Logo
Logo
×

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

শিক্ষা সংস্কারে জিয়ার দর্শন

Advertisement

Icon

আবদুল্লাহ আল যোবায়ের ও মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষা সংস্কারে জিয়ার দর্শন

ফাইল ছবি

Advertisement

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছে মানুষ। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের কবলে রাষ্ট্রের ভেঙে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এক আরাধ্য স্বপ্ন। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে পেশাদারত্ব ফেরানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রের নীতিগত পরিবর্তনও জরুরি। তাই দলীয় লুটপাট আর ক্ষমতার প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দেওয়ার মতো নৈতিক দর্শন সামনে থাকতে হবে, যার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রত্যেক মানুষ আদর্শ নাগরিক হিসাবে গড়ে উঠবে, রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে, সহিষ্ণুতা ও ন্যায্যতার প্রতি অনুরাগী হবে। জাতি গঠনের এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে শুধু একটি ভিশনারি শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন এমনই একজন রাষ্ট্রনায়ক, যার দূরদর্শী চিন্তা ও বাস্তববাদী কৌশল পর্যালোচনা করলে সেই স্বপ্নের পথে ধাবিত হওয়ার দিশা পাওয়া যায়।

জিয়াউর রহমান মূলত স্মরণীয় হয়ে আছেন তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপের জন্য। কিন্তু তার দর্শনের যে ভিত্তি জাতীয়তাবাদ, আত্মনির্ভরতা ও নৈতিকতা-তা পথ দেখাতে পারে শিক্ষা খাতের সংস্কারে। গত দেড় দশকে নানা খাতে উন্নয়নের অলীক গল্প তৈরি হয়েছে। সেগুলোর পদে পদে ছিল দুর্নীতি, লুটপাট, অর্থ পাচার। ফলে কোনো কাজই টেকসই হতে পারেনি। পড়ালেখার গুণগত মানের চরম অবনতি, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দখলদারি, ছাত্রদের ‘সহমত ভাই’ হয়ে ওঠা ও নৈতিক অধঃপতনের এক মহামারি দেখা গেছে। এ পতনোন্মুখ শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো দরকার। শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তকে ‘দলীয় চেতনা’ আর ‘উন্নয়ন প্রচারণা’র পরিবর্তে মানবিকতা, যুক্তি ও সৃজনশীলতার প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। তরুণদের মধ্যে নাগরিকতার প্রকৃত দর্শন উপলব্ধি করাতে, সামাজিক বৈষম্য ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা শেখাতে এবং তাদের বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে অভিযোজিত হতে সময়োপযোগী বাস্তবধর্মী শিক্ষা ভাবনার সময় এসেছে।

জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব নেন, প্রথমেই রাষ্ট্রের আদর্শিক ও নীতিগত পরিবর্তন আনেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন জাতীয় পরিচয় নির্ধারণ করেন-বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। তিনি ১৯৭৭ সালে ড. মফিজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। এ কমিশন নৈতিক শিক্ষা প্রচার, ইসলামি শিক্ষার পুনরুজ্জীবন এবং পেশাগত দক্ষতাকে মূলধারার পাঠ্যক্রমে সংযুক্ত করার সুপারিশ করে। জিয়া এমন একটি পাঠ্যক্রমকে উৎসাহিত করেন, যা ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করে, বিশেষত কৃষিনির্ভর অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে। এ দৃষ্টিভঙ্গি ছিল আত্মনির্ভরতার বৃহত্তর অঙ্গীকারের অংশ। পশ্চিমা একাডেমিক মডেলের অনুকরণ না করে জিয়া এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থার কথা বলেন, যা নাগরিকের নৈতিক চরিত্র শক্তিশালী করে এবং একইসঙ্গে উদ্যোক্তা মনোভাব, শ্রমের মর্যাদা এবং তৃণমূল উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে। তিনি প্রায়ই জাপানের উদাহরণ দিতেন, যেখানে একটি শিক্ষিত ও সুশৃঙ্খল কর্মীবাহিনী যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দেয়।

১৯৭৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়া ঢাকায় একটি ‘শিক্ষা ওয়ার্কশপে’র আয়োজন করেন। এতে সারা দেশ থেকে সহস্রাধিক শিক্ষক, গবেষক, বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের নতুনত্ব সৃষ্টি করতে হবে। পুরোনো দিনের পদ্ধতি দিয়ে চলবে না। বর্তমানে যেভাবে চলছি, সেভাবে চললে যদি হতো, তবে আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যেত। তাহলে আজকে আমরা এখানে ১০/১২ ঘণ্টা বসে থাকতাম না। তাই আমাদের নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হবে। তবে সে নতুনত্ব যেন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। যদি আমরা এমন কিছু জনগণের কাছে নিয়ে যাই, যা গ্রহণযোগ্য হবে না, তবে যত তাড়াতাড়িই আপনারা এটা বানান না কেন, সে রিপোর্টে কোনো লাভ হবে না।’

রাষ্ট্রপতি জিয়ার এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায় তিনি জনমতকে কতটা গুরুত্ব দিতেন; জনগণের ধর্ম, সংস্কৃতি ও অনুভূতিকে তিনি কতটা মূল্যায়ন করতেন। সেই অনুযায়ী তিনি কারিকুলাম, শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিক্ষার মূল্যায়ন, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক ও শিক্ষা প্রশাসন ঢেলে সাজানোর নির্দেশনা দেন।

১৯৮০ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়া যখন তার স্বনির্ভর গ্রাম সরকার কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, তখন গ্রাম সরকারের চারটি অগ্রাধিকার কার্যক্রম নির্ধারণ করেন। এ কার্যক্রমের অন্যতম ছিল প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার। ওই বছরই তিনি দেশে সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা ও বয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচি প্রবর্তন করেন। বয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসাবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের প্রত্যেক ছাত্রকে একজন নিরক্ষর ব্যক্তিকে অক্ষরদান বাধ্যতামূলক করে দেন। জিয়ার অনুরোধে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত প্রায় ১,৪৬,২০৫টি শিক্ষা-স্কোয়াডে ৩,৯১,২০৫ জন শিক্ষক সারা দেশে ৩৪৫টি থানায় নৈশ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্ক নিরক্ষর মানুষকে অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন করার কাজে নিয়োজিত হন।

জিয়ার দর্শনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া। তার শাসনামলে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণকেন্দ্র সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সংস্কারের লক্ষ্য ছিল একাডেমিক শিক্ষা এবং শ্রমবাজারের মধ্যে বিদ্যমান বিচ্ছিন্নতা দূর করা, যা আজও দেশের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এ দৃষ্টিভঙ্গির প্রাসঙ্গিকতা বর্তমানে আরও বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী যখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লব শুরু হয়েছে, তখন প্রযুক্তিগত এবং প্রয়োগমুখী দক্ষ কর্মীবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা আরও তীব্র হয়েছে। জিয়ার শিক্ষা অগ্রাধিকারে এ চাহিদার পূর্বাভাস পাওয়া যায়, যেখানে তিনি মাধ্যমিক স্তর থেকে ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষার পাঠ্যক্রমকে শুধু ধর্মীয় ও আরবি শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও কৃষি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করেন। যুগের চাহিদা ও জাতীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৯৭৬ সালের ১ ডিসেম্বর দেশে একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।

জিয়াউর রহমানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা ছিল ক্যাম্পাসে পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা। সত্তরের দশকের ছাত্র আন্দোলন এবং সহিংসতা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তিনি শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে উদ্যোগী হন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দখলদারি আধিপত্য, নিয়মিত শ্রেণি-পাঠের ব্যাঘাত, দলীয় নিয়োগ ও শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন তাকে বিচলিত করেছিল। তিনি শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা এনে শিক্ষাকে তার মৌলিক লক্ষ্য-জ্ঞান অর্জন ও গবেষণা-অভিমুখে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। এর অংশ হিসাবে তিনি ছাত্ররাজনীতি সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আচরণবিধি চালু করেন, নিয়োগ ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেন।

রাষ্ট্রপতি হিসাবে জিয়া শুধু আদেশ জারি করতেন না, তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীদের মোটিভেশন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে তিনিই প্রথম মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার ব্যবস্থা করেছিলেন। কৃতী শিক্ষার্থীদের বঙ্গবভবনে আমন্ত্রণ জানিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতেন। এমনকি তাদের উৎসাহিত করার জন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষাসফরেও যেতেন। জিয়ার লক্ষ্য ছিল এমন একটি মূল্যবোধভিত্তিক যুবসমাজ তৈরি করা, যারা দুর্নীতি, রাজনৈতিক অপব্যবহার এবং সাংস্কৃতিক বিভ্রান্তি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে।

উপরোক্ত নীতি-পদ্ধতি বিবেচনাপূর্বক আমরা নতুন বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারে একটি রূপরেখা পেতে পারি। জিয়ার দর্শন অনুযায়ী এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা কল্পনা করা যেতে পারে, যেখানে বাংলাদেশের জাতীয় গৌরব, ইসলামি ঐতিহ্য ও গ্রামীণ উন্নয়ন একত্রে জায়গা পাবে। শিক্ষা শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের মাধ্যম হবে না, বরং একটি নৈতিক, ব্যবহারিক ও জাতি গঠনের ব্যবস্থা হিসাবে বিবেচিত হবে।

এ লক্ষ্যে প্রথম ধাপ হবে জাতীয় শিক্ষানীতিতে ধর্মীয় মূল্যবোধ, সততা ও দেশপ্রেমের বিকাশ ঘটানো। পাঠ্যক্রমে ধর্ম ও সংস্কৃতির স্থান থাকতে হবে বৈচিত্র্যপূর্ণ ও শ্রদ্ধাশীলতার ভিত্তিতে। একইসঙ্গে অনলাইনে ঘৃণাচর্চা ও চরমপন্থার পরিবর্তে বৈশ্বিক চেতনার সমন্বয় ঘটিয়ে গ্লোবাল সিটিজেনশিপ অর্জনের দীক্ষা দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পাঠ্যক্রমের সঙ্গে টিভিইটি, ডিজিটাল স্কিল, এআই ও একুশ শতকের কর্মসংস্থান সংযুক্ত করতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব হ্রাস করে শিক্ষা ও গবেষণার জন্য একটি সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থায় বিনিয়োগ, স্থানীয় শিক্ষক নিয়োগ এবং আইসিটি সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে। নীতিনির্ধারকরা চাইলে একটি নতুন ‘ভিলেজ এডুকেশন হাব’ প্রকল্প হাতে নিতে পারেন, যেখানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার পাশাপাশি থাকবে কৃষি প্রশিক্ষণ, আইসিটি সেন্টার, স্বাস্থ্যসেবা, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রাত্রিকালীন ক্লাস এবং নারীদের জন্য উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি।

সার্বিক বিচারে জিয়াউর রহমানের শিক্ষাদর্শন ছিল একটি রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রকল্পের অংশ, যার মূলে ছিল জনগণের ক্ষমতায়ন। তার শিক্ষানীতিতে যে স্বতঃস্ফূর্ততা, সংস্কৃতি-সচেতনতা এবং কর্মমুখী ভাবনা ছিল, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আমরা যদি অতীতকে অন্ধভাবে অনুকরণ না করে, বরং প্রাসঙ্গিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্ব্যাখ্যা করতে পারি-তাহলে হয়তো একটি আত্মবিশ্বাসী জাতীয় পরিচয় গড়ে তুলতে পারব এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে একটি দক্ষ, নৈতিক ও সহনশীল সমাজে রূপান্তরিত করতে পারব।

লেখকদ্বয় : শিক্ষক ও গবেষক

Advertisement

বিএনপি

Advertisement

আরও পড়ুন

পূর্ণ শক্তির সার্ক আগের চেয়েও জরুরি

পূর্ণ শক্তির সার্ক আগের চেয়েও জরুরি

সুন্দরবনে হারানো নগরী : ইতিহাসের আরেক অধ্যায়

সুন্দরবনে হারানো নগরী : ইতিহাসের আরেক অধ্যায়

কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব বাড়াতে হবে

কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব বাড়াতে হবে

শতফুল ফুটতে দাও মোদির শাসন অবসান হচ্ছে!

মোদির শাসন অবসান হচ্ছে!

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম