Logo
Logo
×
   

চিত্র বিচিত্র

নতুন গবেষণা

মানুষের মূত্র এবং জ্বালানির কারণে প্রতিবছর গলছে এভারেস্টের আড়াই হাজার টন বরফ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম

মানুষের মূত্র এবং জ্বালানির কারণে প্রতিবছর গলছে এভারেস্টের আড়াই হাজার টন বরফ

এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের মানুষের বিভিন্ন কাজকর্মের ফলে সৃষ্ট উত্তাপে প্রতি বছর খুম্বু হিমবাহের প্রায় ২ হাজার ৫০০ টন বরফ ও তুষার গলে যাচ্ছে বলে এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল পরিচালিত এই গবেষণার ফলাফল ‘রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’ নামক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। খবর সামা টিভির। 

জানা গেছে, ক্যাম্পের জ্বালানি ব্যবহার এবং সরাসরি হিমবাহে ফেলা মূত্রের তাপ মিলিয়ে ২০২৩ সালের বসন্তকালীন ক্লাইম্বিং মৌসুমে যে শক্তি উৎপন্ন হয়েছে, তা দিয়ে প্রায় ২,৪৯২ টন বরফ গলানো সম্ভব। 

গবেষণায় ২০২৩ সালের বসন্ত মৌসুমে প্রায় ১,৬০০টি তাবুর জ্বালানি ব্যবহারের হিসাব করা হয়েছে। এ সময়ে রান্নাবান্না, গরম ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৮২৪ ক্যানিস্টার এলপি গ্যাস, ১৮,৯৩৫ লিটার কেরোসিন এবং ৫,১৩০ লিটার পেট্রোল খরচ হয়েছে। এর সঙ্গে মানুষের প্রস্রাব থেকে উৎপন্ন তাপ যুক্ত হয়ে মোট শক্তির পরিমাণ দাঁড়ায় ৮,৪৯,১৭৪ মেগাজুল। 

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ শক্তি দিয়ে অলিম্পিক সাইজের একটি সুইমিং পুল বা প্রায় ১৬,৭০০টি বাথটব ভরার সমান বরফ গলানো সম্ভব। 

অতিরিক্ত উচ্চতায় পানিশূন্যতা রোধ করতে পর্বতারোহীরা প্রচুর পানি পান করায় প্রতিদিন প্রায় ৬,০০০ লিটার মূত্র সরাসরি হিমবাহের উপর ফেলা হয়। এ ছাড়া শক্ত বর্জ্য নিচে নামিয়ে আনা হলেও এর বড় একটি অংশ সরাসরি হিমবাহের ওপর ফেলা হয়, যা একাই প্রায় ১৫৪ টন বরফ গলাতে ভূমিকা রাখে। 

সঙ্গে হেলিকপ্টারের তাপ, মানুষের শরীরের উত্তপ এবং ইয়াকের উপস্থিতির মতো বিষয়গুলো এই হিসাবে ধরা হয়নি, যার কারণে প্রকৃত বরফ গলার পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

এভারেস্টের মূল বরফ গলার প্রধান কারণ জলবায়ু পরিবর্তন হলেও, দ্রুত গলতে থাকা একটি হিমবাহের ওপর হাজার হাজার মানুষের ক্যাম্প স্থাপন টেকসই নয় বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে বেস ক্যাম্পটিকে হিমবাহ থেকে সরিয়ে একটি স্থিতিশীল কাছাকাছি এলাকায় স্থানান্তরের কথা ভাবার সময় এসেছে বলে মনে করছেন তারা। 

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম