দৃষ্টিপাত
‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে
ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় সারা দেশ মুখর করে তুলেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচারণা চালাছে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আশা করা হচ্ছে, নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর এবং ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক হবে। এ নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের গতানুগতিক নির্বাচন নয়, এর তাৎপর্য অনেক গভীরে প্রোথিত। কাজেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্নাতীতভাবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে নির্বাচনব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ক্ষমতাচ্যুত বিগত সরকার তিনটি বিতর্কিত সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ করেছিল কীভাবে জনমতকে উপেক্ষা করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা যায়। ওইসব নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য তদানীন্তন সরকার তাদের আজ্ঞাবহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে ব্যবহার করেছিল।
ইতঃপূর্বে বাংলাদেশে ১২টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারই প্রথম অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান স্বীকৃত সরকার নয়। এর আগে ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম, ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত সপ্তম, ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম এবং ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এর মধ্যে ১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনও সংবিধান স্বীকৃত সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়নি। বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এটি নিশ্চিতভাবেই প্রমাণিত হয়েছে যে, বাংলাদেশের মতো একটি রাজনৈতিক সংঘাতময় দেশে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
বিজ্ঞ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধান থেকে বাদ দেওয়ার রায় বাতিল করে দিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে পারে। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গণভোটের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ভবিষ্যতে যাতে কোনো স্বৈরাচারী সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হতে না পারে অথবা ক্ষমতাসীন হয়ে স্বৈরাচারী সরকারে পরিণত হতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।
একইসঙ্গে বিদ্যমান রাজনৈতিক কালচারকে পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি সত্যিকার উদার ও কল্যাণময় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করা। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো সংসদ নির্বাচনে জনসমর্থন অর্জনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালালেও গণভোটের বিষয়ে তারা অনেকটাই নিশ্চুপ। অথচ জাতির বৃহত্তম স্বার্থেই রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত জুলাই সনদের প্রতি জনসমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে প্রচারণা চালানো।
গণভোটে যদি জুলাই সনদের প্রতি জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন আদায় করা না যায়, তাহলে আগামীতে আবারও কোনো না কোনো প্রক্রিয়ায় আমাদের ওপর স্বৈরশাসন চেপে বসতে পারে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক কালচার যুগোপযোগী নয়। তাই রাজনীতির প্রচলিত ধারার পরিবর্তন একান্ত প্রয়োজন। জনগণ যদি জুলাই সনদের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে এবং রাজনৈতিক দলগুলো পরবর্তীকালে জুলাই সনদ মেনে চলে, তাহলে দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন সাধিত হবে, এটি নিশ্চিত করে বলা যায়।
সাধারণ ভোটারদের মাঝে গণভোট নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট) তাদের এক জরিপে উল্লেখ করেছে, দেশের ভোটারদের মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশ জুলাই সনদ ও গণভোট সম্পর্কে ধারণা রাখে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে গণভোট নিয়ে খুব একটা উচ্ছ্বাসও লক্ষ করা যাচ্ছে না। তারা বরং সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। কোনো কারণে গণভোটে ‘না’ বিজয়ী হলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার আলোকে দেশের রাজনীতিকে ঢেলে সাজানোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে।
তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের স্বার্থেই গণভোটে জুলাই সনদের পক্ষে জনসমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে আরও তৎপর হতে হবে। এর আগে দেশে বেশ কয়েকবার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হলেও রাজনৈতিক কালচারের কোনো গুণগত পরিবর্তন হয়নি। নতুন সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে পুরোনো ধারায় দেশ চালানোর চেষ্টা করেছে। ফলে আন্দোলনের মাধ্যমে সৃষ্ট গণ-আকাঙ্ক্ষা বারবারই পদদলিত হয়েছে। এবার মানুষ আর হতাশ হতে চায় না। তারা যে কোনো মূল্যে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন কামনা করছে।
বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র প্রিয়। তারা শান্তিপ্রিয় এবং প্রচণ্ডরকম আত্মসম্মান বোধসম্পন্ন। ১৯৭১ সালে এক নদী রক্তের বিনিময়ে দেশের মানুষ স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল। স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রপরিচালনায় জনগণের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের চাওয়া-পাওয়াকে কোনো মূল্য দেয়নি।
বাকস্বাধীনতা, রাজনীতি করার স্বাধীনতা এবং অধিকার খর্ব করা হয়েছিল। এক পর্যায়ে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল গঠনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের ‘কবর’ রচনা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘বাকশাল’ বাতিল করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রচলন করেন। পৃথিবীর ইতিহাসে সম্ভবত জিয়াউর রহমানই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সেনাশাসক হয়েও দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রচলন করেছিলেন। জিয়াউর রহমানের শাহাদতবরণের পর নানা কৌশলে সেনাপ্রধান এরশাদ রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সরিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন।
১৯৯০ সালে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এরশাদ সরকারের পতন হলে আন্দোলনকারী রাজনৈতিক দলগুলো তিনদলীয় জোটের রূপরেখা অনুযায়ী রাষ্ট্রক্ষমতায় স্বৈরাচারের আগমনের পথ রোধ করার জন্য ঐকমত্যে উপনীত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে রাজনৈতিক দলগুলোর অপরিণামদর্শিতার কারণে কীভাবে স্বৈরাচারীর ভিত পাকাপোক্ত হয়, তা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে। জাতি আর কোনো স্বৈরাচারী শাসককে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দেখতে চায় না।
জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গণভোট। গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হয়, অর্থাৎ জনগণ যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে আগামীতে যারাই রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন, তারা জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারে বাধ্য থাকবেন। গণভোটে যদি ‘না’ বিজয়ী হয়, তাহলে জুলাই সনদ বাতিল হয়ে যাবে। বিদূরিত হবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত চেতনা। গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়, তাহলে রাজনীতিতে যেসব পরিবর্তন সাধিত হতে পারে তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, নবনির্বাচিত সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আইনগতভাবে বাধ্য থাকবে।
গণভোটে জুলাই সনদ অনুমোদিত হলে কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদ অর্থাৎ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এতে অনৈতিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল ও টিকে থাকার প্রবণতা দূর হবে। প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা সংকুচিত হবে। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়বে। ফলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে কিছুটা হলেও ভারসাম্য সৃষ্টি হবে। সংবিধানে জুলাই সনদ অন্তর্ভুক্ত হবে। স্পিকার সরকারি দল থেকে নির্বাচিত হলেও ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন।
সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। নির্বাচনে বিজয়ীরা একইসঙ্গে সংসদ-সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। জাতীয় সংসদে নির্বাচিত ১০০ জন সদস্য নিয়ে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদে নিয়োগদানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমা করার ক্ষমতা সীমিত করা হবে। বিগত সরকার আমলে রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার ক্ষমতা কীভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে, তা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি।
জুলাই সনদ গণভোটে গৃহীত হলে যারা সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হবেন, তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের সুযোগ পাবেন। আগামীতে যারা সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হবেন, তারা কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করতে পারেন। যেমন, যারা ঋণখেলাপি তাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। বর্তমানে প্রচলিত আইনে একজন ঋণখেলাপি যদি তার ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলিকরণ করেন, তাহলে তাকে ঋণখেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করা যায় না।
এ আইনের সুযোগ নিয়ে ঋণখেলাপিদের অনেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঋণখেলাপিরা যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্য এমন একটি বিধান জারি করা যেতে পারে; যারা নির্বাচনে অংশ নেবেন, কোনো ধরনের কনসেশন না নিয়েই তাদের ঋণ হিসাব অন্তত এক বছর আগে থেকেই নিয়মিত থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান, তাহলে তাকে পেনশন বেনিফিট রাষ্ট্রের অনুকূলে সারেন্ডার করতে হবে। রাষ্ট্রীয় সুবিধাভোগকারী ব্যক্তিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া যাবে না।
বর্তমানে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিনটি নির্বাচনি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার ভোটার হতে হবে। কেউ যদি তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন, তাহলেও তিনি একইসঙ্গে তিনটি আসন ধরে রাখতে পারেন না। তাকে যে কোনো দুটি আসন ছেড়ে দিতে হয়। পরবর্তীকালে ছেড়ে দেওয়া দুটি আসনে উপনির্বাচন করতে হয়। এজন্য রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। কারও ব্যক্তিগত ইচ্ছাপূরণের জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থের এ অপচয় বন্ধ করতে হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রসংস্কারের সুযোগ সৃষ্টি হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে সংস্কার কার্যক্রম সম্পাদনে সুবিধা হবে। কাজেই জনগণকে ভেবেচিন্তে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। অতএব গণভোটে সমর্থন জ্ঞাপনের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে।
ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী : সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত
