Logo
Logo
×

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

শতফুল ফুটতে দাও

তিস্তা মহাপ্রকল্প নিয়ে আর বিলম্ব নয়

Advertisement

ড. মাহবুব উল্লাহ্

ড. মাহবুব উল্লাহ্

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

তিস্তা মহাপ্রকল্প নিয়ে আর বিলম্ব নয়

সংগৃহীত

Advertisement

নদীমাতৃক বাংলাদেশের জন্য ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত অভিন্ন নদীগুলো দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের এ নদীগুলোর উচ্চপ্রবাহ ভারতে অবস্থিত। ভারত এসব নদীর পানি বেআইনিভাবে প্রত্যাহার করে বাংলাদেশকে তৃষ্ণার্ত করে মেরে ফেলার ফন্দি এঁটেছে। দুদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী আছে। এগুলোর মধ্যে গঙ্গা ও তিস্তার পানি নিয়েই বাংলাদেশের চরম উদ্বেগ। ফারাক্কায় বাঁধ দিয়ে গঙ্গার পানি ভাগীরথীর দিকে প্রবাহিত করে বাংলাদেশে গঙ্গার স্বাভাবিক স্রোতধারা পদ্মা নদীকে হত্যা করার আয়োজন করা হয়েছে। ভারতীয়রা দাবি করেছিল, ভাগীরথীর পানির প্রবাহ বৃদ্ধি করতে পারলে কলকাতা বন্দরে পলিমাটি জমা হ্রাস পাবে এবং কলকাতা বন্দরটি নাব্য হয়ে উঠবে। কিন্তু বাস্তবে কলকাতা বন্দরের নাব্য উদ্ধার হয়নি। বরং উজানে গঙ্গার স্রোত প্রবাহের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় বিহারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিহারের নেতা নিতিশ কুমার ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা ও নিন্দা করেছেন। বাংলাদেশে অনেকে নিতিশ কুমারের এ অবস্থানকে অভিনন্দিত করে একে বলেছেন, ভারতে ফারাক্কা বাঁধবিরোধী কণ্ঠ।

ভারত উজানে বাঁধ দিয়ে তিস্তার স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ রুদ্ধ করে দিয়েছে। ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের বেশ কাছাকাছি গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণ করে তিস্তার পানি সরিয়ে নিচ্ছে। এ ছাড়া তিস্তার আরও উজানে সিকিমে অসংখ্য বাঁধ নির্মাণ করে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে এবং তার পাশাপাশি পানিও প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিস্তার মতো একটি খরস্রোতা নদী বাংলাদেশ অংশে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। বর্ষার সময় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও পানির প্রবাহ যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বাঁধগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়, তখন ভারত জলকপাটগুলো খুলে দিয়ে বাংলাদেশে হঠাৎ প্লাবনের সৃষ্টি করে। ফলে বাংলাদেশ অংশে বিষয় সম্পদের প্রভূত ক্ষতি হয়।

তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বহু আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কোনো সম্মত সিদ্ধান্ত হয়নি। এর জন্য ভারতের একগুঁয়েমি ও আধিপত্যবাদই দায়ী।

২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশ সফরে এলে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে একটি চুক্তি হবে বলে বাংলাদেশে বিপুল আশাবাদ সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে ভারতপন্থি মিডিয়াগুলো নির্লজ্জ ভূমিকা পালন করে। সে সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন ভারতের অতিঘনিষ্ঠ শেখ হাসিনার সরকার। এতদসত্ত্বেও তিস্তা নিয়ে কোনো চুক্তি হলো না। বলা হলো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অসহযোগিতার কারণেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। কিন্তু ওটা ছিল নিছক ছুতা মাত্র।

বাংলাদেশের জনগণ বুঝতে পেরেছে প্রযুক্তি ও পানিবিদ্যা ব্যবহার করে বাংলাদেশকে তিস্তার সমস্যার সমাধান খুঁজে পেতে হবে। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি ন্যায়সংগত অবস্থান। ভারত তিস্তার পানি না দিয়ে বছরের পর বছর সমূহ ক্ষতি করেছে। এর জন্য তারা কোনো ক্ষতিপূরণ দেবে না। বরং নানাভাবে বাগড়া সৃষ্টি করে তিস্তা প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে বাধা সৃষ্টি করছে। শুধু তাই নয়, তিস্তায় চীনা প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা কাজ করলে ভারতের নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ভারত ধোঁয়া তুলে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে বাধা সৃষ্টি করে।

বর্তমানে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ৩টি বড় শক্তির মধ্যে দ্বন্দ্ব ও প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ খানিকটা বিপাকে পড়ে গেছে বলেই মনে হয়। বাংলাদেশের জন্য এ যেন জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ অবস্থা। এ বিশেষ পরিস্থিতি নিয়ে দৈনিক আমার দেশ ১৫ সেপ্টেম্বরের প্রধান প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘তিস্তা নিয়ে চীন-মার্কিন প্রতিযোগিতা।’ এ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তিস্তা প্রকল্পে যুক্ত হতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে তাদের আগ্রহের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশ সফরে এসে তিস্তা ব্যারাজ এলাকা পরিদর্শনও করে গেছে।

দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যৌথ সমীক্ষা চালাতে বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে যৌথ বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঠিক সেসময় প্রকল্পটিতে যুক্ত হতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের বিষয়টি অনেক চিন্তার জন্ম দিয়েছে। কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হঠাৎ করে তিস্তা প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ ভূরাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ। যুক্তরাষ্ট্র চাচ্ছে না তিস্তা প্রকল্পের সার্থক সঙ্গী হয়ে চীন কোনো রকমের কৃতিত্ব অর্জন করুক। চীন যদি এ প্রকল্পে সার্থক সহায়তা দিয়ে একে সফল করতে পারে এবং বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের জনজীবনে মঙ্গল বয়ে আনতে পারে তাহলে এ অঞ্চলের জনগণের মধ্যে চীনের প্রতি সৌহার্দ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে। আমার মনে হয় ভূরাজনীতিতে মানুষের মন জয় করার ব্যাপারটি অস্ত্র দিয়ে দেশ দখল বা জয় করার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর সহায়তা জোগায়। এ প্রসঙ্গে মিসরের নীল নদে আসোয়ান ড্যাম নির্মাণের কাহিনিটি স্মরণ করা যায়। ওই সময় মিসরের রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন জামাল আব্দুল নাসের। তিনি আসোয়ান ড্যাম নির্মাণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য কামনা করলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র জামাল আব্দুল নাসেরের আহ্বানে সাড়া দিল না। বরং নাসেরের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করল। বিফল মনোরথ হয়ে নাসের আসোয়ান ড্যাম নির্মাণে তৎকালীন সোভিয়েত সাহায্য কামনা করলেন। সোভিয়েত ইউনিয়ন আগ্রহভরে আসোয়ান ড্যাম নির্মাণ করে দিয়ে মিসরের জনগণের জন্য উন্নয়নের রাস্তা খুলে দিল। যতদিন জামাল আব্দুল নাসের ক্ষমতায় ছিলেন এবং একইসঙ্গে বেঁচেছিলেন, ততদিন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মিসরের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অত্যন্ত দৃঢ় ছিল। মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র আসোয়ান ড্যামের অভিজ্ঞতার আলোকেই বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের কৃতিত্ব থেকে দূরে সরে থাকতে চায় না।

সমস্যা হলো, চীন অনেক আগে থেকেই তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বিশেষ উৎসাহ দেখিয়ে আসছে। তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ দোটানায় পড়ে গিয়েছিল। চীনা অর্থায়নের বিষয়টি যখন চূড়ান্ত, ঠিক সে মুহূর্তে হঠাৎ তিস্তা প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয় ভারত। এতে থেমে যায় তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে মার্কিন বিশেষজ্ঞ দলের তিস্তা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন মার্কিন সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞ দলের নেতৃত্বে ছিলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ড. ক্যালভিন ক্রিচ। তিনি মার্কিন ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সিনিয়র পানি বিশেষজ্ঞ এবং নদী প্রকৌশলের বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ। সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদী ভূ-আকৃতিবিদ্যা, পলি পরিবহণ মডেলিং, ড্রেজিং এবং নৌ-চলাচল বিষয়ে দুই দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে এ মার্কিন বিশেষজ্ঞের। মার্কিন এ সামরিক বিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ দলের তিস্তা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন নিশ্চিতভাবেই এ প্রকল্পে ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত মাত্রা যোগ করেছে। এর আগে গত ২০ আগস্ট মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আনুষ্ঠানিকভাবে তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন করেন। তবে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়, কেন এবং কীভাবে এ প্রকল্পে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুক্ত হতে চায়, সেটাই বিরাট জিজ্ঞাসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তারা তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে একটি চিঠি দিয়ে। সেই চিঠিতেও বলা হয়নি তারা আসলে কী করতে চায়। আমার দেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে তারা ইকোলজিক্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট করতে চায়। দিন গড়ালে তাদের আসল মতলব স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

ভারতইবা কী করতে চায়? ভারতের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাই হোক না কেন, তারা তাদের নাক গলিয়ে চীনকে ঠেকাতে চায়। এ ব্যাপারে মার্কিনিদের সায় থাকতে পারে। এ মুহূর্তে ভারত মার্কিন সম্পর্ক খুব মসৃণ না হলেও চীনকে ঠেকাতে মার্কিনিরা ভারতকে পাশে চাইতে পারে-এমনটি অস্বাভাবিক কিছু নয়।

২০১৬ সাল থেকে চীনের সঙ্গে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। এ মুহূর্তে চীন বেশ সক্রিয়। ২০২০ সালে প্রকল্প থেকে চীনকে সরাতেই ভারত ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু এ মুহূর্তে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক খুব স্বস্তিদায়ক নয় বলে ভারত এ ব্যাপারে উচ্চবাচ্য করছে না। তারা দূর থেকে দাঁড়িয়ে তিস্তা নিয়ে চীন-মার্কিন প্রতিযোগিতা প্রত্যক্ষ করে মজা পাচ্ছে। অন্যদিকে এ অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতি বেড়ে যাক তাও ভারতের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। ঐতিহাসিকভাবে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ভোগ করতে পিছপা না হয়েও আঞ্চলিকভাবে ভারত মার্কিন প্রভাব দূরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছে। এখন ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার একটি সামরিক চুক্তি আছে। এ চুক্তির বদৌলতে ভারতে ৩ হাজার রুশ সৈন্য অবস্থান করবে এবং একইভাবে রাশিয়াতে ৩ হাজার ভারতীয় সৈন্য অবস্থান করবে। আমরা জানি না এ সৈন্যদের স্ট্র্যাটেজিক প্রিমিয়ার্ডনেস কত গভীর এবং ভারতীয় সৈন্যরা রাশিয়ার কাছ থেকে কোন ধরনের সামরিক প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জন করছে? অতিসম্প্রতি দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন উপলক্ষ্যে দীর্ঘ ৭ বছর পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দিল্লি সফরে এসেছিলেন। মোদি ও শি জিনপিং করমর্দন করেছেন, কিন্তু কোলাকুলি করেননি। তারা উভয়ে সীমান্ত সমস্যা ও বাণিজ্য নিয়ে কথা বলেছেন। মোদি শি জিনপিংকে আশ্বস্ত করার জন্য বলেছেন, চীনবিরোধী তৎপরতা পরিচালনায় কাউকে ভারতের মাটি ব্যবহার করতে দেবে না। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আগামী দিনে এ দুদেশের সম্পর্কে কতটুকু অগ্রগতি হয়, তা বৈশ্বিক রাজনীতির গতিশীলতায় প্রভাব ফেলবে। আমাদের অবশ্যই এসব বিষয়ে নজর রাখতে হবে।

আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিযোগিতার স্বরূপ কী দাঁড়ায় তা বাংলাদেশকে সাবধানতার সঙ্গে দৃষ্টির মধ্যে রাখতে হবে। বাংলাদেশ অবশ্যই একদিকে যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোষানলে পড়ার সামর্থ্য রাখে না, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু চীনের কাছ থেকেও মুখ ফেরাতে পারে না। বাংলাদেশ স্বচ্ছতার নীতি অনুসরণ করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে পারস্পরিক অবস্থান সম্পর্কে জানান দিতে হবে। কূটনীতিতে খোলামেলা হওয়ারও সুফল আছে।

২০২২ সালে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চালানো সমীক্ষার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ করে চীন সরকার। প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রকল্প সহায়তার ঘোষণাও দেয় চীন সরকার। তবে তখন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কোনো চুক্তি সই হয়নি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরের সময় তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চুক্তি সই হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘোষণার পরপরই ২০২৪ সালের ৮ মে ঢাকায় উড়ে আসেন ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন ওয়াত্রা। তিনি শেখ হাসিনাকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানান। ওই বছরের ২১, ২২ জুন ভারতে রাষ্ট্রীয় সফর করেন হাসিনা। দিল্লি সফরের মাত্র ২ সপ্তাহ পর ৮-১০ জুলাই বেইজিং সফর করেন তিনি। ওই সফরে তিস্তার ইস্যুটি এড়িয়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে খালি হাতে ফিরতে হয় শেখ হাসিনাকে। এরপর ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে হাসিনা ঘোষণা করেন, তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন প্রস্তুত। কিন্তু আমি চাই, এ প্রকল্প ভারত বাস্তবায়ন করুক। ভারতের সেবাদাসী শেখ হাসিনা তার প্রভুর তারেই সুর তুলেছেন।

তিস্তা মহাপ্রকল্পটি বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। অনতিবিলম্বে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হোক এটাই এ দেশবাসীর আকাঙ্ক্ষা। প্রকল্পটি নিয়ে বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের জন্য ব্যয়ের বোঝা বাড়িয়ে দেবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন যত বিলম্বিত হবে, বাংলাদেশের ক্ষতির পরিমাণ ততই বাড়বে। বাংলাদেশকে স্পষ্ট করতে হবে যে, দেশ বিলম্বের বোঝা আর বহন করতে চায় না। আরও স্পষ্ট করতে হবে, এ প্রকল্পের চাবিকাঠি বাংলাদেশের হাতেই থাকবে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর স্পান্দৌ কারাগারের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা পালাক্রমে ৩ বৃহৎ শক্তির হাতে ছিল। তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারত ছাড়া শুধু চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে সেই মডেলে কোনো সমাধান হতে পারে কিনা তাও ভেবে দেখতে হবে। অবশ্য এ প্রকল্পে বাংলাদেশের অবস্থান থাকবে সর্বময়।

ড. মাহবুব উল্লাহ : জাতীয় অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম