Logo
Logo
×
   

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

হালফিল বয়ান

ককরোচ আন্দোলন : গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের শক্তি

Advertisement

Icon

ড. মাহফুজ পারভেজ

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ককরোচ আন্দোলন : গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের শক্তি

Advertisement

ককরোচ-আরশোলা-তেলাপোকারা সৃষ্টির আদি থেকেই টিকে থাকার প্রতীক। ভারতের বেকার ও হতাশ যুব-তরুণ সমাজও বিলুপ্ত হওয়ার পথ বেছে না নিয়ে ককরোচ প্রতীকে থিকথিক করছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ছড়িয়ে পড়ে শহরে-বন্দরে। ফলে তাদের অন্যতম দাবি মেনে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। ক্ষমতাসীনরা ভয় পেয়ে বন্ধ করছে সাইবার জগৎ ও বাস্তবে আরশোলা ঢোকার যাবতীয় রাস্তা। কিন্তু আটকানো যায়নি তাদের। চারদিকে বেরিয়ে পড়ে ওরা। তৈরি হয় ম্যানিফেস্টো ও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে দল। তাদের দাবি : ‘আপনি যদি বেকার হন, সঙ্গে খানিক অলসও, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া স্যাভি ও সচেতন; তাহলে এ নতুন ‘রাজনৈতিক’ দল আপনাকে স্বাগত জানাবে, আপনিও আসুন আমাদের সঙ্গে লড়াইয়ের ময়দানে।’

ভারতে ককরোচ আন্দোলনের জন্ম ও উত্থান বেশ চমকপ্রদ। ১৫ মে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত শুনানি চলাকালীন খানিক রাগান্বিত হয়ে একটি মন্তব্য করেন, যা নিয়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। মন্তব্যটি ছিল, ‘দেশের (ভারত) যুব সম্প্রদায় খানিক আরশোলার মতো। যখন তারা চাকরি পেতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়াকর্মী কিংবা আরটিআই অ্যাকটিভিস্ট হয়ে যায়। এরাই সময়ে-অসময়ে সিস্টেমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে থাকে।’ এ মন্তব্য হিট স্প্রে-র মতো ছড়িয়ে পড়ে চাকরিহীন, হতাশ, দিশেহারা হাজার হাজার ছাত্র-তরুণ-যুবকের মধ্যে। আমেরিকা নিবাসী ৩০ বছরের অভিজিৎ দীপকে-ও নীরবে দেখছিলেন পুরো বিষয়টি। নামজাদা বস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক রিলেশনে স্নাতক তিনি। ছিলেন আম আদমি পার্টির সাবেক সোশ্যাল মিডিয়া স্ট্র্যাটেজিস্ট। তিনি ঘটনাক্রম উপলব্ধি করে একটি টুইট করে বলেন, ‘কেমন হয়, যদি সব আরশোলারা একসঙ্গে জোট বাঁধে?’ এভাবে জনসমর্থন বাড়তে থাকে। আছড়ে পড়ে টুইটের পর টুইট। দ্রুতই অভিজিৎ একটি ডিজিটাল পার্টি তৈরি করেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে। তৈরি হয় ওয়েবসাইটও। অভিনব রাজনৈতিক দলটি ভারতের বেকার, অলস ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারকারী সব যুবকের দাবি নিয়ে কথা বলতে শুরু করে।

ভারতে আগেও উত্তাল রাজনৈতিক আন্দোলনের পরিস্থিতিতে নতুন দল তৈরি হয়েছে। যেমন, আম আদমি পার্টির উত্থানও এরকম। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্না হাজারের প্রতিবাদ সামনে রেখে তৈরি হয় অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ঝকঝকে দলটি। কিন্তু ককরোচ জনতা পার্টির বিষয়টি নতুন হলেও পুরোপুরি আলাদা ও অনন্য। কারণ, এ মুহূর্তে সদস্য সংখ্যার নিরিখে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক্স ও ইনস্টাগ্রামে মোট ফলোয়ার সংখ্যাকে ককরোচ-কুল ছাপিয়ে গেছে মাত্র ৪ দিনে।

ভারতের ক্ষমতাসীনরা ভয়ের চোখে অবাক হয়ে দেখছে নতুন দলের দেশব্যাপী আন্দোলনকে। একইসঙ্গে আরশোলা বাড়লে তাকে পিষে মারার মতো লোকও বাড়ছে। বাড়ছে বিষাক্ত কীটনাশক প্রস্তুতকারী কোম্পানির সংখ্যা। তাই সাসপেন্ড করা হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির এক্স হ্যান্ডেল। বারবার হ্যাক করার চেষ্টা চলছে ইনস্টাগ্রাম। তৈরি হয়েছে অ্যান্টি-ককরোচ গ্যাং। যারা কখনো কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ছদ্মবেশে পেজ হ্যাক করেছে। শারীরিক আক্রমণ করা হচ্ছে ফ্যাসিবাদী কায়দায়। তবুও থামানো যাচ্ছে না তাদের।

