হালফিল বয়ান
পার্বত্য চট্টগ্রাম, আরাকান ও নিরাপত্তাগত ভূরাজনীতি
Advertisement
ড. মাহফুজ পারভেজ
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দক্ষিণ এশিয়ার পূর্ব প্রান্তে সংঘাতের কঠিন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ক্যানসারের মতো নীরবে পুঞ্জীভূত হচ্ছে। উপমহাদেশের পশ্চিমাংশে পাক-আফগানের মতো প্রকাশ্য যুদ্ধক্ষেত্র না হলেও পূর্ব প্রান্তেও সংঘাত, জাতিগত অসন্তোষ, সীমান্ত রাজনীতি এবং আঞ্চলিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা এক জটিল সমীকরণ তৈরি করেছে। মিয়ানমারের রাখাইন বা আরাকানে যুদ্ধের আগুন এখনো জ্বলছে। সেই উত্তাপ লাগছে বাংলাদেশের সীমান্তে, বিশেষত পার্বত্য চট্টগ্রামে। প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের এ পাহাড়ি অঞ্চলকে কি কেউ ভেতর থেকে বা বাইরে থেকে ইন্ধন দিচ্ছে অস্থিরতার?
উদ্বেগের আরও কারণ আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ঠিক ওপারেই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য-যা ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে পরিচিত; দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত পরিচয়, স্বায়ত্তশাসন, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও সীমান্ত রাজনীতির জটিল ইতিহাস বহন করে চলেছে। ইতিহাস বলে, পাহাড়ি অঞ্চলের সংঘাত অনেক সময় সীমান্ত মানে না। ফলে আরাকানের যুদ্ধ, পার্বত্য চট্টগ্রামের সংবেদনশীল বাস্তবতা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের জাতিগত রাজনীতিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসাবে দেখার সুযোগ নেই।
এসব কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশের দিকে তাকিয়ে যে মূল প্রশ্নটি দেখা যাচ্ছে, তা নিরাপত্তাগত ভূরাজনীতির প্রতিফল। কেননা, বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান আগ্রহ, চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল (যেখানে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র জোট বনাম চীন-পাকিস্তান জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে) এবং মিয়ানমারের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ-সবকিছু মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার এ পূর্বাঞ্চল একটি নতুন ‘গ্রেট গেমের’ প্রান্তসীমায় দাঁড়িয়ে আছে কিনা, তা গভীরভাবে বিবেচনার দাবি রাখে। ইতিহাসের শিক্ষা হলো, যখন স্থানীয় অসন্তোষ ও আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা একই ভূখণ্ডে মিলিত হয়, তখন সেখানে শুধু সীমান্ত নয়, সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তাই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
এ আশঙ্কার প্রধান কারণ আরাকান পরিস্থিতি, যেখানে আরাকান আর্মি একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী থেকে আঞ্চলিক বাস্তবতার অংশে পরিণত হয়েছে। গোষ্ঠীটি গত এক দশকে মিয়ানমারের অন্যতম শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনের আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে সাবেক আরাকান বা বর্তমান রাখাইনের বড় অংশে তাদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব রয়েছে। আরাকান আর্মির প্রধান লক্ষ্য রাখাইন জনগণের রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ও ক্ষমতার অংশীদারত্ব। তবে বাস্তবে তাদের উত্থান শুধু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় নয়, বঙ্গোপসাগরীয় ভূরাজনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
ভূরাজনীতির নির্মম বাস্তবতা হলো, কোনো অঞ্চল যখন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ, জ্বালানি করিডর কিংবা সামুদ্রিক যোগাযোগব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করে, তখন স্থানীয় সংঘাত আর শুধু স্থানীয় থাকে না। রাখাইন উপকূল তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বাংলাদেশের কক্সবাজার উপকূলের সমান্তরালে অবস্থিত এ অঞ্চল বঙ্গোপসাগরীয় ভূরাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অক্ষ। এখান দিয়েই চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পাইপলাইন এবং বাণিজ্যিক করিডর বিস্তৃত হয়েছে, যা মালাক্কা প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানোর বেইজিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ। একইসঙ্গে ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক বাণিজ্য, সমুদ্রপথভিত্তিক সংযোগ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলগত প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রেও রাখাইন উপকূলের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। তাই এ অঞ্চল শুধু মিয়ানমারের একটি প্রদেশ হলেও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত এক কৌশলগত ভূখণ্ড।
এমন একটি অঞ্চলে যদি দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয় অথবা বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির স্বার্থের সংঘাত প্রক্সি প্রতিযোগিতার রূপ নেয়, তবে তা সমগ্র অঞ্চলের জন্য একটি অশুভ সতর্কবার্তা। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, প্রক্সি যুদ্ধের সূচনা প্রায়ই স্থানীয় দাবি-দাওয়া বা রাজনৈতিক সংকট থেকে হলেও তার পরিণতি সীমান্ত অতিক্রম করে বহু রাষ্ট্রকে প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ আফগানিস্তানের দিকে তাকালে দেখা যায়, সোভিয়েতবিরোধী মুজাহিদিন আন্দোলন একসময় বৈশ্বিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশে পরিণত হয়েছিল, যার দীর্ঘ ছায়া পরবর্তীকালে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার মাধ্যমে পুরো অঞ্চলকে প্রভাবিত করেছে। সিরিয়ায় গণআন্দোলন ও গৃহযুদ্ধ দ্রুত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মঞ্চে পরিণত হয়। ইয়েমেনে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রতীক হয়ে ওঠে। আফ্রিকার বহু গৃহযুদ্ধেও দেখা গেছে, স্থানীয় জাতিগত বা রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমেই বহিরাগত শক্তির স্বার্থসংঘাতের বাহনে রূপ নিয়েছে।
এসব অভিজ্ঞতার একটি অভিন্ন শিক্ষা রয়েছে-প্রক্সি যুদ্ধের বিজয়ী খুব কম, কিন্তু পরাজিত অনেক। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ, স্থানীয় সমাজ, অর্থনীতি এবং সীমান্তবর্তী রাষ্ট্রগুলো। যুদ্ধের আগুন এক জায়গায় জ্বললেও তার ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র অঞ্চলে। শরণার্থী প্রবাহ, অস্ত্র ও মাদক পাচার, সীমান্ত অপরাধ, উগ্রবাদ এবং নিরাপত্তাহীনতা তখন প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
একই কারণে, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূকৌশলগত গুরুত্ব বাংলাদেশের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব প্রাচীরস্বরূপ। বাংলাদেশের মানচিত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অনেক সময় একটি সীমান্ত অঞ্চল হিসাবে দেখা হয়। কিন্তু ভূরাজনীতির দৃষ্টিতে এটি কেবল একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়। বরং দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং বঙ্গোপসাগরীয় কৌশলগত বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। যে কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থিতিশীলতা শুধু স্থানীয় উন্নয়ন বা আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি ভূকৌশলগত স্বার্থের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। এ অঞ্চল দীর্ঘ সীমারেখা দিয়ে ভারতের সংঘাতপূর্ণ উত্তর-পূর্বাঞ্চল, মিয়ানমারের রাখাইন ও চীন রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত। তাছাড়া, বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী হওয়ায় স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক কৌশলগত যোগাযোগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একইসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জাতিগত, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অনন্য ভূখণ্ড, যেখানে বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও বাঙালি জনগণের সহাবস্থান একটি স্বতন্ত্র সামাজিক বাস্তবতা সৃষ্টি করেছে।
পাশাপাশি সীমান্তবর্তী অস্থিরতা প্রায়ই অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোর জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে। অস্ত্র, চোরাচালান, মাদক পাচার, মানব পাচার এবং অবৈধ বাণিজ্যের মতো কার্যক্রম সীমান্ত অঞ্চলে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকের অবৈধ প্রবাহ ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা ও সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামকে শুধু একটি প্রশাসনিক অঞ্চল হিসাবে নয়, বরং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব কৌশলগত প্রাচীর হিসাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এর নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা একে অপরের পরিপূরক। কারণ পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থিতিশীলতা শুধু এ অঞ্চলের মানুষের শান্তি ও উন্নয়নের জন্য নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে দেশের ভূকৌশলগত অবস্থান রক্ষার জন্যও অপরিহার্য। এজন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশ্ন আর কেবল পাহাড়ের প্রশ্ন নয়। এটি সীমান্ত, সমুদ্র, আঞ্চলিক সংযোগ, মানবিক নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের প্রশ্ন। আর সে কারণেই এ অঞ্চলের প্রতি যে কোনো নীতি বা কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাস্তবতা এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট-উভয়কেই সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
রাখাইন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ঘিরে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর আগ্রহের পেছনে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলগত হিসাব। ভারতের প্রধান উদ্বেগ তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা। মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে তার প্রভাব সহজেই ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একইসঙ্গে বঙ্গোপসাগরে প্রভাব ও সংযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করাও নয়াদিল্লির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। অন্যদিকে চীনের দৃষ্টিতে রাখাইন শুধু একটি সীমান্ত অঞ্চল নয়, জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংযোগ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিয়াউকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর এবং চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরে বিপুল বিনিয়োগের কারণে বেইজিং স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। কারণ যেখানে বড় বিনিয়োগ থাকে, সেখানে নিরাপত্তাগত স্বার্থও স্বাভাবিকভাবেই গভীর হয়। আর যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমার পরিস্থিতিকে মূলত মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখে। তাদের সম্পৃক্ততা প্রধানত কূটনৈতিক ও নীতিগত হলেও আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক ধারণার সঙ্গে এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎকে তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কেউ কেউ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতের সংযোগ ত্রিভুজে একটি খ্রিষ্টান রাষ্ট্র বানানোর সুপ্ত প্রচেষ্টা নিয়ে কাজ করছে। কারণ, এসব এলাকার উল্লেখযোগ্য বাসিন্দা অভিন্ন পাহাড়ি জাতিসত্তা ও খ্রিষ্ট ধর্মের কারণে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সামরিক দিক থেকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য উপযুক্ত।
অতএব, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো নানামুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার হওয়া। সীমান্ত অঞ্চল যদি অস্ত্র ও মাদকের রুটে পরিণত হয়, বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে, গোয়েন্দা তৎপরতার ক্ষেত্র হিসাবে ব্যবহৃত হয় কিংবা স্থানীয় অসন্তোষকে বহিরাগত শক্তি নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগাতে শুরু করে, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমানকালে নিরাপত্তা শুধু সামরিক বিষয় নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থিতিশীলতা নির্ভর করে উন্নয়ন, রাজনৈতিক আস্থা, কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং জাতীয় সংহতির ওপর। স্থানীয় জনগণ যদি রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা কাঠামোর অংশীদার হয়, তাহলে বহিরাগত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ অনেকটাই কমে যায়। যদিও আরাকান আর্মির উত্থান, রাখাইনের চলমান সংঘাত এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিবেশকে নতুন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে, যাকে এখনো প্রক্সি যুদ্ধের ক্ষেত্র বলা যাবে না। তবে ইতিহাসের শিক্ষা হলো, প্রক্সি সংঘাত কখনো হঠাৎ জন্ম নেয় না, আগে ধীরে ধীরে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে বহিরাগত স্বার্থ ও স্থানীয় অসন্তোষ একে অপরের সঙ্গে মিশে যেতে শুরু করে। বাংলাদেশের জন্য তাই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হলো, আশপাশের অগ্নিগর্ভ বিপদকে নিজের ভূখণ্ডে প্রবেশের আগেই প্রতিরোধ করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ : চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; নির্বাহী পরিচালক, চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)
