রতিরক্ষায় প্রস্তুত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ এমন একটি অবস্থানে পৌঁছাতে পারে, যেখানে শান্তি থাকবে শক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, দুর্বলতার ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো শর্ত হিসাবে নয়।
এইচ আর এম রোকন উদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, ভু-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক
