Logo
Logo
×
   

Advertisement

বাতায়ন

এআই’র প্রতিষেধক এআই’ই

Advertisement

Icon

ড. শাহ জে মিয়া

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

এআই’র প্রতিষেধক এআই’ই

Advertisement

বর্তমান সময়ে অত্যন্ত আলোচিত একটি বিষয় হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই। এটি নিয়ে একদিকে যেমন উচ্ছ্বাস রয়েছে, পাশাপাশি এ নিয়ে নেতিবাচক ধারণাও ছড়ানো হচ্ছে। শুরুতেই আমি একটি কথা বলতে চাই, তা হলো, এআই-এর যদি কোনো খারাপ ব্যবহার থেকে থাকে, তাহলে এআই দিয়েই সেটা প্রশমন বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যেমন, অশ্লীলতার কথা বলে ইন্টারনেটের ব্যবহার চিরদিনের জন্য বন্ধ করে দিলে আমাদের সমাজ কি উন্নতিসাধনের দিকে চলতে পারবে? বস্তুত, এআই তো একটি প্রযুক্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা যেমন ইন্টারনেট, তথ্যপ্রযুক্তি বা স্মার্ট মোবাইল ফোনের ব্যবহার গ্রহণ করেছি, ঠিক তেমনই আমাদের এআইকেও গ্রহণ করতে হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি বলতে আমরা সাধারণত বুঝি, একটি উপায়, যেটা কিনা তথ্যের যথাযথ ব্যবহার, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ এবং আদান-প্রদানে সাহায্যকারী হিসাবে কাজ করে থাকে। ব্যবসা-বাণিজ্যে কিংবা সরকারের কার্যক্রম পরিচালনায় তথ্যপ্রযুক্তি বিভিন্ন প্রযুক্তির ওপর ভর করে তার একগুচ্ছ কর্মপ্রণালি সম্পাদন করে থাকে। আমাদের এই যুগে, প্রায় সবকিছুই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পাদন হয়ে থাকে।

এআই বলতে এমন একটি কম্পিউটার সিস্টেমকে বোঝায়, যা সাধারণ মানুষের মতো কাজ করতে বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। মানুষ যেমন সমস্যা সমাধানে তার চারপাশের সবকিছু দেখে একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে, এআই বা এআইচালিত রোবটগুলোও তেমনিভাবে কাজ করতে সক্ষম। এআই আসলে এমন যে, এটি মানুষের কাজগুলোকে অটোমেশনের মাধ্যমে সফটওয়্যারে বা একসঙ্গে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারে রূপান্তরিত করে ফেলে।

আসুন এখন জেনে আসি এর শ্রেণিবিভাগ। এআই সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে। প্রথম শ্রেণি বা ধরনটি হলো দুর্বল বা সংকীর্ণ এআই (Weak AI)। এ ধরনের এআই দক্ষতার দিক থেকে খুবই দুর্বল এবং এর কার্যকারিতা সাধারণত স্বাভাবিক নিয়মাবলি সম্পর্কিত কাজের সঙ্গে যুক্ত। যেমন দাবা খেলা বা ইংরেজি থেকে বাংলা বা অন্য যে কোনো অনুবাদ করা। পরের শ্রেণিটাকে বলা হয় জেনারেল বা সাধারণ এআই, যেটি কিনা দুর্বল এআই থেকে একটু বেশি পারদর্শী বলে মনে হতে পারে। কারণ এটি নিজে থেকেই নতুন দক্ষতা শিখতে পারে। এ ধরনের এআই চালনার জন্য মানুষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন পড়ে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, টেসলা গাড়ির অটোপাইলট ফাংশন মোড। এবার আসা যাক সর্বশেষ এআই-এর শ্রেণিবিভাগ। যেটাকে কিনা অতি বুদ্ধিমান এআই বা সুপার ইন্টেলিজেন্স বলা হয়ে থাকে। এআই চিন্তাবিদদের মতে সুপার ইন্টেলিজেন্স একটি বুদ্ধিমত্তার সর্বোত্তম বা সর্বজনীন রূপের প্রতিনিধিত্ব নাও করতে পারে। কারণ অনেক ক্ষেত্রে এটির ব্যবহার আমাদের অজানা।

আসুন জেনে আসা যাক এআই-এর সবচেয়ে বহুল আলোচিত ও সমালোচিত ব্যবহার। ডিপফেক হলো সাধারণত একটি এআই-এর তৈরি করা মিডিয়া ফাইল, যেমন একটি ছবি, ভিডিও বা অডিও রেকর্ডিং, যা দেখতে আসল বলে মনে হলেও আসলে এটি একটি বানোয়াট কনটেন্ট। ডিপফেক অ্যাপ্লিকেশন একটি নতুন ধারণা, যা ডিজিটাল ব্যবসার জগতে ব্যবহারযোগ্য হলেও সমাজে এটি বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। এআই ব্যবহার করে ডিপফেক কন্টেন্টগুলো সাধারণত ছবি, ভিডিও, অথবা অডিও এবং তাদের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়। ডিপফেক বাস্তব বা অস্তিত্বহীন বস্তুভিত্তিক কন্টেন্ট চিত্রিত করে ব্যক্তিবিশেষের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার ক্ষতিসাধন করতে পারে। ডিপফেক কন্টেন্টের মধ্যে মানুষের ছবি বা ছবির মতো কিছু থাকতে পারে, যা কিনা কোনো কিছুর ব্যঙ্গার্থ ব্যবহার ধারণকে বোঝায় বা বোঝাতে পারে। ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কন্টেন্ট বিনোদন এবং সৃজনশীলতার জন্য তৈরি করা যেতে পারে। তবে এটা মনে রাখতে হবে, এটি উল্লেখযোগ্য নৈতিক দ্বন্দ্ব ও উদ্বেগও সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যখন জনসাধারণের কাছে ভুল তথ্য বা নেতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। এ কারণেই গবেষকরা ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহারের সময় সর্বদা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। এর মানে হচ্ছে, যা ডিজিটাল কন্টেন্টে দেখা যায় বা দেখা হয়, এখন এবং সব সময় তা বিশ্বাসযোগ্য নাও হতে পারে।

জাতীয় নির্বাচনে কি এআই কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে? নির্বাচন জাতির জন্য একটি স্পর্শকাতর বিষয়। ডিপফেক দিয়ে এআই-এর মাধ্যমে যে কোনো প্রার্থীর নৈতিকতা বা চরিত্র নিয়ে জনসাধারণের কাছে ভুল তথ্য বা নেতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে ফেক কন্টেন্ট বা ডিজইনফরমেশন ছড়ানো যেমন একটি প্রত্যাখ্যাত এআই-এর ব্যবহার আমাদের সমাজে বিদ্যমান, তেমনই এর প্রতিকারও এআই-এর মাধ্যমেই সম্ভব।

ডিপফেকের ইনফরমেশন ব্যবহার করে মানুষ এমন কিছু করতে পারে, যা ব্যবসা ও মানুষের বা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। শিশুর শিক্ষার অন্তরায়, সামাজিক নৈতিকতা এবং সত্যতা ও বিশ্বাসের জন্য ক্ষতিকর। এআই-এর মাধ্যমে ডিপফেক প্রযুক্তির প্রভাব এবং জাল কন্টেন্ট তৈরির কারণে আমাদের সমাজে একধরনের হ্যালুসিনেশন, যেটা কি না এমন অর্থহীন বা বাস্তবিকভাবে ভুল প্রতিক্রিয়া তৈরি করাকে বোঝায়। যেটা কিনা মানুষের মধ্যে এমন কিছু সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ছড়িয়ে দিতে পারে, যার বস্তুত কোনো বাস্তবতা নেই। অথবা যদি থেকেও থাকে তবে তা যে কোনো সময় যে কোনো মাধ্যমে জাল ছবি বা জাল ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে জাল বা অবাস্তব চিন্তাভাবনা তৈরি করতে পারে।

এবার আসুন, অতি বুদ্ধিমান এআই বা সুপার ইন্টেলিজেন্সের ভালো ও খারাপ নিয়ে একটু কথা বলি। অতি বুদ্ধিমান এআই বা ইন্টেলিজেন্স হলো বিশেষ ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী ব্যবস্থা। এটি হলো একটি বিশেষ শ্রেণির যা কিনা স্বাভাবিকের থেকে বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন হিউম্যান কগনিটিভ ফাংশন বা মানুষের জ্ঞানীয় কার্যকারিতা প্রকাশ করে। এ ধরনের এআইকে একটি কাল্পনিক সফটওয়্যারভিত্তিক এআই বা এআই-চালিত রোবটিক সিস্টেমও বলা যেতে পারে। আইবিএম-এর তথ্য গবেষণা অনুযায়ী আমরা বলতে পারি, অতি বুদ্ধিমান এআই-এর পরিধি মানুষের বুদ্ধিমত্তার বাইরেও বিস্তৃত। এজন্য মনে করা হচ্ছে, এই অতি বুদ্ধিমান এআই এ যুগে অবদান রাখতে সক্ষম। কারণ, এর চিন্তাভাবনার দক্ষতা যে কোনো মানুষের চেয়েও অনেক উন্নত। যদিও এটা কাল্পনিকভাবেই বলা হচ্ছে, তবুও এর বিশ্বাসযোগ্যতা এখন মানুষের সামনে অনেকটা পরিষ্কার এবং ভবিষ্যতে আরও গ্রহণযোগ্য হতে চলেছে।

এই অতি বুদ্ধিমান এআই তৈরির একটি বড় পদক্ষেপ হলো শক্তিশালী ডিপ লার্নিংভিত্তিক অ্যালগোরিদম। এই ব্যবস্থাটাকে বলা হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাস্তবসম্মত এআই ব্যবস্থা যা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতাকে অনেকগুণে বাড়াবে। এ ধরনের এআই ব্যবস্থা মানুষকে তাদের আশপাশের পৃথিবীকে বা সমাজকে বুঝতে এবং তার থেকে সমস্যার সমাধান করতে সক্ষমতা আনয়ন করবে। ধারণক্ষমতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে এই বুদ্ধিমত্তা হবে অত্যন্ত বিকশিত। কিন্তু যেহেতু আমরা ভবিষ্যৎ আধুনিক যুগ সম্পর্কে এখনো পরিপূর্ণ ওয়াকিবহাল না, তাই কিছু গুরুত্বপূর্ণ এআই প্রযুক্তির বিকাশ এখনো হয়নি। এখানে বলে রাখা অত্যন্ত জরুরি যে, অতি বুদ্ধিমান এআইকে বিশ্ব সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন এবং বিকাশের জন্য বিশাল তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে হবে। এ তথ্যভান্ডারটি হতে হবে সর্বজনীন এবং সর্বগ্রহণযোগ্য। আমাদের সমাজে তা না হলে অতি বুদ্ধিমান এআই সহজেই বিভেদ সৃষ্টি করবে এবং সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটবে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, ধরে নেওয়া যাক, কোনো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) একটি অতি বুদ্ধিমান এআই হিসাবে যে কথোপকথনের ডেটা থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হলো, সেখানে শুধু পুরুষদের মাধ্যমে তৈরি বা তাদের সম্পর্কিত কথার ডেটা ব্যবহৃত হয়েছিল। এই লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল সমাজের সব ধরনের মানুষের সর্বজনীন জ্ঞানকে ধারণ করতে অপারগ হবে। কারণ নারী, শিশু ও অন্যান্য লিঙ্গের মানুষও আমাদের সমাজের অংশ। অতি বুদ্ধিমান এআই সহজেই একপেশে আচরণ করতে পারে যদি তার প্রশিক্ষণ ডেটা সঠিক না হয়। তাই এর প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এবং সর্বোপরি প্ল্যানেটোরি নেসেসিটি নামে একটি কথা আছে, যেটা কিনা বাধাগ্রস্ত হবে।

প্ল্যানেটোরি নেসেসিটি আর অন্য কিছুই নয়, এটি মানুষের সমাজের বেঁচে থাকার স্বাভাবিক নিয়মকানুন, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ন্যায়নীতির সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতাকে বোঝায়। এআই প্ল্যানেটোরি নেসেসিটির অনেক কিছুকেই ইতোমধ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।

এআই-এর অপর একটি বহুলপ্রচলিত অ্যাপ্লিকেশন হচ্ছে, রোবটিক প্রসেস অটোমেশন (আরপিএ)। যার মাধ্যমে বিজনেস প্রসেস বা প্রক্রিয়াগুলোকে স্বয়ংক্রিয় এবং বুদ্ধিমান বানানো হয়ে থাকে। এই এআইটির মাধ্যমে মানুষের বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল অটোমেশন উভয়ের মাধ্যমে মানব কর্মীদের পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ সম্পাদনের পদ্ধতিকে সহজতর করা হয়ে থাকে। আরপিএ ব্যবহারের মাধ্যমে যে কোনো প্রতিষ্ঠানে বা ইন্ডাস্ট্রিতে স্মার্ট অটোমেশনের মাধ্যমে তথ্য আহরণ, ফরম পূরণ, ফাইল স্থানান্তর এবং আরও অনেক কিছুর মতো জটিল এবং সময়সাপেক্ষ কাজ নিয়মানুগ পদ্ধতিতে সম্পাদন করা যায়। এ ধরনের অটোমেশন এআই-এর বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে তাদের কার্যকারিতা প্রসারিত করে। স্মার্টকরণের ধারাবাহিকতায় বুদ্ধিমান প্রক্রিয়া অটোমেশনের জন্য আরপিএ সাধারণ নিয়মভিত্তিক সিস্টেমের চেয়ে বেশি কার্যকর হয়ে থাকে। আরপিএ’কে এমন একটি সিস্টেম, যেখানে এআই-এর অংশ হিসাবে মেশিন লার্নিং যথাক্রমে ‘চিন্তাভাবনা’ এবং ‘শেখার’ বিষয়গুলোকে সমন্বয়সাধন করে থাকে।

এআই-এর অনেক ভালো ব্যবহারের একটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। এটিকে প্রায়ই ভিআর বলা হয়। এটি একটি দুর্দান্ত এআই ব্যবস্থা, যা কোনো বস্তুর অবস্থান এবং অনুভূতি একসঙ্গে প্রকাশ করতে পারে। ভিআর এআই অ্যালগোরিদমের মাধ্যমে ছবি, শব্দ এবং অন্যান্য অনুভূতি তৈরি করে থাকে, যার মাধ্যমে বস্তুর বিশ্বাসযোগ্য অবস্থান, ব্যবহার এবং অন্যান্য অনুভূতির প্রকাশ পরিপূর্ণভাবে সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, ভার্চুয়াল গেমিং। ভিআর অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য একটি বিশেষ হেডসেট ব্যবহার করা হয়। এই হেডসেটে ভার্চুয়াল জগৎকে দেখানোর জন্য স্ক্রিন এবং শব্দের জন্য স্পিকার রয়েছে। মাথা নাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হেডসেটের স্ক্রিনে ছবিগুলোর অবস্থান ও সেই সঙ্গে শব্দেরও পরিবর্তন হয়। এর অর্থ হলো এগুলো এমন একটি অনুভূতি সৃষ্টি করে যেন মানুষ ভার্চুয়াল জগতের জিনিসগুলোকে স্পর্শ করছেন। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) থেকে আলাদা। এআর মানুষকে চারপাশের বাস্তব জগৎকে দেখায়, তবে এর সঙ্গে কম্পিউটার উৎপাদিত গ্রাফিক্সও যুক্ত করে। ভিআর বাস্তব বা কাল্পনিক স্থানের ওপর ভিত্তি করে একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল জগৎ তৈরি করে।

অনেক তরুণের জন্য ডিজিটাল সামাজিকীকরণ একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আর ভিআর সামাজিকীকরণের মাধ্যমে ভার্চুয়াল স্পেসে অন্য ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুমতি দিয়ে এটিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। এটি একজন তরুণকে তাদের বন্ধুদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে এবং ভার্চুয়ালি একসঙ্গে বস্তুগুলো থেকে অনুভূতি সৃষ্টি এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করতে দেয়। পৃথিবীর বহু বিশ্ববিদ্যালয় আজকাল এসব ভার্চুয়াল এআই-এর মাধ্যমে ছাত্রদের বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

উপসংহারে বলতে পারি, এআই হচ্ছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যম, যার ভবিষ্যৎ যুগোপযোগী প্রয়োগ দিনদিন বেড়েই চলছে। এআই অনেক ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে, যার মাধ্যমে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ইন্ডাস্ট্রিতে মানুষের পাশাপাশি এআই-চালিত রোবটের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে মানুষের কাজের গতি এবং সমন্বয়কে অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিতে সক্ষম। এসব বিষয়ের ওপর জ্ঞান এখনো অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের কাছে অজানা বা পরিষ্কার নয়। কারণ, এখনো অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এসব বিষয় নিয়ে।

ড. শাহ জে মিয়া : প্রফেসর অব বিজনেস অ্যানালিটিক্স অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড এআই; উপপরিচালক, সেন্টার ফর অ্যাপ্লাইড অ্যান্ড রেসপন্সিবল এআই; নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া

Advertisement

এআই

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম