নবীন-প্রবীণের যোগসূত্রে হোক স্মার্ট বাংলাদেশ
Advertisement
ইশতিয়াক আহমেদ মজুমদার
প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশকে ডিজিটালাইজড, টেকসই ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করার জন্য ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ সরকারের একটি সুদূরপ্রসারী ও কৌশলগত পরিকল্পনা। এটি এমন একটি জাতীয় পরিকল্পনা, যার লক্ষ্য প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করা, সরকারি পরিষেবার দক্ষতা বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করা। ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ধারণাটি স্মার্ট শহর নির্মাণ, ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরি, ই-কমার্সের প্রচার, নবায়নযোগ্য শক্তি, ই-গভর্নেন্স এবং টেকসই উন্নয়ন অনুশীলনসহ বিস্তৃত উদ্যোগ এবং পরিকল্পনাকে অন্তর্ভুক্ত করে।
১৯৭৫ সালের ১৪ জুন রাঙামাটি জেলার বেতবুনিয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্যাটেলাইট আর্থ স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে দেশে প্রথম তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়। পরবর্তীকালে ২০১৮ সালের ১২ মে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে দেশের সম্প্রচার ও টেলিযোগাযোগ খাতে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২০৪১ সাল নাগাদ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঘোষণা করেছেন, যা ডিজিটাল বাংলাদেশের পর দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। আদতে স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট এবং স্মার্ট সোসাইটিই হবে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার মূল ভিত্তি।
আগামীর স্মার্ট এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে নবীন-প্রবীণের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এজন্য প্রয়োজন নবীন-প্রবীণ উভয় নাগরিকদের মধ্যে ইতিবাচক ও আন্তঃপ্রজন্মগত সম্পর্ক গড়ে তোলা। দেশের সমাজব্যবস্থায় প্রবীণদের নবীনদের তুলনায় উচ্চমর্যাদা ও কর্তৃত্বের অধিকারী হিসাবে বিবেচনা করা হয়। দেশীয় সংস্কৃতিতে প্রবীণদের প্রতি সম্মান এবং তাদের নির্দেশনা ও পরামর্শকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। নবীনরা সমাজে অদম্য শক্তি, সাহস, উদ্ভাবনী মনোভাব এবং নতুন নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসে। তারা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ ও পারদর্শী, যা বিভিন্ন শিল্পের ডিজিটাল উদ্ভাবন ও রূপান্তরের জন্য সহায়ক। সাধারণত ডিজিটাল টুলস, সোশ্যাল মিডিয়া এবং নতুন ভাবধারার সঙ্গে তারা আরও বেশি পরিচিত; যা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক সম্পৃক্ততা নিশ্চিতে সহায়তা করে। এদের মধ্যে যারা বেশি প্রযুক্তি-সচেতন এবং উদীয়মান প্রবণ এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে আরও বেশি বোঝার অধিকারী, তারা সমাজে নতুন ধারণা এবং নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আসে। তাদের উচিত প্রবীণদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক তাদের ধারণা ও মতামতকে আমলে নিয়ে তাতে নতুনত্বের মাত্রা যোগ করা। একটি সুশৃঙ্খল সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সামাজিক সেতুবন্ধ তৈরি এবং তাদের চিন্তা-চেতনায় ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে নবীনরা সচেষ্ট থাকবে। এতে সামাজিক বন্ধন মজবুত হবে এবং সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে, প্রবীণদের যে অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ভান্ডার রয়েছে তা তরুণ প্রজন্মের পথপ্রদর্শনে অনন্য ভূমিকা রাখবে। দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং সামাজিক রীতিনীতি সম্পর্কে বিশদ অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান তাদের রয়েছে। ফলে তারা তরুণ প্রজন্মকে দিকনির্দেশনা এবং পরামর্শ দিতে পারে। একদিকে যেমন নবীনদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার এবং তাদের ধারণা শেয়ার করার সুযোগ দেওয়া উচিত, অন্যদিকে প্রবীণদের উচিত নবীনদের উৎসাহ ও সমর্থন দেওয়া। সেইসঙ্গে সে সব ধারণা বিবেচনায় আনা এবং তাদের পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা।
স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রবীণ-নবীনদের মধ্যে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সহনশীল সম্পর্ক গড়ে ওঠা প্রয়োজন; যেটি হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা আর ভালোবাসার। সেই সঙ্গে প্রয়োজন সহানুভূতিশীল হওয়া এবং একে অপরের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ, ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষাগুলোকে শুনতে ও বুঝতে সময় নেওয়া, যা বিশ্বাস ও সংহতির একটি চমৎকার মেলবন্ধন তৈরি করবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে নতুন নতুন প্রযুক্তিকে আলিঙ্গন করার প্রবণতা অনেক বেড়েছে, বিশেষ করে নবীনদের মধ্যে। প্রবীণরা নতুন এ ভাবধারার সঙ্গে কম স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন, যা ডিজিটাল বিভাজন তৈরি করছে। এ বিভাজন দূর করার পাশাপাশি ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং উদ্ভাবনী প্রচার এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে নবীন-প্রবীণদের একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সামাজিক অসংগতি, দুর্নীতি, অসমতা এবং উগ্রবাদের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রবীণ-নবীনের যোগসূত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে বাংলাদেশ একটি স্মার্ট ও প্রগতিশীল জাতি হিসাবে এগিয়ে যেতে পারবে।
উপদেষ্টা, প্যারেন্টস এজিং ফাউন্ডেশন
