Logo
Logo
×
   

উপসম্পাদকীয়

দৃষ্টিপাত

জাগতিক কৃচ্ছ্রসাধন সময়ের দাবি

Icon

ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জাগতিক কৃচ্ছ্রসাধন সময়ের দাবি

বিশ্বব্যাপী ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ। ইরাক যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এটাই সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান। ৮ মাস আগে ইরান-ইসরাইল ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান আবারও ইসরাইল ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ আক্রমণের শিকার হলো। আগেরবার ইরান ও ইসরাইল সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে সমর্থন ও সামরিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে প্রক্সিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। ইরান আক্রমণের শিকার হয়ে পালটা ব্যবস্থা হিসাবে সরাসরি ইসরাইলের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করে। ইসরাইল সেসময় ভাবতেই পারেনি সে বাইরের কোনো রাষ্ট্র কর্তৃক সরাসরি আক্রমণের শিকার হতে পারে। একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেছেন, একটি যৌথ সামরিক অভিযানের অংশ হিসাবে ইরানে আক্রমণ চালানো হয়েছে। তাদের কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে, যা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলতে থাকবে। তাদের লক্ষ্যগুলো কী তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। সাধারণভাবে মনে করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হলো ইসরাইলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে দূরে সরিয়ে রাখা। ইরান সবসময়ই বলে আসছে, তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময় প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করা সত্ত্বেও ইরান তার এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসতে সম্মত হয়নি।

সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এমন এক সময় ইরানে বিমান হামলা চালায়, যখন জেনেভা ও ওমানে ইরান ও পশ্চিমাদের মধ্যে আলোচনা চলছিল। ইরান প্রস্তাব দিয়েছিল, তাদের সব উচ্চমাত্রা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে কমিয়ে আনবে, যাতে তা আর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য হবে না। তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করেন, ইরানে ইসরাইল-মার্কিন হামলার পেছনে অন্য উদ্দেশ্য আছে। তারা চেয়েছিল, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করে রাষ্ট্রক্ষমতায় পরিবর্তন আনতে। এমন কাউকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসাতে, যিনি ইসরাইলের স্বার্থ সংরক্ষণ করবেন।

ইসরাইলের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিধান করাই যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে হামলা চালিয়েছিল এ অভিযোগে যে, ইরাক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে। পরবর্তীকালে দেখা গেল যুক্তরাষ্ট্রের ওই অভিযোগ ছিল সর্বতোভাবে মিথ্যা। যুক্তরাষ্ট্র যেনতেনভাবে ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে বদ্ধপরিকর। অচিরেই মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী ইরানে স্থল অভিযান শুরু করবে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র চাইছে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তা স্থায়ী করতে।

এ যুদ্ধের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, যুদ্ধ শুধু ইরান ও ইসরাইলের ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্রকে যেসব মুসলিম দেশ সমর্থন করছে এবং মার্কিন ঘাঁটি তৈরির সুযোগ করে দিয়েছে, সেসব দেশেও ইরান মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৩টি দেশে যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের প্রথম ৭ দিনে আক্রান্ত দেশগুলোতে বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সামরিক স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। বিভিন্ন পর্যায়ে রাশিয়া, চীনসহ মার্কিনবিরোধী দেশগুলো পরোক্ষভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। সেই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এমনকি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই এখনই এ যুদ্ধ বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে। জাতিসংঘ এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। কোনো দেশের সরকার পরিবর্তিত হবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও এখতিয়ার একান্তভাবেই সেদেশের জনগণের। দেশের জনগণ যদি সরকারের প্রতি নাখোশ হয়, তাহলে তারা সরকার পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করতে পারে। কিন্তু কোনোভাবেই বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ কাম্য হতে পারে না। বাইরের কোনো শক্তির অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা আন্তর্জাতিক রীতি-নীতির পরিপন্থি’।

ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়ে মোটেও ভালো কাজ করেনি। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাদের এ সামরিক পদক্ষেপ সারা বিশ্বকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। করোনা-উত্তর বিশ্ব অর্থনীতির উত্তরণ পর্বে শুরু হওয়া ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও বিশ্ব এক নতুন সংকটে পতিত হয়েছে। ইসরাইল ও মার্কিন নৌ ও বিমান বাহিনী ইরানে হামলা চালানোর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পতিত হয়েছে। নিশ্চয়ই মনে থাকার কথা, রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ করার ফলে বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেইন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। রাশিয়া জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ অথবা কমিয়ে দিয়েছিল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছিল। একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১৩৫ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছিল। এর আগে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ৬০ ডলারে বিক্রি হচ্ছিল। ইরান আক্রান্ত হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ৬৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছিল। কয়েকদিনের মধ্যেই তা ৮০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলবাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইরান মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইব্রাহিম জাবারি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোনো জাহাজ এ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। মার্কিন বাহিনী ইরানে হামলা চালানোর কারণে হরমুজ প্রণালির দুপাশে ৭ শতাধিক অয়েল ট্যাঙ্কার আটকা পড়ে আছে। এতে নাবিকসহ মোট ২০ হাজার জন আটকে আছে। হরমুজ প্রণালি হচ্ছে পারস্য উপসাগরের একটি সরু প্রবেশপথ, যার দৈর্ঘ্য ১৬৭ কিলোমিটার। এর মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। ইরান এ প্রণালির উত্তর দিকে অবস্থিত। কৌশলগত কারণে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে থাকে। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এ পথ দিয়েই তাদের জ্বালানি তেল বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে থাকে। একটি সূত্রমতে, চলমান ইরান সংকট যদি একমাস স্থায়ী হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ট্রিপল ডিজিটে উন্নীত হতে পারে। আর যুদ্ধ যদি ৬ মাস স্থায়ী হয়, তাহলে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৪০ মার্কিন ডলারে পৌঁছে যেতে পারে।

বাংলাদেশ জ্বালানি সংকটে থাকা একটি দেশ। আমাদের নিজস্ব জ্বালানিসম্পদ বলতে একমাত্র প্রাকৃতিক গ্যাসকেই বোঝায়। কিন্তু সেখানেও স্বল্পতা-সংকট রয়েছে। প্রতিদিন ৪০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে মাত্র ২৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। বাংলাদেশ প্রতিবছর ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে থাকে। বর্তমানে দেশে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও এলএনজির যে মজুত আছে, তা দিয়ে কয়েক সপ্তাহের চাহিদা মেটানো সম্ভব হতে পারে। এরপরই শুরু হবে সংকট। সম্ভাব্য পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে সরকার সবাইকে জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এ মুহূতে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের জ্বালানি তেল ও অন্যান্য জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী হতে হবে। পাশাপাশি বিকল্প সূত্র থেকে জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। চীন এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র দেশ কর্তৃক ইরানের জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর চীন তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করে তাদের রিজার্ভ পূর্ণ করেছে। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে চীনের চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তাই উদ্যোগ নিলে চীন থেকে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি তেল আমদানির মাধ্যমে সংকট নিরসনের চেষ্টা চালানো যেতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জনশক্তি রপ্তানি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রেরিত রেমিট্যান্স আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার দ্বিতীয় উৎস। বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি আমদানির ক্ষেত্রে সবার শীর্ষে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি মুসলিম দেশ। ইরান সংকটের কারণে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাত মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে চলেছে। ৭০ লাখ বাংলাদেশির কর্মসংস্থান অনিশ্চত হয়ে পড়েছে। গত অর্থবছরে (২০২৪-২০২৫) বাংলাদেশ মোট ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স অর্জন করেছে, যা এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আয়। চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩৬ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ইরান সংকটের কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যেতে পারে।

পণ্য রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি গত ছয় মাস ধরেই নিম্নমুখী রয়েছে। ইরান সংকটের কারণে আমাদের রপ্তানি আয় ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে একক দেশ হিসাবে বাংলাদেশি পণ্যের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। যুদ্ধের কারণে নিশ্চিতভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি কমে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি কমে যাবে। এখনো পণ্য রপ্তানি খাত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে শীর্ষে অবস্থান করছে। কিন্তু এক অর্থে জনশক্তি রপ্তানি খাত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। কারণ পণ্য রপ্তানি খাতে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, তার অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য এবং ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানিতে আবার বিদেশে চলে যায়। ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতের মূল্য সংযোজনের হার তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু জনশক্তি রপ্তানি খাতে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, তার প্রায় পুরোটাই জাতীয় অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজন করে। কারণ এ খাতের জন্য কোনো কাঁচামাল আমদানি করতে হয় না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশির কর্মসংস্থান হয়েছে। তারা যদি দেশে প্রত্যাবর্তন করে, তাহলে অর্থনীতির ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়বে।

বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে সংকট চলছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের জ্বালানি তেল আমদানি এবং পণ্য ও জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে বিকল্প চিন্তাভাবনা করতে হবে। পণ্য ও জনশক্তি রপ্তানির জন্য নতুন নতুন গন্তব্য খুঁজে বের করতে হবে।

যুদ্ধের কারণে সমগ্র পৃথিবীর মানুষ এক গভীর সংকটে নিপতিত হয়েছে। বাংলাদেশে এ সংকট আরও তীব্র হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এ সংকট সাহস ও ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সরকারকে যেমন উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে, তেমনি জনগণকেও এ ব্যাপারে ত্যাগ স্বীকারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সরকারকে জ্বালানি সংকট এবং জনশক্তি ও পণ্য রপ্তানি খাতে বিকল্প পন্থা খুঁজে বের করতে হবে। আমাদের জনগণকে এ ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। যেমন, শহরে-বন্দরে-গ্রামে সর্বত্রই আমাদের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হতে হবে। সংকটকালে যুগে যুগে পৃথিবীতে মানবজাতির কৃচ্ছ্রসাধনের বহু দৃষ্টান্ত ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে। অতএব, এ সংকটকালে আমাদেরও কৃচ্ছ্রসাধনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা বীরের জাতি। আমরা কোনো কিছুকে ভয় পাই না। একজন আশাবাদী মানুষ হিসাবে বিশ্বাস করি, আমরাসহ বিশ্ববাসী এ সংকট উত্তরণে সক্ষম হবে।

প্রফেসর ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী : সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম