Logo
Logo
×
   

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

র‌্যাংকিংয়ে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

Advertisement

Icon

ড. ইমরান হোসেন খান

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

র‌্যাংকিংয়ে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

Advertisement

বিশ্বের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে একটি দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আজ অনেকাংশে নির্ধারিত হয় তার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান, গবেষণা সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার মাধ্যমে। তাই কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং কেবল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান নির্ধারণের একটি তালিকা নয়; বরং এটি একটি দেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থার শক্তি, দুর্বলতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ১৮ জুন প্রকাশিত হয়েছে কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং ২০২৭। এবারের র‌্যাংকিংয়েও যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে যৌথভাবে রয়েছে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, আর চতুর্থ স্থানে রয়েছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এসব বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শতবর্ষের ঐতিহ্যের কারণে নয়, বরং গবেষণা, উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং শক্তিশালী একাডেমিক সংস্কৃতির কারণে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এবারের র‌্যাংকিংয়ের চিত্র খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। দেশের প্রায় ১৭৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১৩টি র‌্যাংকিংয়ে স্থান পেয়েছে, যার মধ্যে ৯টি পাবলিক এবং ৪টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। অর্থাৎ দেশের মোট বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্র ৫.২ শতাংশ আন্তর্জাতিক এ তালিকায় জায়গা করে নিতে পেরেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকলেও তা এখনো ৬০০-এর আশপাশে সীমাবদ্ধ। বুয়েট রয়েছে ৭১১ নম্বরে এবং অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৯০০ থেকে ১৪০০-এর মধ্যে। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছোট্ট দেশ সিঙ্গাপুরে মাত্র সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও তার দুটি বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিংয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, যার মধ্যে একটি বিশ্বের সেরা ১০-এর মধ্যে অবস্থান করছে এবং অন্যটি রয়েছে ১২তম স্থানে।

কিউএস র‌্যাংকিং কীভাবে তৈরি হয়? কিউএস র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুর্বল অবস্থার কারণ বুঝতে হলে প্রথমে এর মূল্যায়ন পদ্ধতি বিশ্লেষণ করা জরুরি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কোয়াকোয়ারেলি সাইমন্ডস (কিউএস) বর্তমানে নয়টি সূচকের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়ন করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ওয়েটেজ দেওয়া হয় ‘একাডেমিক রিপুটেশন’-কে, যার ওয়েটেজ ৩০ শতাংশ। বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার একাডেমিক, গবেষক এবং অধ্যাপকের মতামতের ভিত্তিতে এ সূচক নির্ধারণ করা হয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও শিক্ষা কতটা সম্মানিত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কতটা পরিচিত, তা এ সূচকের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওয়েটেজ ২০ শতাংশ দেওয়া হয় ‘সাইটেশনস পার ফ্যাকাল্টি’কে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক গবেষণা সাহিত্যে কতবার সাইটেড হয়েছে, তা এ সূচকের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়। কিউএস এ ক্ষেত্রে স্কোপাস ডেটাবেস ব্যবহার করে। গবেষণা প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়; সেই গবেষণা যদি বিশ্বের অন্যান্য গবেষক ব্যবহার না করেন বা সাইট না করেন, তাহলে তার প্রভাব সীমিত থেকে যায়। এ কারণেই বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু গবেষণাপত্রের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে নয়, বরং গবেষণার গুণগত মান এবং বৈশ্বিক প্রভাব বৃদ্ধির দিকে গুরুত্ব দেয়।

এরপর রয়েছে ‘এমপ্লয়ার রিপুটেশন’, যার ওয়েটেজ ১৫ শতাংশ। বিশ্বের বিভিন্ন নিয়োগদাতার কাছ থেকে মতামত নিয়ে মূল্যায়ন করা হয় কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য। পাশাপাশি ‘ফ্যাকাল্টি-স্টুডেন্ট রেশিও’ (১০ শতাংশ), ‘এমপ্লয়মেন্ট আউটকামস’ (৫ শতাংশ), ‘ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাকাল্টি রেশিও’ (৫ শতাংশ), ‘ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট রেশিও’ (৫ শতাংশ), ‘ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ নেটওয়ার্ক’ (৫ শতাংশ) এবং ‘সাসটেইনেবিলিটি’ (৫ শতাংশ) সূচকও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ কিউএস শুধু গবেষণা নয়; শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিকীকরণ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করে।

কেন পিছিয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়? বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কিউএস-এর প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সূচকেই আমাদের দুর্বলতা রয়েছে। বিশেষ করে একাডেমিক রিপুটেশন, সাইটেশনস, ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ নেটওয়ার্ক এবং গবেষণার গুণগত মানের ক্ষেত্রে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে। প্রথমত, দেশের বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে শক্তিশালী গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। দ্বিতীয়ত, গবেষণা অর্থায়ন ও অবকাঠামো এখনো প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতার ঘাটতি রয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণাপত্র নেচার, সায়েন্স, সেলসহ উচ্চ-ইমপ্যাক্ট জার্নালে প্রকাশিত হয়ে ব্যাপকভাবে সাইটেড হয়, অথচ বাংলাদেশের অনেক গবেষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাঙ্ক্ষিত দৃশ্যমানতা অর্জন করতে পারে না। চতুর্থত, ইন্টারন্যাশনালাইজেশনের ক্ষেত্রেও আমরা পিছিয়ে। বিদেশি শিক্ষক, বিদেশি শিক্ষার্থী এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার হার এখনো কম। পঞ্চমত, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আর্থিক অবস্থান ও গবেষণা প্রণোদনার ঘাটতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের বার্ষিক বেতন গড়ে প্রায় ৯.৩৬ লাখ টাকা, যেখানে সমমানের অধ্যাপকরা অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১.৯৫ কোটি, যুক্তরাষ্ট্রে ১.৫৮ কোটি, যুক্তরাজ্যে ১.২৮ কোটি, জাপানে প্রায় ৮০ লাখ, ভারতে ৪৬-৬৯ লাখ এবং পাকিস্তানে প্রায় ১৪.৬ লাখ টাকা আয় করেন। শুধু বেতন নয়, উন্নত দেশগুলোয় গবেষণা অনুদান, স্টার্ট-আপ গ্রান্ট, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং শিল্প খাতের সঙ্গে গবেষণা সহযোগিতার সুযোগও অনেক বেশি। ষষ্ঠত, দীর্ঘদিন ধরে মেধাবী শিক্ষক ও গবেষকদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা বা ‘ব্রেইন ড্রেইন’ গবেষণা সক্ষমতাকে দুর্বল করেছে। সপ্তমত, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প খাত সংযোগ এখনো দুর্বল। ফলে গবেষণা, উদ্ভাবন, পেটেন্ট এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ সীমিত থাকে। অষ্টমত, কিউএস-এর গুরুত্বপূর্ণ সূচক ‘ফ্যাকাল্টি-স্টুডেন্ট রেশিও’-তেও আমরা পিছিয়ে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে এ অনুপাত প্রায় ১:১০, সেখানে বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে তা ১:৪০ থেকে ১:৭০ কিংবা তারও বেশি; ফলে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত একাডেমিক তত্ত্বাবধান ও গবেষণা সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়। নবমত, ‘এমপ্লয়ার রিপুটেশন’ এবং ‘এমপ্লয়মেন্ট আউটকামস’-এর ক্ষেত্রেও দুর্বলতা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা যায়, যা গ্র্যাজুয়েটদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে দুর্বল করে।

বাংলাদেশের জন্য করণীয় ও ভবিষ্যৎ পথচলা : বাংলাদেশ যদি বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে চায়, তাহলে কয়েকটি ক্ষেত্রে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রয়োজন। প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর বদলে গুণগত মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রায় প্রতিটি সংসদীয় আসনে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে সীমিত সম্পদকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করে বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে গবেষণা তহবিল, আধুনিক গবেষণাগার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। তৃতীয়ত, গবেষণা প্রকাশনা, সাইটেশনস, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পেটেন্ট এবং গবেষণা অনুদানের ভিত্তিতে গবেষণাভিত্তিক অর্থায়ন ও প্রণোদনা ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষক উভয়ই গবেষণায় আরও উৎসাহিত হন। চতুর্থত, একাডেমিক রিপুটেশন উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সম্মেলন, যৌথ গবেষণা প্রকল্প, ভিজিটিং স্কলার প্রোগ্রাম এবং বিশ্বের শীর্ষ ১০০-২০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে। পঞ্চমত, বিদেশি শিক্ষক ও গবেষক আকৃষ্ট করার পাশাপাশি দেশীয় শিক্ষকদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক বেতন, গবেষণা অনুদান, সাববেটিক্যাল, স্টার্ট-আপ গ্রান্ট এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে হবে। কারণ, বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার পূর্বশর্ত হলো বিশ্বমানের শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য আকর্ষণীয় কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা। ষষ্ঠত, ফ্যাকাল্টি-স্টুডেন্ট রেশিও উন্নয়নের জন্য আরও শিক্ষক নিয়োগ এবং গবেষণাভিত্তিক একাডেমিক পদ সৃষ্টি করা প্রয়োজন; দীর্ঘমেয়াদে এ অনুপাতকে অন্তত ১:২০ পর্যায়ে নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করা যেতে পারে। সপ্তমত, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প খাত সহযোগিতা জোরদার করে গবেষণাকে উদ্ভাবন, পেটেন্ট এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি শক্তিশালী ‘র‌্যাংকিং অ্যান্ড গ্লোবাল এনগেজমেন্ট সেল’ গঠন এবং নিয়মিত জব ফেয়ার আয়োজনের মাধ্যমে এমপ্লয়ার রিপুটেশন ও এমপ্লয়মেন্ট আউটকামস উন্নত করা প্রয়োজন। অষ্টমত, একটি সুস্পষ্ট জাতীয় লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে, যাতে আগামী দশ বছরের মধ্যে অন্তত পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের শীর্ষ ২০০-এর মধ্যে এবং কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে শীর্ষ ৩০০-এর মধ্যে নিয়ে আসার জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করা যায়।

সর্বোপরি, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুণগত রূপান্তর শুধু উচ্চশিক্ষার উন্নয়নের প্রশ্ন নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি, উদ্ভাবন সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার প্রশ্ন। কারণ আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে গবেষণা, জ্ঞান, প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদের ওপর, আর সেই ভিত্তি নির্মাণের প্রধান দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরই।

ড. ইমরান হোসেন খান : সহযোগী অধ্যাপক, যন্ত্রকৌশল বিভাগ, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্যবিদ্যালয়, গাজীপুর, গবেষক, কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, অস্ট্রেলিয়া

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম