Logo
Logo
×
   

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন ‘ম্যাজিক কার্ড’

Advertisement

Icon

মেজর (অব.) মনজুর কাদের

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন ‘ম্যাজিক কার্ড’

Advertisement

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত হলো দেশের অর্থনীতির ‘প্রাণশক্তি’, যা সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান, উৎপাদন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখে। এদের ওপর ভর করে গড়ে উঠে টেকসই ভারী শিল্প-কারখানা। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে এ শ্রেণির ব্যবসায়ীদের পথে বসিয়ে দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে একটি দুষ্টু একচেটিয়া ব্যবসায়ী চক্র, যাদের বলা হয় ‘অলিগার্ক’-যারা প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে স্মার্ট ব্যবসায়ী সম্মেলন করে শেখ হাসিনাকে আজীবন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বহাল রাখতে চেয়েছিল। এক নির্লজ্জ দাম্ভিকতা দেখিয়েছিল এ দুর্নীতিবাজ চক্র।

কার্ড রাজনীতি : ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য শেখ হাসিনা বিদেশ থেকে ধারদেনা করে অর্থ এনে এবং দেশের মানুষের ওপর অমানবিকভাবে কর বাড়িয়ে নিম্নআয়ের ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন কার্ড বিতরণ করে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে চেয়েছিলেন, যাতে তারা কখনো তার ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে ইচ্ছা পোষণ না করে। অপরদিকে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে শক্তিশালী না করার কারণে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়নি; ফলে বেড়ে গেছে বেকারত্ব, সমাজে সৃষ্টি হয়েছে চরম অস্থিরতার।

ব্যবসা বাণিজ্যে স্থবিরতা : এখন ভদ্রভাবে মানসম্মান নিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য ও শিল্প-কারখানা পরিচালনা করার সুযোগ বাংলাদেশে আছে কিনা, তা দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) উদ্যোগে আয়োজিত এক সম্মেলনের মাধ্যমে আশার আলো দেখাতে চেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে তার আশা পূরণ হয়েছিল কিনা, তা জানা গেল না। প্রশ্ন হলো, নাগরিকরা নিজের দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী কিনা? বিনিয়োগ করলে লাভ তো দূরের কথা, একজন উদ্যোক্তা মূলধন এবং মানসম্মান নিয়ে ফিরতে পারবেন কিনা সন্দেহ আছে। সবাই বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে-বড় জনসংখ্যা, সস্তা শ্রম, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, বড় ভোক্তা বাজার, রপ্তানির সুযোগ; কিন্তু তারপরও ‘বিনিয়োগবান্ধব’ হিসাবে দেশটি ইদানীং প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। কী কারণে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে অনীহা প্রকাশ করে নিজেদের সব পুঁজি আদম বেপারিদের হাতে তুলে দিয়ে বিদেশে চাকরি করার জন্য স্বপ্ন দেখে? নিজের দেশে সফল উদ্যোক্তা হিসাবে যার আত্মপ্রকাশ করার সম্ভাবনা ছিল, তার গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে ভেবেছিলেন; কিন্তু তিনি বাধ্য হয়ে ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য নিজেই চলে যান বিদেশে কর্মচারী বা শ্রমিক হয়ে।

কেন এমন হচ্ছে : ফ্যাসিস্টের আমলে আইনের শাসনের মাধ্যমে সুবিচার পাওয়া যায়নি, ছিল ব্যবসায়িক বিরোধের নিষ্পত্তির অনিশ্চয়তা, চুক্তি বাস্তবায়ন, জমি বিরোধ, ব্যাংক ঋণের জটিলতা-এসব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, যার ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। এ ছাড়া রয়েছে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক জটিলতা, লাইসেন্স অনুমোদন, ট্যাক্স, পুলিশের ঝামেলা, কাস্টমস ইত্যাদি। কাগজে-কলমে বিভিন্ন সেবা চালু করার কথা বলা হলেও বাস্তবে ঘটে তার উলটোটা। সেবার পরিবর্তে করা হয় হেনস্তা। ব্যবসায়ী নীতির ধারাবাহিকতার অভাব, হঠাৎ করে নিয়মকানুন পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কেউ করতে পারে না। সবকিছু চলছে এডহক ভিত্তিতে। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, ব্যাংক ঋণের জটিলতা, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল শাসন-এসব কারণে আর্থিক খাতের ওপর আস্থা কমে যাচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিবেশ চান। দেশে রয়েছে দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি। কম মজুরির শ্রমশক্তি থাকলেও দক্ষতা, সততার অভাব প্রকট। এসব অসৎ লোকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে রাজনৈতিক এবং সামাজিক চাপ আসে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি আগে কেউ কখনো দেখেননি।

অলিগার্কদের লালন-পালন : যেসব অলিগার্ক (দুষ্টু ব্যবসায়ী চক্র) ফ্যাসিস্ট শাসনামলে অবৈধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ছোট মাঝারি ব্যবসায়ীদের নিঃশেষ করে ব্যবসা বাণিজ্য ক্ষেত্রে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে, তারা এখনো বহাল তবিয়তে থেকে দেশকে আবারও ধংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এবং সম্পদ রাষ্ট্রের হাতে এনে ব্যবসা বাণিজ্যের বৈষম্য দূর করার দাবি ইতোমধ্যেই উঠেছে; কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ফ্যাসিস্টসৃষ্ট ওইসব দালাল ব্যবসায়ী বর্তমান সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে হাসিমুখে বৈঠক করছে। তারা দেখিয়ে দিচ্ছে, বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক না কেন, তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে; কারণ তাদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে বাংলাদেশের ব্যাংক, বীমা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এসব দুষ্টু ব্যবসায়ীর হাতে কল-কারখানা, ব্যবসা বাণিজ্য জিম্মি না হলে এতদিনে হাজার হাজার ছোট এবং মাঝারি উদ্যোক্তারা বড় উদ্যোক্তা হিসাবে আবির্ভূত হতো। তারা বিদেশে অর্থ পাচার না করে বরং দেশে আরও বেশি বিনিয়োগ করতেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি : মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে আওয়ামী লীগ বরাবরই বাগাড়ম্বর করে এসেছে। আসলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কী ছিল, তা আওয়ামী লীগ কখনো সুস্পষ্ট করতে পারেনি। বৈষম্য দূরীকরণ ও স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা কর্মসূচি প্রদান করেন, যা পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়। বাংলাদেশের মানুষ অর্থনৈতিক মুক্তি পাবে, স্বাধীনভাবে ব্যবসা বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা স্থাপন করতে পারবে এবং স্বাবলম্বী হবে-এগুলো ছিল প্রধান আকাক্সক্ষা। গরিব শ্রেণি নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে, মধ্যবিত্ত উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণিতে এবং উচ্চমধ্যবিত্ত ধনিক শ্রেণিতে রূপান্তরিত হতে চেয়েছিলেন। ওপরে উঠার স্বপ্ন দেখতে চেয়েছিলেন এ দেশের জনগণ।

উলটো পথে যাত্রা : কিন্তু স্বাধীনতার পরপরই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা ভণ্ডুল করে দিয়ে ১৯৭২ সালের মার্চ মাসে প্রথম শিল্প বিনিয়োগ নীতি প্রণয়ন করে পাট, বস্ত্র ও চিনিকল জাতীয়করণের পর, ব্যক্তি খাতে ছোট ও মাঝারি শিল্পে স্থাপনের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ নীতিমালা বা সিলিং আরোপ করেছিল। এ সিলিং আরোপিত হওয়ার কারণে বাংলাদেশে কোনো শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেনি। ভারতীয় পণ্যের বাজার হয়ে যায় বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে অঙ্গীকারাবদ্ধ আওয়ামী লীগের এ চরম আত্মঘাতী নীতির কারণে দেশের অর্থনীতিতে চরম বিপর্যয় নেমে আসে, তাই বাধ্য হয়ে ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময় সরকার এ বিনিয়োগ সীমা ২৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করে। ‘গাধা পানি খায় তো ঘোলা করে খায়’ প্রবাদটি সত্য বলে প্রমাণ করেছিল আওয়ামী লীগ।

উদ্ধার করলেন জিয়াউর রহমান : আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠী যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়, অর্থনীতি যখন স্থবির ও চরম সংকটাপন্ন, তখন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে তথাকথিত সমাজতান্ত্রিক ও নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি থেকে দেশকে মুক্তবাজার ও উন্মুক্ত অর্থনীতির পথে পরিচালিত করেন। তার নেওয়া বাস্তবমুখী ও দূরদর্শী পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করে। জিয়াউর রহমানের নেওয়া যুগান্তকারী অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-তৈরি পোশাক শিল্পের ভিত্তি স্থাপন। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘ডেইউ’ কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ‘দেশ গার্মেন্টস’-এর মতো প্রথম রপ্তানিমুখী পোশাককারখানা চালুর মাধ্যমে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাতের সূচনা করেন। বিদেশে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্সের জন্য ১৯৭৭ সালে কুয়েত সফরের মধ্য দিয়ে তিনি সর্বপ্রথম মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশ থেকে মানবসম্পদ রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেন। এ রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হয়।

শিল্প-কারখানা বেসরকারিকরণ ও মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু : রাষ্ট্রায়ত্তকরণ নীতি থেকে সরে এসে জিয়াউর রহমান রুগ্ণ শিল্প-কারখানাগুলোকে ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেন এবং রুদ্ধ প্রায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ আবারও চালু করে সাধারণ বিনিয়োগ ও পুঁজি গঠনের সুযোগ করে দেন। তিনি ১৯৮০ সালে ইপিজেড গঠন করে ‘বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ’ (বেপজা) প্রতিষ্ঠা করেন এবং চট্টগ্রামে দেশের প্রথম ইপিজেড স্থাপনের কাজ শুরু করেন, যা পরবর্তী সময়ে ব্যাপক বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে ভূমিকা রাখে। তিনি কৃষি ও পল্লী উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করতে ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এ নীতিগুলোর মাধ্যমে নেওয়া সংস্কারগুলো পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল মেরুদণ্ডে পরিণত হয়। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং রাজনীতির খোলনলচে পালটে দিয়েছিলেন। তার শাসনামলে অর্থনীতি বেগবান হওয়ায় মানুষের মাঝে নতুন করে প্রেরণা জেগে ওঠে। রেশন কার্ড : এদেশে রেশনিংব্যবস্থা প্রথম শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, ব্রিটিশ আমলে ১৯৪০-এর দশকে। পরবর্তী সময়ে ১৯৫৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে এটি নতুন করে চালু হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর খাদ্য ও বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রণালয় ১৯৭৩ সাল থেকে সরকারিভাবে সারা দেশে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে রেশন কার্ডের মাধ্যমে চাল ও গম সরবরাহ করে। তবে নব্বইয়ের দশকের পর থেকে সরকার ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের জন্য সর্বজনীন এ রেশনব্যবস্থা সংকুচিত বা বিলুপ্ত করে দেয়। তবে পরবর্তী সময়ে প্রান্তিক ও নিম্ন-বিত্তদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা ‘টিসিবি কার্ড’ প্রদান করে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা দেয় আধিপত্যবাদী শক্তি : নব্বইয়ের দশকে রেশন কার্ড বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ যখন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে উন্নত দেশ হিসাবে রূপান্তরিত হওয়ার চেষ্টা করছিল, তখন বাংলাদেশের রাজনীতি এবং অর্থনীতিকে ধ্বংস করার জন্য যারা চেষ্টা করেছিল, তারা হলো জাতীয় শত্রু; তাদের সঙ্গেই বাংলাদেশের মানুষের হলো প্রধান দ্বন্দ্ব। এ শক্তি কখনো চায় না বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াক, দেশটি একটি ধনী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হোক। তারা চায়, বাংলাদেশর অর্থনীতিকে স্যালাইন দিয়ে কোনোরকমে বাঁচিয়ে রাখতে, যাতে দেশটি আধিপত্যবাদী শক্তির পদতলে থাকে সবসময়। তাই নিম্ন-মধ্যবিত্তদের মাঝে কার্ড বিতরণ করে কোনোরকমে বাঁচিয়ে রাখার কৌশলের নাম হলো কার্ড অর্থনীতি; যা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা চালু করেছিল।

উদ্যোক্তা হিসাবে আবির্ভূত হতে চায় : বাংলাদেশের বেকার যুবকরা এখন একজন উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ চায়, যা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দিয়েছিলেন। একজন যুবকের এখন প্রয়োজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার, যিনি শিল্প-কারখানা স্থাপন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন, যেখানে কার্ডধারী অথবা তার ছেলেমেয়েরা কাজ করবেন এবং একসময় তার নেওয়া কার্ডটি সরকারকে ফেরত দিয়ে দেবেন। কারণ ঋণ করে ঋণ দেওয়া যায়; কিন্তু ঋণ করে অনুদান দেওয়া যায় না। এটি করলে ঋণগ্রস্ত অনুদান দাতার ফতুর হতে বেশি সময় লাগে না। তাই কার্ড দাতা সরকারকে বিপদে পড়তে বেশি সময় লাগবে না। বাংলাদেশের উদ্যোক্তা-যুবকদের প্রয়োজন হলো, ‘ম্যাজিক কার্ড’ যেখানে থাকবে হটলাইন নম্বর। তাদের প্রতিষ্ঠিত শিল্প-কারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কোনো সমস্যা দেখা দিলে, চাঁদাবাজি ও প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হলে, যাতে ওই নম্বরে টেলিফোন করলে রাষ্ট্র নিমিষেই সেসব সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে।

মেজর (অব.) মনজুর কাদের : সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম