হালফিল বয়ান
ইরানে উচ্চঝুঁকির ভূ-রাজনৈতিক বাজি
Advertisement
ড. মাহফুজ পারভেজ
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা চলছে। ইরানও প্রতিরোধ চালাচ্ছে বীরদর্পে। পালটাপালটি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আকাশপথে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি তেল ও এলএনজির আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্রুত বাড়ছে। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা অস্থিতিশীল হয়ে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতি আরও গভীর হবে এবং তা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়বে। বিশ্বকে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা ও কৌশল খুঁজতে হবে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সর্বশেষ যৌথ সামরিক হামলা গত আট মাসে দ্বিতীয় সমন্বিত আঘাত; যার ঘোষিত লক্ষ্য হলো, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং তেহরানের নেতৃত্বের ওপর সর্বাত্মক চাপ সৃষ্টি করা। তবে এ বক্তব্যের আড়ালে আরও একটি গভীর ও ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষ্য স্পষ্ট-ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনকে উসকে দেওয়া। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক পরিসরে সরকার পরিবর্তনের জন্য সহিংস ও আগ্রাসী হস্তক্ষেপের একটি নিকৃষ্ট নজির হিসাবেও বিবেচিত হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন হামলাগুলোকে পূর্ববর্তী উদ্যোগের ধারাবাহিকতা হিসাবে উপস্থাপন করেছেন-ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নস্যাৎ করাই যার মূল লক্ষ্য। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক আট মিনিটের বক্তব্যে তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে ইরানিদের নিজেদের সরকারের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়ানোর প্রকাশ্য আহ্বান জানান। এটি বহু বছরের কৌশলগত অস্পষ্টতা থেকে এক সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত দেয়। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানে শাসন পরিবর্তনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছেন। তার মতে, ইরানের ধর্মতান্ত্রিক শাসনই আঞ্চলিক অস্থিরতার মূল উৎস। ট্রাম্প প্রশাসন এখন সেই লক্ষ্যেই কার্যত একমত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
তবে ইতিহাস আমাদের সতর্ক করে দেয়-বাইরের চাপ দিয়ে ভেতরে ক্ষমতার পালাবদল ঘটানো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উলটো ফল বয়ে আনে। বিদেশি শক্তির শাসন পরিবর্তনের আহ্বান সহজেই কাজ করবে না ইরানে। কারণ, ইরানি রাষ্ট্রব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল ও স্থিতিস্থাপক, যা এখনো কার্যকরভাবে টিকে আছে এবং এর পেছনে রয়েছে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), বাসিজ মিলিশিয়া এবং বিস্তৃত গোয়েন্দা কাঠামো কেবল নিরাপত্তা বাহিনী নয়; এদের প্রত্যেকেরই বর্তমান রাষ্ট্রকাঠামোর সঙ্গে গভীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত। কিছু বিশ্লেষকের মতে, প্রায় ৩০ শতাংশ ইরানি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ শিল্পখাতে যুক্ত। বাস্তবে অন্তত একই অনুপাতে মানুষ জীবিকার জন্য শাসনব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।
এখানে ইরানি জাতীয়তাবাদের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এটি শক্তিশালী। অনেক ইরানি শাসনব্যবস্থার বিরোধী হলেও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের নির্দেশে শাসন পরিবর্তন তারা গ্রহণ করতে না-ও পারেন। ট্রাম্পের ক্ষমতা বদলের প্রকাশ্য আহ্বান; তাই সহজেই হস্তক্ষেপ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে এবং এতে ইরানি জাতীয়তাবাদ, যার মধ্যে রয়েছে পারশিয়ান আর্য, ঐতিহ্য ও ইসলাম ধর্মের ইমামপন্থি শিয়া মতবাদের ঐক্য, তীব্রভাবে পশ্চিমা আগ্রাসন ও আক্রমণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। ইরানি প্রতিআক্রমণে সেই সাহস, ঐক্য ও শক্তি স্পষ্টভাবেই পরিলক্ষিত হচ্ছে।
ফলে পশ্চিমা কৌশল হিসাবে ইরানের শাসন পরিবর্তন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কেবল বিমান হামলার মাধ্যমে কোনো শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করা সম্ভব নয়। শাসক দলের ওপর চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি হামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্য হলো, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে ‘অনেক নিচে নামিয়ে আনা’ হবে-যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আঘাত হানতে সক্ষম, এমনকি দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রও এর অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে, ইরান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে-তাদের ওপর আক্রমণ চলমান থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও মিত্রদের ওপর ‘চূর্ণবিচূর্ণ’ প্রতিশোধ নেওয়া হবে। অতীতে ইরানের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে পরিমিত হলেও একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। ফলে যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হয়ে দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। বরং ইরান আমেরিকার মনোবল ক্ষয় করতে দীর্ঘ যুদ্ধকে স্বাগত জানিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হতাহতের চাপ ও অর্থনৈতিক ব্যয় বহনকে ক্রমেই কঠিন করে তুলবে। সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপেও থাকবে। দীর্ঘ যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য উলটো ফল ডেকে আনতে পারে।
যদিও ট্রাম্প ভেনিজুয়েলার মতো অর্ধেক পদক্ষেপ নিয়ে নিজেকে দুর্বল দেখাতে চান না, আবার আফগানিস্তান বা লিবিয়ার মতো দীর্ঘস্থায়ী জটিলতাতেও জড়াতে অনিচ্ছুক। লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে উৎখাতের পর দেশটি যেভাবে চরম বিশৃঙ্খলায় ডুবে গিয়েছিল, তা এখনো ওয়াশিংটনের জন্য একটি সতর্কবার্তা। ইরানকে কেউই ‘আরেকটি বিশাল লিবিয়া’তে পরিণত হতে দেখতে চায় না-বিশেষ করে যখন ইরানের জনসংখ্যা লিবিয়ার প্রায় দশগুণ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা কোনো প্রতীকী সামরিক অভিযান নয়; এটি একটি উচ্চঝুঁকির ভূ-রাজনৈতিক বাজি। ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দুর্বল করা এক কথা, কিন্তু শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অনেক বেশি বিপজ্জনক লক্ষ্য। এ পথ ধরে এগোলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট এবং গভীর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখোমুখি হতে পারে। কেউই নিশ্চিত নয়-ইরানের সরকার টিকে থাকবে কিনা, নাকি সংঘাত আরও বিস্তৃত হবে। বর্তমান পরিস্থিতি হয়তো ইতিহাসে একটি সীমিত সংঘর্ষ হিসাবেই থাকবে, আবার এটি ২০২০-এর দশকের সবচেয়ে বড় মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সূচনাও হয়ে উঠতে পারে-যার অভিঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হয়তো নিহত হলেও তার জায়গায় আরেকজন আসবেন। নিহত সামরিক কমান্ডারদেরও নতুন করে প্রতিস্থাপন করা হবে। মতাদর্শিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি শাসনব্যবস্থা শুধু বিমান হামলার কারণে সহজে ভেঙে পড়বে না। ইরানের আমেরিকা ও ইসরাইলের বিমান হামলার জবাব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে এবং এ যুদ্ধ কোন দিকে গড়াবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বরং মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা উপেক্ষা করে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলায় যুক্ত হওয়ার পরক্ষণেই ইরান পালটা আঘাত হেনেছে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর ওপর। শীর্ষ নেতৃত্ব ও স্থাপনা ধ্বংসের এক নিমেষের মধ্যে ইরানের রুখে দাঁড়ানোর ঘটনা অভাবনীয়। কাবু হওয়ার বদলে প্রতিরোধ ও প্রতিশোধে ইরান যে বিক্রম প্রদর্শন করছে, তা এ সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে পারে। এমনকি, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত থেকে আরও বড় যুদ্ধের পটভূমি তৈরি হওয়াও অসম্ভব নয়।
ইরানে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের একটি দ্রুত ও তুলনামূলক ‘সহজ’ বিজয়ের সম্ভাবনা নাকচ করা যায়। বাস্তবে তেহরানের সরকার টিকে আছে এবং হামলার বীরোচিত জবাব দিচ্ছে। রাশিয়া, চীনের নৈতিক সমর্থন এখনো ইরানের বর্তমান সরকারের পক্ষে। মেরুকরণ অসম হলেও ইরান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে মার্কিন-ইসরাইল গোষ্ঠীর একটি স্পষ্ট বিভাজন রেখা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক স্তর পেরিয়ে উভয় পক্ষ সমরক্ষেত্রেও সক্রিয় হলে পরিস্থিতি সত্যিই ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, যা ওয়াশিংটনের কল্পনার বাইরে চলে যেতে পারে। মার্কিনিদের যে অভিজ্ঞতা ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া বা আফগানিস্তানে হয়েছে, ইরানের অভিজ্ঞতা তার চেয়ে আলাদা ও ভয়ংকর হবে। বরং ভিয়েতনামে যে অপমান পেয়েছিল আমেরিকা, বহু বছর পর ইরানে আক্রমণ করে সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা স্মৃতি আকারে ফিরে আসতে পারে।
খোদ আমেরিকানরা দেখতে পেয়েছেন, ট্রাম্প বিশেষজ্ঞদের বদলে নিজের প্রবৃত্তির ওপর বেশি নির্ভর করেন-যেমন তিনি ভেনিজুয়েলায় দ্রুত ‘সাফল্য’ দেখেছিলেন বলে মনে করেন। কিন্তু ইতিহাস দেখায়, পরিকল্পনাহীন সামরিক হস্তক্ষেপ ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে। উদাহরণ হিসাবে জর্জ ডব্লিউ বুশের ইরাক যুদ্ধের কথা তুলে ধরা যায়, যেখানে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনার অভাবে দীর্ঘমেয়াদি সহিংসতা, বিপুল প্রাণহানি ও ট্রিলিয়ন ডলারের ব্যয় হয়েছে। আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও আমেরিকার কঠিন শিক্ষা পাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে ভয় দেখানো বা আক্রমণই শেষ কথা নয়, প্রতিপক্ষের মনোবল ও শক্তি সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা থাকতে হয়। দূরদৃষ্টি দিয়ে দেখতে হয় আক্রমণের প্রভাব, প্রতিক্রিয়া ও ফলাফল। ইরানের ক্ষেত্রে একরোখা ট্রাম্প বিশেষজ্ঞদের এড়িয়ে তেমনটিই করেছেন, যা হয়তো তার জন্য ‘ঐতিহাসিক ভুল পদক্ষেপ‘ এবং ‘শোচনীয় পরাজয়’ রূপে ললাট-লিখন হয়ে যেতে পারে।
ঐতিহাসিক প্রজ্ঞার অধিকারী যে কেউ স্বীকার করবেন, ইরানকে ‘বশ মানানো’ ইরাকের চেয়েও অনেক কঠিন-ইরানের জনসংখ্যা দ্বিগুণের কাছাকাছি, সামরিক সক্ষমতা শক্তিশালী এবং হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতিদের মতো মিত্র নেটওয়ার্ক রয়েছে। ইসরাইলের ২০০৬ সালের লেবানন অভিযানে হিজবুল্লাহর উন্নত সক্ষমতা এ বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। উপরন্তু, ‘রেজিম চেঞ্জ’ করে নেতৃত্ব অপসারণ করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে-ইসলামি আবরণ ছাড়াই কঠোর বিপ্লবী গার্ড ক্ষমতা দখল করতে পারে কিংবা দেশ গৃহযুদ্ধে ভেঙে পড়ে শরণার্থীর ঢল ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে ধস নামাতে পারে। কিংবা লড়াকু ইরানি জাতি যুদ্ধ বেশে চারপাশে সর্বাত্মক অভিযানে লিপ্ত হয়ে এক অচিন্তনীয় পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটাতে পারে। যার কোনোটিই আমেরিকার কিংবা আর আরব ও ইহুদি মিত্রদের জন্য মোটেও সুখকর হবে না।
ইরানের ক্ষেত্রে বর্তমান মার্কিন নেতৃত্বে অভিজ্ঞতার ঘাটতি স্পষ্ট। মার্কিনিদের তরফে ইরান আক্রমণকে বলা যায় ভুল নীতিনির্ধারণ, যা ‘অন্ধভাবে উড়া’র মতো। মার্কিনিদের মধ্যপ্রাচ্যের অভিজ্ঞতা শিক্ষা দেয়-বোমাবর্ষণ সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়, বরং তা অস্থিতিশীলতা অন্যত্র ছড়িয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত, ট্রাম্প যদি সংঘাত থেকে সরে আসার পথ না খুঁজে নেন, তবে ক্ষতি শুধু তার নয়-পুরো বিশ্বকেই তার মূল্য দিতে হবে। ট্রাম্পের কারণে এমন অহেতুক ক্ষতি তার মিত্ররাও হয়তো শেষ পর্যন্ত মেনে নেবে না। অন্যদিকে, বিশ্ববাসী তো ঘৃণা জানাতেই থাকবে আমেরিকা-ইসরাইলি আক্রমণ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। যে যুদ্ধে সামরিক জয়ের আগেই নৈতিক পরাজয় হয়, সেখানে বিজয় অসম্ভব ও অকল্পনীয়। ইরানে মার্কিন-ইহুদি জোট তেমনি এক অসম্ভব ও অকল্পনীয় বিজয়ের দিবাস্বপ্নে যুদ্ধ শুরু করেছে, যা আসলে পরাজয়েরই নামান্তর।
প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ : চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; নির্বাহী পরিচালক, চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)
