‘মাদার অব অল বম্বস’ কী, এই নামে কেন ডাকা হয়?
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫১ এএম
জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট। ছবি: রয়টার্স
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ ছোড়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ‘মাদার অব অল বম্বস’ নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
‘মাদার অব অল বম্বস’র আনুষ্ঠানিক নাম ‘জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট’। সংক্ষেপে এমওএবি নামে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের এই শক্তিশালী বোমা প্রচলিত পারমাণবিক বোমা নয়। প্রায় ১০ হাজার কেজি ওজনের বোমাটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে বড় ধরনের সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা সম্ভব।
‘মাদার অফ অল বম্বস’ কী
জিবিইউ-৪৩/বি এমওএবি হলো জিপিএস-নিয়ন্ত্রিত একটি প্রচলিত বোমা, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর গবেষণাগারে তৈরি করা হয়েছে।
এর ওজন প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৯.১ মিটার এবং এতে প্রায় ৮ হাজার ৪৮০ কেজি বিস্ফোরক রয়েছে।
বোমাটি প্রায় ১১ টন টিএনটির সমান শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম। এটি মূলত শত্রুপক্ষের অবস্থান, সামরিক সরঞ্জাম এবং শত্রুসেনা অধ্যুষিত বিশাল এলাকাকে লক্ষ্য করে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
পারমাণবিক অস্ত্রের বিপরীতে মোয়াবে প্রচলিত বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয় এবং এটি কোনো তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়ায় না।
সিএনএনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অস্ত্রটি ২০০৩ সালে তৈরি ও পরীক্ষা করা হয়েছিল।
যেভাবে নামকরণ
এই বোমার আনুষ্ঠানিক নাম ‘ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি)’। তবে, এর বিশাল আকার এবং ধ্বংসক্ষমতার কারণে এটি ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামে পরিচিতি পায়।
এই ডাকনামটি ইরাকের সাবেক নেতা সাদ্দাম হোসেনের একটি উক্তির কথা মনে করিয়ে দেয়। তিনি ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধকে ‘মাদার অব অল ব্যাটলস’ অভিহিত করেছিলেন।
২০০৮ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত ‘ফাইভ ইয়ার্স লেটার, ইট ইজ স্টিল নোন অ্যাজ মাদার অব অল বম্বস’ শিরোনামের একটি নিবন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী এই ডাকনামটির কথা উল্লেখ করেছিল।
অস্ত্রটির আনুষ্ঠানিক নাম এবং এই ডাকনাম—উভয়ই ‘এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিনে’ নথিবদ্ধ রয়েছে।
এটি প্রথম কবে ব্যবহৃত হয়েছিল
যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিদের লক্ষ্য করে এই ‘এমওএবি’ বোমাটি ব্যবহার করে।
পাকিস্তান সীমান্তের কাছে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত সুড়ঙ্গ ও গুহা নেটওয়ার্কের ওপর এই বোমাটি ফেলা হয়েছিল। এই হামলাটি ছিল অস্ত্রটির প্রথম যুদ্ধকালীন ব্যবহার, যা এর তৈরির প্রায় ১৪ বছর পর ঘটেছিল।
যদিও এমওএবি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত বৃহত্তম প্রচলিত বোমাগুলোর মধ্যে অন্যতম, তবুও এটি পারমাণবিক অস্ত্রের তুলনায় অনেক কম শক্তিশালী।
এর প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ক্ষমতা ও ধ্বংসাত্মক সক্ষমতার কারণে এটি মার্কিন সামরিক ভাণ্ডারের অন্যতম সুপরিচিত অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

