সরকারি তথ্য ফাঁসকারীদের গুলি করা উচিত: ট্রাম্প
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যারা সংবাদমাধ্যমের কাছে সরকারের গোপন তথ্য ফাঁস করে, তাদের শাস্তি হিসেবে গুলি করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের বুলহেড সিটিতে আয়োজিত এক নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। খবর আল জাজিরার।
সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মতে, যারা তথ্য ফাঁস করে তাদের গুলি করা উচিত। আগেকার দিনে তো তথ্য ফাঁসকারীদের গুলিই করা হতো—যেমন ধরুন, কোনো দেশে কখন আক্রমণ চালানো হবে, সেই তথ্য ফাঁস করে দিলে তাদের গুলি করা হতো।’
ট্রাম্প সম্ভবত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামারের’ প্রসঙ্গ টেনে এই মন্তব্য করেছেন। ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের সময় ২০২৫ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে একটি আকস্মিক হামলা চালিয়েছিল।
ওই হামলার পর, বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশ করে।
জনসমক্ষে প্রকাশিত না হওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল, যুক্তরাষ্ট্র যেসব স্থানে বোমা হামলা চালিয়েছিল, সেখান থেকে ইরান তাদের কিছু সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছিল। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা ট্রাম্পের দাবির তুলনায় অনেক কম।
তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, মার্কিন হামলার সময়সূচিও ফাঁস হওয়া তথ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে সামরিক সদস্যদের বিপদে ফেলার অভিযোগ আনেন এবং বিশেষ করে নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনের উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, আমরা কখন রওনা হয়েছি আর কখন পৌঁছেছি—সেই সময়সূচি তারা ফাঁস করে দিয়েছিল। এর ফলে তাকে বোমা হামলার পরিকল্পনা দুই দিন পিছিয়ে দিতে হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘কেউ একজন তথ্য ফাঁস করেছে। কোনো এক জঘন্য ব্যক্তি—তাদের জেলে পাঠানো উচিত, অথবা গুলি করা উচিত। তাদের বাকি জীবনটা জেলেই কাটানো উচিত।’
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক দীর্ঘকাল ধরেই বৈরী। এর আগেও তিনি এমন কোনো সরকারি কর্মকর্তার কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন, যিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে গোপন তথ্য ফাঁস করেন।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের কিছু অংশ জনসমক্ষে আসার পর, তিনি এর জন্য ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আইনপ্রণেতাদের দায়ী করেন।
সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে চালানো নিখুঁত অভিযানের তথ্য ডেমোক্র্যাটরাই ফাঁস করেছে। তাদের বিচার হওয়া উচিত!’
ট্রাম্পের শাসনামলে হোয়াইট হাউস তথ্য ফাঁসের উৎস খুঁজে বের করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তার প্রশাসনের কর্মী এবং সামরিক কর্মকর্তাদেরও পলিগ্রাফ (মিথ্যা শনাক্তকরণ) পরীক্ষায় অংশ নিতে বলা হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের কাছে আদালতের সমন পাঠানো হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো অভ্যন্তরীণ যেসব তথ্য জনসমক্ষে এসেছে, সেগুলোর উৎস শনাক্ত করা।
গত বছর মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) শর্ত দেয়, যেসব সাংবাদিক পেন্টাগনে প্রবেশের অনুমতি পেতে চান, তাদের একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হবে—যেখানে বলা থাকবে, তারা কোনো অননুমোদিত তথ্য প্রকাশ করবেন না।
পেন্টাগনে কর্মরত অধিকাংশ সাংবাদিক এই শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানান এবং পরে একটি ফেডারেল আদালত সাংবাদিকদের ওপর চাপানো নতুন শর্তগুলোর অনেকগুলোই বাতিল করে দেয়।
ট্রাম্প দীর্ঘ দিন ধরেই তথ্য ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন। ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তার প্রথম মেয়াদেও তিনি এমনটি করেছিলেন।

