Logo
Logo
×

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

দৃষ্টিপাত

শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

Advertisement

অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ্ চৌধুরী

অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ্ চৌধুরী

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

Advertisement

২০২৪ সালের জুলাই থেকে আগস্টের প্রথম সপ্তাহজুড়ে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব ও অভূতশ্রুত গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসক শেখ হাসিনার পতন ঘটে। উদীয়মান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিকশিত নবজাগরণের বা রেনেসাঁর উন্মেষ থেকেই নবপর্র্যায়ের এ গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এ দেশের ছাত্র-জনতার বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তের বিনিময়ে এ বিজয় অর্জন সম্ভব হয়েছে। তাই এ মুহূর্তে বলতে ইচ্ছে করে-‘বীরের এ রক্তস্রোত, মাতার এ অশ্রুধারা’; যায়নি বৃথা, যাবে না বৃথা।

গত শতাব্দীর অন্যতম ফ্যাসিবাদী শাসক হিটলার তার পতনের বছরকয়েক আগে দম্ভ করে ঘোষণা করেছিলেন, ‘The Third Reich will rule the world for one thousand years,’ অর্থাৎ হিটলারের জার্মানি (তৃতীয় জার্মান রাষ্ট্র বা সাম্রাজ্য) এক হাজার বছর পৃথিবী শাসন করবে। এ ঘোষণার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে হিটরালের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। তার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে এক নতুন পৃথিবীর যাত্রা শুরু হয়। ইতালীয় দার্শনিক ফ্যাসিবাদের প্রবক্তা ভিলফেডো পেরেটো মুসোলিনির শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য তত্ত্ব হাজির করেন-‘History is the graveyard of aristocracy,’ অর্থাৎ মানব ইতিহাস অভিজাততন্ত্রের সমাধিক্ষেত্র। কিন্তু পেরেটোর তত্ত্বকে মিথ্যা প্রমাণিত করে মুসোলিনির ভাগ্যে নেমে আসে করুণ পরাজয়। এরও আগে অষ্টাদশ শতাব্দীতে ফরাসি দেশের অত্যাচারী রাজা চতুর্দশ লুই ঘোষণা করেন, ‘I am the state, what I say is law.’ অর্থাৎ আমি রাষ্ট্র, আমি যা বলি তা-ই আইন। এ ঘোষণার কয়েক বছরের মাথায় ষোড়শ লুই’র রাজত্বকালে বাস্তিল দুর্গের পতনের মধ্য দিয়ে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়। রাজা ষোড়শ লুই এবং রানি মেরি আতোয়িকে গিলোটিনে চড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ওই দেশের বীর জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সেখানে রাজতন্ত্রের অবসান হয়। মানুষ মুক্তির স্বাদ গ্রহণ করে। ফ্রাঙ্কো ও মার্কোসের মতো অনেক স্বৈরশাসকের করুণ পরিণতির কথা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে।

গভীর পরিতাপের বিষয়, একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশক থেকে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটে। নিষ্ঠুর ও নিকৃষ্ট ফ্যাসিবাদী শাসক শেখ হাসিনা প্রায় ষোল বছর ধরে দুর্দান্ত প্রতাপে তার স্বৈরশাসন অব্যাহত রাখেন। ফলে জনগণের জীবনে নেমে আসে এক দুর্বিষহ অমানিশার ঘোর অন্ধকার। তার অবিচার, অত্যাচার, নিপীড়ন, নির্যাতন, গুম, খুন, সম্পদ লুণ্ঠন. শোষণ, বঞ্চনা ও অধিকার হরণের কাহিনি বিশ্বের যে কোনো বিবেকবান মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও শিহরণ সৃষ্টি করবে। অবশেষে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার বিদ্রোহ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। দাম্ভিক হাসিনা তার পতনের কিছুদিন আগে ঘোষণা দেন, ‘হাসিনা পালায় না।’ ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, এ ঘোষণার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে নির্লজ্জভাবে তিনি দেশ থেকে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এ বিপ্লবের, এ গণ-অভ্যুত্থানেরর নেতৃত্ব প্রদান করে। ছাত্র-জনতার বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তের বিনিময়ে সূচনা হয় এক নবযুগের।

২০০৭ সালের জানুয়ারিতে দেশে অন্ধকার যুগের সূচনা হয়েছিল, সে অন্ধকার ধীরে ধীরে সমগ্র দেশ ও জাতিকে গ্রাস করেছিল। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, লুটপাট, হত্যা, গুম, অপহরণ, খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি সমগ্র সমাজকে পঙ্গু করে ফেলে। এর ফলে দেশ ও জাতি গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়।

ইউরোপে মধ্যযুগকে বলা হতো অন্ধকার যুগ। কারণ তখনকার যাজক-শাসক শ্রেণির সীমাহীন শোষণ, নির্যাতন, অত্যাচার, অনাচারে মানুষের জীবনে নেমে আসে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। অবশেষে পঞ্চদশ শতাব্দীতে (১৪৫৩ সালে) রেনেসাঁসের সূত্রপাত এবং এরই ধারাবাহিকতায় রিফরমেশন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মানুষ মুক্তির সন্ধান পায়। শেষ হয় অন্ধকার যুগের, সূত্রপাত হয় আধুনিক যুগের। নিজস্ব শক্তিতে বলীয়ান, কর্মঠ, যুক্তিঋদ্ধ মানুষ বিপ্লবের পর বিপ্লবের ভেতর দিয়ে ইউরোপের সমাজ ও সভ্যতাকে বিকাশের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) আবির্ভাবের আগে তদানীন্তন আরব দেশও অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। পাপ, পঙ্কিল, কুসংস্কারের সেই সময়টাকে বলা হতো আইয়ামে জাহেলিয়া। কিন্তু আইয়ামে জাহেলিয়া যুগের অবসান হয়েছিল মহানবীর (সা.) অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা, সংগ্রাম এবং শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রচারের মধ্য দিয়ে। অনেক বন্ধুর পথ অতিক্রম করে তখনকার আরববাসীকে তিনি আলোর সন্ধান দিয়েছিলেন।

বিগত দেড় দশকের বাংলাদেশের সময়টা অনেকটা আরবের আইয়ামে জাহেলিয়া এবং মধ্যযুগের কৃষ্ণ সময়ের সঙ্গে তুলনীয়। শাসক শ্রেণির শোষণ, নির্যাতন, নিপীড়ন, সীমাহীন দুর্নীতি, শেয়ারবাজার লুট, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং সর্বোপরি সরকারদলীয় পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক টাকা লুটের মাধ্যমে দেশকে সর্বস্বান্ত করে দেওয়া হয়; যার ফলে জনগণের কপালে নেমে এসেছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।

ফ্যাসিবাদ, রাজতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র ও অভিজাততন্ত্রের যুগ পেরিয়ে আমরা প্রবেশ করেছি গণতন্ত্রের যুগে। সারা বিশ্ব আজ স্বাধীনতা ও সাম্যের জয়গানে মুখরিত। তাই স্বাধীনতা কথাটি সবার কাছে অতিপ্রিয়। যে কোনো জাতির জীবনে বা জাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ ও গৌরবময় অধ্যায় হলো, সে জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম। বাংলাদেশের বাঙালি জাতির সবচেয়ে মহান অর্জন তার স্বাধীনতা। এ জাতির সবচেয়ে গর্বের বিষয় মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা। বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। স্বাধীনতা যুদ্ধ তাই আমাদের এক পরম গর্বের বিষয়।

১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করার পর অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই আশা করা হয়েছিল, বাংলাদেশ হয়ে উঠবে বিশ্বে সাম্য ও গণতন্ত্রের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। পরম দুর্ভাগ্য, আমাদের সেই বহু লালিত স্বপ্ন থেকে যায় সুদূরপরাহত, কোনো এক অজ্ঞাত অন্ধকারে নিমজ্জিত। এ অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হচ্ছে গণতন্ত্রহীনতা। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, গণতন্ত্র হচ্ছে উন্নয়ন ও অধিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাহন; যার অনুপস্থিতি বা বিকৃতি একটি রাষ্ট্র বা সমাজের প্রকৃত বন্ধনমুক্তির সব পথ রুদ্ধ করে দেয়।

বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের আগের দেড় দশকে প্রতি মুহূর্তে প্রত্যক্ষ করেছি ফ্যাসিবাদের বিলুপ্ত প্রেতাত্মার পুনরুত্থান। এক নিষ্ঠুর ও নিকৃষ্ট ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে আমাদের দেশ। ওই দেড় দশকে এ ধারা গণতন্ত্রের কবর রচনা করে জনগণের সব ধরনের অধিকার হরণ করেছে। এ প্রক্রিয়ার অন্যতম হাতিয়ার ছিল নির্বাচন চুরি। তস্করবৃত্তির মাধ্যমে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল এবং এ অবৈধ দখলকে কায়েম রাখার স্বার্থে গুম, হত্যা, বিনা বিচারে আটক, নির্বিচারে গ্রেফতার তথা সব ধরনের রাষ্ট্রীয় ত্রাস ও সন্ত্রাসের এক বীভৎস রাজত্ব গড়ে তোলা হয়। সীমাহীনভাবে লঙ্ঘন করা হয় মানবাধিকার। এসবের পাশাপাশি অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলে জনগণ ও রাষ্ট্রের সম্পদের অবাধ লুণ্ঠন। জাতীয় সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়, গড়ে তোলা হয় সম্পদের পাহাড়। গণতন্ত্রহীন এমন এক দুর্বিষহ দুষ্কালে প্রতিবাদের কণ্ঠগুলো স্তব্ধ করার হীন চেষ্টা অব্যাহত থাকে। আমরা অবশ্যই ইতিহাসের অনিবার্য গতি ও পরিণতির শিক্ষা ভুলে যেতে পারি না। আমরা ইতিহাসের প্রতি উদাসীন থাকলেও ইতিহাস জড়িয়ে থাকে আমাদের জীবনের পরতে পরতে।

বিশ্বের মুক্তিপাগল মানুষের মতোই বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম, ছাত্রসমাজ ও জনগণ স্বৈরাচারের শাসন থেকে মুক্তির লক্ষ্যে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলে। সব দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি, বুদ্ধিজীবী ও শ্রমিক সংগঠন, ছাত্র ও যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে দেশের সুশীল সমাজ একযোগে এ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা, গুম ও শোষণ-বঞ্চনার কথা সবার জানা। তার অলিন্দ উপচে পড়েছিল স্বৈরাচারের সব ধরনের উপাদানে-কী অর্থনীতি, কী রাজনীতি, কী সমাজ-সংস্কৃতি-সর্বত্র হাসিনার আগ্রাসী স্বৈরতন্ত্র ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্ষুধার্ত হায়েনার মতো। বিশ্বের বহু স্বৈরাচারীর অসংখ্য ‘কীর্তি’ বিবর্ণ হয়ে গেছে হাসিনার ‘মহাকীর্তির’ কাছে। আলাদীনের দৈত্য ফ্যাসিবাদের সব চেরাগ ধরিয়ে দেয় হাসিনার হাতে এবং ইতিহাস আতঙ্কে হেসে উঠেছে তার অবধারিত বিনাশের গতিপথের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে।

গণ-আন্দোলনেই যে হাসিনার স্বৈরতন্ত্রের ঐতিহাসিক পতন হবে-এ বিষয়ে আমি আগেই সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করি। স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-জনতার এ ঐতিহাসিক বিজয়লগ্নে দাঁড়িয়ে আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, এবারের গণ-আন্দোলন বৈশিষ্ট্যগত ও গুণগতভাবে ছিল বহুলাংশে ভিন্নতর-মৌলিকতার দিক থেকে এবং এর প্রকৃতির দিক থেকে। বাংলাদেশের জনগণ তাদের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিন্যাস ও পটভূমির আলোকেই আজ এক নতুন রেনেসাঁর জন্ম দিয়েছে। আমার বহু প্রত্যাশিত এ রেনেসাঁ ইউরোপের মতো নয়; চরিত্রগতভাবে এ রেনেসাঁ শুধু বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনার ক্ষুরধার দিয়ে ইহলৌকিকতার জয়গান নয়-এ রেনেসাঁ জাতীয় মুক্তির চেতনায় আলোকিত একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রেনেসাঁ। এ নব উন্মেষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধের এক সম্মিলিত অঙ্গীকার। এ নবজাগরণ একটি জাতিকে নব উদ্বোধনের চালিকাশক্তি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। আমার বহু লালিত এ রেনেসাঁ বাংলাদেশের সামগ্রিক জাতীয় চেতনা, আবেগ ও প্রত্যাশার এক উজ্জ্বল অগ্রদূত। এ দেশের ছাত্রসমাজ এ রেনেসাঁর জন্ম দিয়েছে। তারা সম্পূর্ণরূপে বদলে দিয়েছেন রেনেসাঁর চিরাচরিত ধারণা। তারা স্বৈরতন্ত্রের পতনের মধ্য দিয়ে ভাবমানসের অতীন্দ্রিয় কুহক থেকে রেনেসাঁকে সরিয়ে এনেছেন গণতন্ত্রের মুক্তি। তারা মহামতি কার্ল মার্কসের সেই অমর বাক্যের মূর্ত রূপ দিয়েছেন বাংলাদেশে : ‘Philosophers have hitherto interpreted history, now the task is to change it’. বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ মার্কসের গভীর প্রত্যাশাকে আজ পূর্ণ করেছে। তারা আবদ্ধ কক্ষের গ্রন্থঠাসা আলো-আঁধারিতে বসে তথ্য ও তত্ত্বের সারণি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে মস্তিষ্ক উত্তপ্ত করেননি; তারা গণমানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতার সংগ্রামে সেনানায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। মার্কস ‘পরিবর্তনের’ যে আশার কথা বলতে চেয়েছিলেন, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ সমগ্র দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সেই আশা পূর্ণ করেছে। ছাত্র-জনতা পরিণত হয়েছে সংগ্রামরত গণদার্শনিকে।

চব্বিশের সফল গণ-অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। প্রায় ১৮ মাস ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকেও অন্তর্বর্তী সরকার গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য অর্জনে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। অনেক সংস্কার কমিটি গঠন করলেও শিক্ষা সংস্কারের জন্য কোনো কমিটি গঠন করেনি এবং এ ক্ষেত্রে কোনো উদ্যোগ লক্ষ করা যায়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের এমন উদাসীনতা জাতিকে হতাশ করেছে।

তবে আনন্দের কথা হলো, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এ সরকারের অধীনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বহুদিন পর দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ লাভ করেছে। এ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠন করে। মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করে। এর সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হয়। গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু হয়। তবে গণতন্ত্রের এবং শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার এ যাত্রাপথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। নতুন সরকারকে এ বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে হবে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, নগ্ন দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণ-অভ্যুত্থানের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকারকে সচেষ্ট হতে হবে। পুরোনো ধারার রাজনীতি পরিহার করে যুগের চাহিদা পূরণে সক্ষম এমন ধারার রাজনীতির চর্চা করতে হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর জ্ঞানভিত্তিক মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সোনালি স্বপ্নের সঙ্গে আমরাও একাত্মতা প্রকাশ করছি।

ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী : প্রফেসর ইমেরিটাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, সাবেক রাষ্ট্রদূত

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম