Logo
Logo
×
   

Advertisement

বাতায়ন

স্বাধীনতার ঘোষণা : সেদিন কী ঘটেছিল

Advertisement

Icon

মেজর মো. শহিদুল আলম (অব.)

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম হলেও স্বাধীনতার ঘোষণার নিয়ে এখনও কেউ কেউ পানি ঘোলা করছে। এখনো অনেকে প্রশ্ন তোলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে শেখ মুজিবুর রহমান কি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, নাকি কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা বাঙালিকে যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল? নাকি পাকিস্তানি বাহিনীর সেই রাতের নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করে?

দাবি করা হয়, ২৫ মার্চ রাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে শেখ মুজিবুর রহমান ওয়্যারলেস, রেডিও, টেলিফোন ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতার বার্তা চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা জহুর আহমেদ ও হান্নান সাহেবের কাছে পাঠান, যা পরে কালুরঘাট বেতার থেকে প্রচারিত হয়। কিন্তু ঢাকার নেতাদের বাদ দিয়ে কেন তিনি শুধু চট্টগ্রামের নেতাদের এ বার্তা পাঠালেন, তার কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল বা প্রমাণ আজও উপস্থাপিত হয়নি।

ফলে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ২৫ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয়টি এখনো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।

১৯৭১ সালের এপ্রিলের শুরুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। তখন ইন্দিরা গান্ধীর প্রশ্ন ছিল, যদি তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে গিয়েছিলেন, তবে তিনি ধরা দিলেন কেন? প্রশ্নটি ছিল একেবারেই স্বাভাবিক, যুক্তিনির্ভর এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কিন্তু এ প্রশ্নের গভীরে প্রবেশ করে উত্তর খোঁজার চেষ্টায় আমাদের অধিকাংশ গবেষক, ইতিহাসবিদ বা লেখক খুব বেশি আগ্রহ দেখাননি। অনেকে ইন্দিরা গান্ধীর এ প্রশ্নকেই উপেক্ষা করেছেন। কারণ এর ভেতরে লুকিয়ে ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের গ্রেফতারপূর্ব অবস্থান, তার রাজনৈতিক কৌশল এবং স্বাধীনতার ঘোষণার প্রামাণ্যতা নিয়ে বিতর্কের বিষয়। ফলে পাঠকের কাছে এ প্রসঙ্গের যথাযথ বিশ্লেষণ পৌঁছায়নি।

বলা হয়ে থাকে, ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ বেলাল মোহাম্মদ মজা করে মেজর জিয়াউর রহমানকে বলেন, তিনি মাইনর আর জিয়া মেজর, তাই জিয়ার কণ্ঠে ঘোষণা দিলে তা বেশি গ্রহণযোগ্য হবে। জিয়া এতে রাজি হয়ে ইংরেজিতে বক্তব্য লেখেন। বেলাল মোহাম্মদ সেই লেখা বাংলায় রূপান্তর করে অধ্যাপক মমতাজ উদ্দীনকে দেখিয়ে মেজর জিয়ার কণ্ঠে তা স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে প্রচারের ব্যবস্থা করেন। প্রথম ঘোষণায় জিয়া নিজেকে বাংলাদেশের প্রভিশনাল হেড হিসাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

এ আর মল্লিক তার ‘আমার জীবন কথা ও বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, তিনি জিয়ার এ ঘোষণায় আপত্তি জানান। তার যুক্তি ছিল, আন্তর্জাতিক সমর্থন পেতে হলে স্বাধীনতার ঘোষণা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে হওয়া উচিত, কারণ জিয়াকে তখন বিশ্বমঞ্চে কেউ চিনত না। তার পরামর্শে ঘোষণাটি পুনর্বিন্যাস করা হয় এবং আবার শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে জিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

স্বাভাবিক প্রশ্ন জাগে, বেলাল মোহাম্মদ যিনি ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারে যুক্ত ছিলেন, তিনি কি জিয়াকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার কথা জানিয়েছিলেন? তাহলে জিয়া যখন নিজেকে প্রভিশনাল হেড হিসাবে ঘোষণা লিখেছিলেন, তখন তিনি বা অধ্যাপক মমতাজ উদ্দীন কেন তা সংশোধন করেননি। এমনকি মল্লিকও কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার কিছু উল্লেখ করে জিয়ার ঘোষণার বিরোধিতা করেননি, তিনি শুধু জিয়ার পরিচিতি নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন।

তাহলে ২৬ মার্চ যে স্বাধীনতার ঘোষণাটি প্রচারিত হয়, সেটি কি সত্যিই শেখ মুজিবুর রহমানের বাণী ছিল?

এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় তৎকালীন ইপিআরের ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলামের (বীরউত্তম) বর্ণনায়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২৬ মার্চ সকালে বেতারে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে তিনি চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতাদের অনুরোধ করেন। পরে কয়েকজন নেতা মিলে একটি ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করেন, যা ড. জাফর সম্পাদনা ও শুদ্ধ করেন। চট্টগ্রামের স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের সংগঠক বেলাল মোহাম্মদ জানান, সেদিন দুপুরে বিশেষ অনুষ্ঠানে এম এ হান্নান শেখ মুজিবুর রহমানের নামে সেই ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন। এসব বিবরণ থেকে স্পষ্ট হয় ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতারকেন্দ্র’ থেকে এম এ হান্নান যে ঘোষণাটি প্রচার করেন, তা শেখ মুজিবের নামে প্রচারিত হলেও সেটি তার পাঠানো বার্তা ছিল না।

‘মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, ১৯৭১ সালের জুন মাসে বাংলাদেশের নেতারা ভারত সরকারের কাছে স্বীকৃতির জন্য চাপ বাড়ালে ভারত স্বাধীনতার ঘোষণার প্রমাণ নিয়ে গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করে। তারা জানতে চান স্বাধীনতা ঘোষণার কোনো দলিল, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য কি বাংলাদেশের নেতাদের কাছে আছে? শেখ মুজিবুর রহমান কাউকে কি কিছু বলেছিলেন?

বাংলাদেশ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও শীর্ষ নেতাদের যাদের মধ্যে জহুর আহমদ চৌধুরীও ছিলেন, ভারত সরকার পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সবাই স্পষ্টভাবে জানান যে, শেখ মুজিব তাদের কাউকেই স্বাধীনতা ঘোষণার কথা বলে যাননি। জহুর আহমদ চৌধুরী নিজেও তাজউদ্দীন আহমদকে জানান, তিনি এমন কোনো বার্তা পাননি।

ড. কামাল হোসেন তার ‘মুক্তিযুদ্ধ কেন অনিবার্য ছিল’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের এক বৈঠকে শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় একটি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হবে। সেই অনুযায়ী ড. কামাল হোসেনকে একটি খসড়া প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি খসড়া প্রস্তুত করে ১০ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবের হাতে তুলে দেন এবং শেখ মুজিব সেটি নিজের কাছে রাখেন।

এ প্রক্রিয়ায় তাজউদ্দীন আহমদও যুক্ত ছিলেন এবং সিদ্ধান্ত হয় ঘোষণা বাস্তবায়নের প্রয়োজন হলে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা তৈরির দায়িত্ব তাজউদ্দীন আহমদের ওপরই থাকবে।

কিন্তু ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অভিযানের সময় তাজউদ্দীন আহমদকে কোনো নির্দেশ দেননি শেখ মুজিব। ফলে তাজউদ্দীনসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা কেউই তখন শেখ মুজিবের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণার ব্যাপারে কিছু জানতেন না। ড. কামাল হোসেনের বিবরণ, তাজউদ্দীন আহমদের নীরবতা এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের অজ্ঞতা সবই ইঙ্গিত দেয় যে, এমন কোনো ঘোষণা শেখ মুজিব দেননি।

স্বাধীনতার মতো এক যুগান্তকারী ঘোষণা শেখ মুজিবুর রহমান কেন ঢাকায় প্রকাশ করেননি, এ প্রশ্নের উত্তর আজও ইতিহাসের অনাবিষ্কৃত ধাঁধা। সে সময় ঢাকায় বহু আন্তর্জাতিক সাংবাদিক অবস্থান করছিলেন। যদি তিনি সেখানেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিতেন, তা মুহূর্তে বিশ্বমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক জনমত তৈরি হতো এতে কোনো সন্দেহ নেই।

কিন্তু দাবি করা হয়, তিনি চট্টগ্রামের জেলা স্তরের নেতা এম. এ. হান্নানের কাছে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। প্রশ্ন জাগে এত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিনি কেন কেন্দ্রীয় নেতাদের না জানিয়ে দূরবর্তী এক স্থানীয় নেতার মাধ্যমে প্রকাশ করতে চাইলেন? একটি রাষ্ট্রের জন্ম নির্ধারণকারী ঘোষণার ক্ষেত্রে এমন পদ্ধতি তিনি কী যুক্তিতে গ্রহণ করেছিলেন, বা এর মাধ্যমে কী ফলাফল আশা করেছিলেন এর সুস্পষ্ট উত্তর আজও অমীমাংসিত।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়ে সে সময় কোনো কেন্দ্রীয় বা জেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতা কেউই প্রমাণসহ বলতে পারেননি, তারা শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণার সংবাদ পেয়েছিলেন, কিংবা এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পেয়েছিলেন। এমনকি যেসব শীর্ষ নেতা ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত শেখ মুজিবের ছায়াসঙ্গী ছিলেন, তারাও তার মুখে স্বাধীনতার ঘোষণার কথা শোনেননি।

অথচ ২৫ মার্চ পর্যন্ত সমগ্র জাতি তার কাছ থেকে স্পষ্ট স্বাধীনতার ঘোষণা প্রত্যাশা করছিল, যা তিনি বিভিন্ন সময় সরাসরি এড়িয়ে গিয়েছেন। এ বাস্তবতা থেকেই ইতিহাস গবেষণায় শেখ মুজিবের স্বাধীনতা ঘোষণার প্রশ্নে সবচেয়ে বড় সংশয় ও বিতর্কের জন্ম হয়েছে।

২৫ মার্চ সন্ধ্যায়, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে তাজউদ্দীন আহমদসহ কয়েকজন নেতা সমবেত হন। সেখানে তাজউদ্দীন রেকর্ড করার উদ্দেশ্যে একটি খসড়া স্বাধীনতার ঘোষণা শেখ মুজিবকে দেন। খসড়ায় লেখা ছিল পাকিস্তানি সেনাদের হঠাৎ আক্রমণের কথা এবং দেশের স্বাধীনতার আহ্বান।

শেখ মুজিব তা পড়ে নিরুত্তর থাকলেন। তাজউদ্দীন বললেন, ‘এটা ঘোষণা করা প্রয়োজন, না হলে সবাই গ্রেফতার হলে কেউ জানবে না। বেতারের মাধ্যমে প্রচার করতে হবে।’ শেখ মুজিব উত্তরে বললেন, ‘এটা আমার বিরুদ্ধে দলিল হয়ে যাবে, পাকিস্তান আমাকে দেশদ্রোহী হিসাবে বিচার করতে পারবে।’ এ উত্তরে তাজউদ্দীন রুষ্ট হয়ে রাত ৯টার দিকে ৩২ নম্বরের বাড়িটি ত্যাগ করেন।

প্রশ্ন জাগে যদি শেখ মুজিব সত্যিই ২৫ মার্চ রাতে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে থাকেন, তাহলে তিনি কেন তাজউদ্দীনের খসড়া রেকর্ড করলেন না বা চট্টগ্রামে পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানালেন না?

শেখ মুজিব স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা করেননি এর প্রমাণ মুনতাসীর মামুনের ‘রাও ফরমান আলী খান : বাংলাদেশের জন্ম’ থেকে পাওয়া যায়। জানা যায়, ইয়াহিয়ার সঙ্গে আলোচনার একপর্যায়ে তিনি দারুণ সন্তুষ্ট ছিলেন। কারণ শেখ মুজিবকে প্রধানমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মুনতাসীর মামুন লিখেছেন-

‘১৯ মার্চ খবর জানার জন্য শেখ মুজিবকে টেলিফোন করলাম। তিনি জানালেন, একটি সমঝোতায় উপনীত হওয়া গেছে এবং প্রেসিডেন্ট একটি ঘোষণা জারি করবেন, যাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের রূপরেখা থাকবে। তিনি আরও জানালেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পাঁচজন করে মন্ত্রী নেওয়া হবে। আমি জানতে চাইলাম, তিনি এতে সন্তুষ্ট কি না। তিনি সন্তুষ্ট বলে জানালেন এবং তার সাফল্যের জন্য দোয়া করতে বললেন’। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না।

শেখ মুজিব যে ২৫ মার্চ ১৯৭১ রাতে স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয়ে চিন্তিত ছিলেন না বরং তখনো তিনি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের ফরমানের অপেক্ষায় ছিলেন তা ড. কামাল হোসেনের ‘মুক্তিযুদ্ধ কেন অনিবার্য ছিল’ থেকে জানা যায়, ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় খসড়া ফরমানের সব অনুচ্ছেদ ও তফসিল পাঠ গ্রহণ শেষ হয়, যা চূড়ান্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হলে পীরজাদা ২৫ মার্চ তা চূড়ান্ত করে টেলিফোনে জানাবেন বলে জানান। শেখ মুজিব ২৫ মার্চের ভয়াবহ রাতে সারাক্ষণ ওই টেলিফোনের অপেক্ষায় ছিলেন। শেখ মুজিব রাত সাড়ে ১০টার দিকে কামাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলেন টেলিফোন পাওয়া গেছে কি না। কিন্তু তখনো তিনি তা পাননি বলে জানান।

‘পরাজিত পাকিস্তানি জেনারেলদের দৃষ্টিতে মুক্তিযুদ্ধ’ বইতে ফজল মুকিম লিখেছেন-“২৫ মার্চ রাতে শেখ মুজিব পালাননি। তাকে গ্রেফতার করা হয়। কেন পালাননি? এ প্রশ্নের জবাবে, ঢাকার তৎকালীন স্টেশন কমান্ডারকে শেখ মুজিব বলেছিলেন-‘to save Pakistan’.”।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তথ্যের এত বেশি অসংগতি রয়েছে, যা সীমিত পরিসরে পুরোপুরি উপস্থাপন করা সম্ভব নয়। মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের সরাসরি কোনো অবদান না থাকলেও স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে জনগণকে মুক্তির জন্য প্রস্তুত করেছিলেন, যা অনস্বীকার্য। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের যারা সংগঠক, যারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে, উৎসর্গ করে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছেন, তাদের অবদানকে অবজ্ঞা করাও গ্রহণযোগ্য নয়।

মেজর মো. শহিদুল আলম (অব.) : গবেষক, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম