ইরানে আগ্রাসন গ্রেটার ইসরাইল প্রতিষ্ঠার অংশ
Advertisement
মোবায়েদুর রহমান
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের ২৮ দিন অতিক্রান্ত হলো। ইরান আমেরিকার তুলনায় অতি দুর্বল একটি দেশ। ইরান বা তার মতো দুর্বল দেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র আমেরিকাকে আক্রমণের কথা কল্পনাতেও ভাবতে পারে না।
সেই ইরানকে আমেরিকা এবং ইসরাইল সমানে প্রায় এক মাস ধরে হামলা করেই যাচ্ছে। এ ২৮ দিনে আমেরিকা ও ইসরাইল ইরানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। তাদের সুপ্রিম লিডার আলী খামেনি থেকে শুরু করে সব শেষে নিরাপত্তা প্রধান লারিজানিসহ অনেক শীর্ষ সামরিক-বেসামরিক রাষ্ট্রনায়ককে হত্যা করেছে। আমেরিকার এ তাণ্ডব দেখে বিশ্বের বলতে গেলে প্রায় সব দেশ প্রায় হতভম্ব হয়ে নিজেরাই নিজেদের প্রশ্ন করছেন, কেন ইরানকে আমেরিকা ফিনিশ করে দিতে চায়? আমি এখানে ইসরাইলের প্রসঙ্গ আনলাম না। কারণ, ছাগল নাচে খুঁটির জোরে। যদি আমেরিকা এ যুদ্ধে না নামত, তাহলে ইসরাইল এতদিন তুলাধুনা হয়ে যেত। সেজন্যই প্রশ্ন : কেন আমেরিকা বিনা কারণে, বিনা প্ররোচনায়, বিনা উসকানিতে ইরানকে শেষ করতে চাচ্ছে? বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ বিষয়টি নিয়ে আমি ব্যাপক গবেষণা ও পড়াশোনা করেছি। করতে গিয়ে দেখি, আমার এ প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন স্বয়ং আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মিস্টার পিট হেগসেথ নিজেই একটি বই লিখেছেন। নাম ‘আমেরিকান ক্রুসেড’। ওই বইয়ে তিনি লিখেছেন, আমেরিকা বর্তমানে একটি ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মার্কিন টেলিভিশন ‘সিবিএস’। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের যে সংকল্প রয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ করা ইরানের উচিত হবে না। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে রয়েছে উচ্চপর্যায়ের শক্তি। ‘সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা’ মার্কিন সেনাদের রক্ষা করছেন। এ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি মনে করেন, ইরান বিশ্বে মহাপ্রলয় ঘটাতে চায়। এজন্য তারা পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে চায়। এ কারণে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে মার্কিন সেনাদের একটি গভীর সংযোগ থাকা প্রয়োজন। সম্প্রতি একটি ব্রেকফাস্ট অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমেরিকা একটি খ্রিষ্টান দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আমাদের ডিএনএতে এটি এখনো খ্রিষ্টান দেশ হিসাবে রয়ে গেছে।’
হেগসেথের বুকে একটি ট্যাটু বা উল্কি রয়েছে। সেটি জেরুজালেমের একটি ক্রস। ধর্মীয় এ প্রতীকটির ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। ক্রুসেডের সময় মুসলমানদের কাছ থেকে পবিত্র ভূমি পুনরায় দখলের চেষ্টা করেছিল ইউরোপের খ্রিষ্টানরা। আমেরিকান ক্রুসেড বইতে পিট হেগসেথ লিখেছেন, ‘আমরা লড়াই করতে চাই না। কিন্তু ১ হাজার বছর আগে আমাদের খ্রিষ্টান ভাইদের মতো, আমাদেরও লড়াই করা বাধ্যতামূলক।’ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর শরীরে আরেকটি ট্যাটু রয়েছে। সেটিতে লেখা রয়েছে, ‘দেউস ভুল্ট’। অর্থ, ঈশ্বর এটি চান। ‘আমেরিকান ক্রুসেড’ বইয়ে তিনি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে একটি ‘ক্রুসেডের মুহূর্তে’ রয়েছে। কথাটি এগারো শতকের পবিত্র ভূমিতে খ্রিষ্টানদের অভিযানের সময়ের মতো শোনায়। বইয়ে হেগসেথ লেখেন, ‘‘যতক্ষণ পর্যন্ত মার্কিনরা এ ভ্রান্ত ধারণায় থাকবে যে, ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম, বিশেষ করে যখন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার গঠন পরিবর্তন হচ্ছে, আমাদের কাজ ততই কঠিন হয়ে যাবে। ইসলাম তার ভাষায় শত্রুদের সঙ্গে, অর্থাৎ সব ‘অবিশ্বাসীর’ সঙ্গে প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুদ্ধ করে চলেছে। এটি কখনো বন্ধ হবে না।”
আমেরিকার সেনা সদস্যদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে অলাভজনক সংগঠন মিলিটারি রিলিজিয়াস ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (এমআরএফএফ)। এ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মিকি ওয়েইনস্টেইন। ওয়েইনস্টেইন বলেন, ‘এগারো থেকে তেরো শতক পর্যন্ত আটটি ক্রুসেড হয়েছিল। আমরা ঠিক এর নবম সংস্করণ দেখছি। আরব উপদ্বীপে বোকো হারাম, ইসলামিক স্টেট, তালেবান, আলকায়দা, তারা শিয়া বা সুন্নি, যাই হোক না কেন, সবাই এটাকে এমনভাবেই দেখবে যে, আমরা বিশাল মুসলিম জাতির ওপর হামলা করছি।’
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জায়নবাদে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। জায়নবাদ হলো এমন একটি মতবাদ, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদিদের নিজেদের একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও তা রক্ষা করার অধিকার রয়েছে। আর খ্রিষ্টান জায়নবাদ মতবাদ অনুযায়ী, পবিত্র ভূমিতে ইহুদিদের ফিরে যাওয়ার অধিকার বাইবেলের বুক অব জেনেসিসে নিশ্চিত করা হয়েছে।
২.
আমেরিকান ক্রুসেড গ্রন্থে পিট হেগসেথ লিখেছেন, ‘খ্রিষ্টানদের তথাকথিত সহনশীলতা ইসলামপন্থিদের কাছে আত্মসমর্পণের মতো শোনায়। যিশুখ্রিষ্ট অন্যের আঘাত সহ্য করতে বলেছিলেন ঠিকই : তবে আমি নিশ্চিত, তিনি সেই সময় কোনো প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে এ পরামর্শ দিচ্ছিলেন না।’ ইন্টারনেটে মার্কিন এ আগ্রাসনের অন্তর্নিহিত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য বাংলাদেশেরও দু-একজন কলামিস্ট এবং গবেষক বেশকিছু ঘাঁটাঘাঁটি করেছেন। তাদের ফাইন্ডিংস হলো, যেভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এ আগ্রাসন হ্যান্ডেল করছেন, তাতে মনে হচ্ছে, তারা সমগ্র বিষয়টি বাইবেলে বিধৃত ভবিষ্যদ্বাণীর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ৫ মার্চ যুদ্ধ শুরুর ষষ্ঠ দিবসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে একদল ধর্মযাজককে জড়ো করেছিলেন। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওইসব ধর্মযাজকের মধ্যে একজন বিড়বিড় করে প্রার্থনার ভঙ্গিতে কিছু বলছেন। আর অবশিষ্ট ধর্মযাজকরা তার প্রার্থনার কথাগুলোই সমস্বরে প্রতিধ্বনি করছেন। এসব ধর্মযাজকের মধ্যে কয়েকজন প্যাস্টর পদমর্যাদাধারী। অবশিষ্ট সবাই ইভানজেলিক্যাল ধর্মগুরু। যুদ্ধে জয়লাভের জন্য আমেরিকার কোনো প্রেসিডেন্টকে কোনোদিন হোয়াইট হাউজে ধর্মগুরুদের জড়ো করে সম্মিলিত প্রার্থনার আয়োজন করেননি। কিন্তু ট্রাম্প এবার সেটিও করলেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, প্যাস্টর টম মিউলিন্স ‘যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য’ মাখানো গলায় ঈশ্বরকে উদ্দেশ করে বলতে থাকেন, ‘আমরা প্রার্থনা করি, আপনার আশীর্বাদ ও কৃপা তার (ট্রাম্পের) ওপর বর্ষিত হোক। আমরা প্রার্থনা করি, স্বর্গীয় জ্ঞান তার হৃদয় ও মনকে দিকনির্দেশনা দিক, যেন আপনি এ চ্যালেঞ্জিং সময়ে তার পথপ্রদর্শক হন। প্রার্থনা করি, আপনার অনুগ্রহ ও সুরক্ষা তার ওপর বর্ষিত হোক এবং আমাদের সৈন্যদের ওপরও বর্ষিত হোক। পিতা, আমরা প্রার্থনা করি, আপনি আমাদের প্রেসিডেন্টকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি দিন। আমরা প্রার্থনা করি, যিশুর নামে আপনার স্বর্গীয় আশীর্বাদ তার ওপর বর্ষিত হোক।’
৮ মার্চ পিট হেগসেথ ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমেরিকার সংকল্প নিয়ে ইরানের সন্দেহ থাকা ঠিক হবে না। কারণ, আমেরিকার পেছনে মহাশক্তির সমর্থন আছে। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বা প্রভিডেন্স আমাদের সৈন্যদের রক্ষা করছে।’ সিবিএসের সাংবাদিক মেজর গ্যারেট তখন হেগসেথের কাছে জানতে চান, তিনি কি এ যুদ্ধকে ধর্মীয় যুদ্ধ হিসাবে দেখছেন? জবাবে হেগসেথ বলেন, ‘দেখুন, আমরা সোজাসুজিই বলেছি, আমরা এমন একটা ধর্মীয় উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে লড়ছি, যারা একটি ধর্মীয় ‘আর্মাগেডন’ (বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীতে উল্লেখ করা পৃথিবীর শেষ মহাযুদ্ধ) ঘটানোর লক্ষ্যে পরমাণু বোমা বানানোর চেষ্টায় আছে।’
৩.
এ লেখার শুরুতেই আমি বারবার প্রশ্ন করেছি, কেন আমেরিকা ইসরাইলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে এ আগ্রাসন চালাচ্ছে? তারা যে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এ আগ্রাসনকে ক্রুসেড হিসাবে গ্রহণ করেছে, সেটি উপরের আলোচনা থেকে পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু এর সঙ্গে রয়েছে আরও একটি বড় ধর্মীয় কারণ। সেটি হলো, ‘গ্রেটার ইসরাইল’ বানাতে এ ধর্মযুদ্ধ। শুধু ট্রাম্প ও হেগসেথই নন, ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যরাও যে এ বিশ্বাস পোষণ করেন, তার একটি জ্বলন্ত নজির হলো ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির একটি উক্তি। একটি টিভি অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থাপক টাকার কার্লসনকে বলেন, ‘ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের সবটা নিয়ে নিলে ভালোই হয়; কারণ এ ভূমির প্রতিশ্রুতি তিন হাজার বছর আগেই ঈশ্বর তাদের দিয়ে রেখেছেন।’
এ সময় উপস্থাপক কার্লসন ওল্ড টেস্টামেন্ট বা পুরোনো বাইবেলের জেনেসিস ১৫:১৮ শ্লোক উল্লেখ করেন। ওই শ্লোকে ঈশ্বর আব্রাহামকে (ইসলামে যিনি হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম) প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ‘তোমার বংশধরদের জন্য আমি নীল নদ থেকে বড় ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত এ ভূমি দিয়েছি।’ বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট, যেটি ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ তওরাত হিসাবে পরিচিত, সেই তওরাতের হিব্রু সংস্করণে বলা হয়েছে, তাদের পিতা আব্রাহামকে যে ভূখণ্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেই ভূখণ্ডের মধ্যে পড়ে লেভান্ট অঞ্চল অর্থাৎ ইসরাইল, জর্ডান, সিরিয়া ও লেবাননের পাশাপাশি সৌদি আরব ও ইরাকের বড় অংশ ওই প্রতিশ্রুত এলাকা। ইসরাইলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের এ রাষ্ট্রদূত মনে করেন, পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ইসরাইলের গিলে ফেলার সম্পূর্ণ অধিকার আছে। আর সেই পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসাবে তারা আপাতত ইরানকেই দেখছেন। ইসরাইলের নেতারা বহু আগে থেকেই খোলাখুলি বলে আসছেন, তারা শুধু ইহজাগতিক রাজনৈতিক মোক্ষলাভের জন্য রাজনীতি করেন না। ঈশ্বর তাদের যে ‘বৃহত্তর ইসরাইলের’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছেন, তা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি করেন এবং যুদ্ধ করেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ১৩ মার্চ দেওয়া ভাষণে বলেছেন, ‘আমরা সেই রাজ্য প্রতিষ্ঠা করব এবং মসিহর আসা নিশ্চিত করব।’ উল্লেখ্য, ইহুদিদের মসিহ হলেন হজরত মূসা (আ.) এবং খ্রিষ্টানদের কাছে হজরত ঈসা (আ.), যাকে খ্রিষ্টানরা যিশুখ্রিষ্ট বলেন।
৪.
উপরে খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের যেসব ধর্ম বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করেছি, সে ধরনের আরও অসংখ্য উদ্ধৃতি দেওয়া যায়। তবে স্থানাভাবে সংক্ষেপে এটুকু বলা যায় যে, আমেরিকা ও ইসরাইলের শীর্ষ নেতারা যেসব কথা বলছেন এবং কাজ করছেন, সেগুলো থেকে বোঝা যায়, তারা পুরো আগ্রাসনকে তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ বাইবেলের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন। সম্মানিত পাঠক ভাইয়েরা লক্ষ করুন; আমেরিকা, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ইংল্যান্ড মিলে ইসরাইল নামক যে রাষ্ট্রটির জন্ম দেয়, সেটি ছিল আয়তনে অত্যন্ত ক্ষুদ্র। ১৯৬৭ সাল থেকে পরপর চারটি যুদ্ধ করে ইসরাইল তার সীমানা এবং ভূখণ্ড বাড়িয়ে চলেছে। চলতি ইরান আগ্রাসনে হিজবুল্লাহকে দমনের নাম করে লেবাননেরও একটি অংশ তারা দখল করেছে। এভাবেই তারা তাদের সেই বাইবেলীয় প্রতিশ্রুত ভূখণ্ড (Promised Land) প্রতিষ্ঠার পথে কদম কদম এগিয়ে চলেছে। তাদের এ এগিয়ে চলায় শক্তি জোগাচ্ছে আমেরিকা এবং চোরের সাক্ষী গাঁট কাটার মতো পশ্চিমা দুনিয়া পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে। ওরা যখন ধর্ম নিয়ে যুদ্ধ করে, তখন সেটি হয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। আর আমরা যখন পবিত্র ইসলামের কথা বলি, তখন সেটি হয়ে যায় মৌলবাদ।
মোবায়েদুর রহমান : সিনিয়র সাংবাদিক