ভারতে বিজেপির শাসনে বিগত সাত বছরে ৬০ বারেরও বেশি নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। এ বছর আবারও। ছাত্রছাত্রীরা আগেও বিক্ষোভ দেখিয়েছে রাজপথে। তবু কিচ্ছু বদলায়নি। হতাশ যুব সম্প্রদায় দেখেছে, বিরোধী শিবিরের ন্যূনতম কার্যক্রমে অপরিবর্তিতই থেকেছে তাদের ভাগ্য। তারা তাই ডিজিটাল অভ্যুত্থানের পথ বেছে নিয়েছেন। দিল্লি থেকে যা ভারতের প্রধান শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুতবেগে। উন্নাসিক মোদি সরকার প্রথমে গ্রাহ্য না করলেও এখন টের পাচ্ছে গদি রক্ষার গরজ। কারণ, ককরোচ জনতা পার্টি যেসব দাবি উত্থাপন করেছে, তা ভারতের গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ ও অসাম্প্রদায়িকতার দাবি, যা মোদি সরকার সংখ্যাগুরু উগ্র হিন্দুত্ববাদের নামে পদদলিত করে আসছিল সংখ্যালঘু, মুসলিম, নিম্নবর্গকে ঘর, বাড়ি, নাগরিকতা থেকে পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করার মাধ্যমে।

ককরোচ জনতা পার্টির ইশতেহার বলছে : ১. কোনো প্রধান বিচারপতি অবসর গ্রহণের পরবর্তী সময়ে রাজ্যসভার সংসদ সদস্য বা পদপ্রার্থী হতে পারবেন না। যুব সম্প্রদায় চাইলে মিলিটারি, পুলিশ, আমলা কিংবা ইলেকশন কমিশনের চেয়ারম্যান জাতীয় পদগুলোও যোগ করতে পারে ওই তালিকায়। ২. যদি ইলেকশন কমিশন ভোটের পূর্বে কোনো বৈধ ভোটারকে ডিলিট করে, তাহলে কমিশনের বিরুদ্ধে ইউএপিএ চার্জ এনে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে হবে। সারা ভারতে বহু মানুষের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে প্রয়োগ হয়েছে ইউএপিএ। ৩. মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ। ৩৩ শতাংশর গাজর ঝোলানো আর চলবে না। ৪. সেসব মিডিয়া হাউজের লাইসেন্স বাতিল হবে, যাদের মাথায় রয়েছে কোনো ক্ষমতাশালী শিল্পপতি। আম্বানি-আদানির ভূমিকাও আতশকাচের নিচেই রাখা হবে। ৫. যেসব বিধায়ক দল পরিবর্তন করবেন, তাদের ২০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে রাজনীতির আঙিনা থেকে। অর্থাৎ জনগণের ভোটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা চলবে না। এ ছাড়া পরীক্ষা তথা নিট কেলেঙ্কারির মতো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং যুব সম্প্রদায়কে রাজনীতির দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসার আহ্বান উচ্চারিত হয়েছে।

মনে রাখা দরকার, রাজনীতির ইতিহাসে ক্ষমতার ভাষা অনেক সময় তার নিজের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র তৈরি করে। যে শব্দ দিয়ে শাসক জনগণকে অপমান করতে চায়, এক সময় সেই শব্দই প্রতিবাদের পতাকায় পরিণত হয়। ভারতের সাম্প্রতিক ছাত্র-যুব আন্দোলনে ঠিক সেটিই ঘটেছে। ‘তেলাপোকা’-যে শব্দটি অবজ্ঞা ও তুচ্ছতার প্রতীক হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল-আজ সেটিই কোটি তরুণের আত্মপরিচয়ের ভাষা।

ককরোচ আন্দোলনের তাৎপর্য শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ সমাজের রাজনৈতিক ভাষার এক মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। একসময় ছাত্র রাজনীতির প্রধান উপাদান ছিল মতাদর্শ, দলীয় আনুগত্য কিংবা জাতীয়তাবাদ। এখন তার জায়গায় উঠে এসেছে মেধার ন্যায়বিচার, কর্মসংস্থান, প্রাতিষ্ঠানিক সততা, জবাবদিহি এবং মর্যাদার দাবি। তরুণরা আর কেবল রাষ্ট্রের কাছে চাকরি চাইছে না। তারা জানতে চাইছে-রাষ্ট্র কি তাদের পরিশ্রমের মূল্য ও আত্মমর্যাদা দেবে? শিক্ষা কি যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়িত হবে? উন্নয়নের পরিসংখ্যান কি মানুষের জীবনের বাস্তব উন্নতিতে প্রতিফলিত হবে?

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কথা অনিবার্যভাবেই মনে পড়ে। বাংলাদেশের আন্দোলনের সূচনাও ছিল একটি নীতিগত প্রশ্ন-কোটা সংস্কার। কিন্তু রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং তরুণদের জমে থাকা ক্ষোভ সেই আন্দোলনকে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ দেয়। ভারতের বর্তমান আন্দোলনের সঙ্গে এখানেই একটি কাঠামোগত মিল রয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই সীমিত প্রশাসনিক সংকট বৃহত্তর রাজনৈতিক বৈধতা ও রাষ্ট্রের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলংকার আন্দোলন ও রাজনৈতিক অনুপ্রেরণায় দক্ষিণ এশিয়ার তরুণরা একে অপরের অভিজ্ঞতা দেখছে, শিখছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত হচ্ছে। ফলে প্রতিবাদের ভাষা, প্রতীক এবং কৌশলে এক ধরনের আন্তঃসীমান্ত সাদৃশ্য তৈরি হচ্ছে। এটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় প্রতিবাদের ধারণাগত বিস্তার। ইতিহাসে ১৯৬৮ সালের ইউরোপীয় ছাত্র আন্দোলন কিংবা আরব বসন্ত যেমন বিভিন্ন দেশে প্রভাব ফেলেছিল, তেমনি দক্ষিণ এশিয়ায়ও এখন ডিজিটাল যুগের নতুন প্রতিবাদ-সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে, যারা নেতৃত্বের চেয়ে নেটওয়ার্ককে বেশি গুরুত্ব দেয়। ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শ নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি বিকল্প জনপরিসর তৈরি করে। এতে জনপ্রিয় সংস্কৃতির ভূমিকাও কম নয়। থ্রি ইডিয়টস চলচ্চিত্রের ‘র‌্যাঞ্চো’ যেমন মুখস্থনির্ভর শিক্ষা ও নম্বরকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হয়েছিল, তেমনি টুয়েলভথ ফেল কোটি তরুণের জীবনের অনিশ্চয়তা, ব্যর্থতা ও সংগ্রামের বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। এ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা রাজনৈতিক প্রতিবাদের সঙ্গে মিশিয়ে তরুণরা স্লোগানের পাশাপাশি মিম বানায়, ব্যঙ্গচিত্র আঁকে, ভিডিও তৈরি করে এবং অপমানজনক শব্দকে প্রতিবাদে রূপান্তর ঘটায়।

ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর জন্য এখানেই সবচেয়ে বড় শিক্ষা লুকিয়ে আছে। তরুণদের এ ক্ষোভকে যদি কেবল ‘অনলাইন ট্রেন্ড’, ‘মিম সংস্কৃতি’ বা ‘আইনশৃঙ্খলার সমস্যা’ হিসাবে দেখা হয়, তবে তারা বাস্তব সংকটকে উপেক্ষা করবে।

বাংলাদেশের জুলাই অভিজ্ঞতা এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। গণ-অভ্যুত্থান রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন ঘটাতে পারে, কিন্তু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, সাংবিধানিক পুনর্গঠন এবং জবাবদিহিমূলক শাসন। একইভাবে ভারতের ককরোচ আন্দোলনের ভবিষ্যৎও নির্ভর করবে-এটি কি কেবল ডিজিটাল ক্ষোভ হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের কাঠামোগত সংস্কারের জন্য একটি সুসংগঠিত গণতান্ত্রিক নাগরিক আন্দোলনে পরিণত হবে।

সবশেষে, ককরোচ জনতা পার্টিকে কেবল একটি ভাইরাল শব্দ বা হাস্যরসের বিষয় হিসাবে দেখলে ভুল হবে। এটি দক্ষিণ এশিয়ার এক নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশের প্রতীক। এ প্রজন্ম প্রচলিত রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলে না। তারা ব্যঙ্গকে অস্ত্র বানায়, অপমানকে পরিচয়ে রূপ দেয় এবং ডিজিটাল জনপরিসরকে গণতান্ত্রিক দাবির মঞ্চে পরিণত করে। তাই দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় শক্তির নাম বিক্ষুব্ধ, সাইবার-সংযুক্ত এবং আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন তরুণ সমাজ।

রাষ্ট্র যদি তাদের শুধু ভোটার হিসাবে দেখে, তবে সংকট বাড়বে। কিন্তু যদি তাদের নাগরিক অংশীদার এবং ভবিষ্যতের রাষ্ট্রনির্মাতা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়, তবে এ ক্ষোভই গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের শক্তিতে পরিণত হতে পারে। ইতিহাসের শিক্ষা হলো-অবজ্ঞার ভাষা কখনো কখনো বিপ্লবের ভাষায় রূপ নেয়। দক্ষিণ এশিয়ার যুব আন্দোলনের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ ভারতের ককরোচ আন্দোলন সেই সম্ভাবনারই নতুন রূপক।

প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ : চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; নির্বাহী পরিচালক, চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম