পর্যটক হয়েও যেসব দেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিদেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া জরুরি—এমন ধারণা অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বিভিন্ন দেশের ব্যাংকিং নিয়ম এক নয়। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে পারলে বিদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে পর্যটকরাও অনাবাসী হিসেবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ পেতে পারেন।
তবে সব দেশে এই প্রক্রিয়া সমান সহজ নয়। পাসপোর্ট, নিজ দেশের ঠিকানার প্রমাণ, করসংক্রান্ত তথ্য, আয়ের উৎস কিংবা পেশাগত নথি চাওয়া হতে পারে। এমনকি কিছু ব্যাংক কেন অ্যাকাউন্ট খুলতে চাইছেন, সেটিও জানতে পারে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত থাকলে অবশ্য অনেক ক্ষেত্রেই প্রক্রিয়াটি প্রত্যাশার তুলনায় সহজ হতে পারে।
বিদেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন কী?
বিদেশে বেড়াতে গিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজনীয়তা সবার জন্য না থাকলেও নিয়মিত আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে এর কিছু সুবিধা রয়েছে।
বিদেশে কার্ড ব্যবহারের সময় অতিরিক্ত লেনদেন বা বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত খরচ কমাতে কেউ কেউ স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। আবার বিদেশে বাড়ি বা হলিডে হোম থাকা ব্যক্তি, ডিজিটাল নোম্যাড, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং রিমোট কর্মীদের জন্য স্থানীয় ব্যাংকিং সুবিধা বেশ কার্যকর হতে পারে।
স্থানীয় অ্যাকাউন্ট থাকলে অর্থ জমা রাখা, নগদ টাকা উত্তোলন, অর্থ স্থানান্তর এবং দৈনন্দিন খরচের লেনদেন পরিচালনা তুলনামূলক সুবিধাজনক হয়।
নির্দিষ্ট শর্তে পর্যটক বা অনাবাসী বিদেশিদের অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ রয়েছে এমন কয়েকটি দেশ হলো—
সুইজারল্যান্ড
আন্তর্জাতিক ব্যাংকিংয়ের অন্যতম পরিচিত কেন্দ্র সুইজারল্যান্ড। স্থিতিশীল আর্থিক ব্যবস্থা ও উন্নত ব্যাংকিং সেবার জন্য দেশটির দীর্ঘদিনের সুনাম রয়েছে।
তবে বর্তমানে সেখানে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় অনেক বেশি যাচাই-বাছাই করা হয়। তারপরও কিছু ব্যাংক নির্দিষ্ট শর্তে অনাবাসী বিদেশিদের অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দেয়।
আবেদনকারীর পরিচয়, আর্থিক সামর্থ্য ও অর্থের উৎস যাচাই করা হতে পারে। কিছু ব্যাংক তুলনামূলক বড় অঙ্কের প্রাথমিক জমা চাইতে পারে এবং অনাবাসী গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত ফি আরোপ করতে পারে।
জর্জিয়া
ডিজিটাল নোম্যাড ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যটকদের মধ্যে জর্জিয়া বেশ জনপ্রিয়। বিদেশিদের জন্য তুলনামূলক সহজ ব্যাংকিং ব্যবস্থাও দেশটির অন্যতম আকর্ষণ।
জর্জিয়ার কিছু ব্যাংকে অনাবাসী বিদেশিরা অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ পান। অনেক ক্ষেত্রে বৈধ পাসপোর্টই প্রধান নথি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। তবে আবেদনকারীর নাগরিকত্ব এবং নির্দিষ্ট ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী বাড়তি কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে।
কোনো কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার আগে গ্রাহকের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারও করতে পারে।
পর্তুগাল
পর্যটক, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, রিমোট কর্মী এবং বিদেশে দ্বিতীয় বাড়ির মালিকদের কাছে পর্তুগাল একটি জনপ্রিয় ইউরোপীয় গন্তব্য। নিয়মিত যাতায়াতকারী বিদেশিদের অনেকে তাই দেশটিতে স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রাখার কথা বিবেচনা করেন।
অনাবাসী বিদেশিদের জন্য সেখানে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ থাকলেও বেশ কিছু নথি প্রয়োজন হতে পারে। পাসপোর্টের পাশাপাশি পর্তুগালের কর শনাক্তকরণ নম্বর বা NIF, নিজ দেশের ঠিকানার প্রমাণ এবং আয় বা চাকরি-সংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে।
সিঙ্গাপুর
শক্তিশালী আর্থিক ব্যবস্থা ও নিরাপদ ব্যাংকিং পরিবেশের কারণে সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্থিক কেন্দ্র। দেশটির কিছু ব্যাংক অনাবাসী বিদেশিদেরও অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেয়।
তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ব্যাংকভেদে আলাদা হতে পারে। সাধারণত পাসপোর্ট, অতিরিক্ত পরিচয়পত্র এবং অ্যাকাউন্ট খোলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তথ্য দিতে হয়।
কিছু ব্যাংকে ন্যূনতম প্রাথমিক জমার শর্ত থাকতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সরাসরি শাখায় উপস্থিত হয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
ব্যবসা ও পর্যটনের কারণে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বিদেশি সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান। তাদের মধ্যে অনেকেই নিয়মিত দেশটিতে ব্যবসায়িক কাজে যাতায়াত করেন বা সেখানে সম্পত্তির মালিক। এ কারণে অনাবাসী হিসেবে স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার আগ্রহও রয়েছে অনেকের।
ইউএইর কিছু ব্যাংক বিদেশি অনাবাসীদের সেভিংস অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেয়। সাধারণত পাসপোর্ট, বৈধ ট্যুরিস্ট ভিসা বা প্রবেশের প্রমাণ এবং আর্থিক নথি প্রয়োজন হতে পারে।
তবে অনাবাসী অ্যাকাউন্টে স্থানীয় বাসিন্দাদের তুলনায় অতিরিক্ত শর্ত বা সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। তারপরও স্থানীয়ভাবে অর্থ রাখা ও বিভিন্ন ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনার সুবিধা পাওয়া যায়।
পানামা
লাতিন আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কেন্দ্রগুলোর একটি পানামা। দেশটির কিছু ব্যাংক বিদেশি নাগরিক ও অনাবাসীদের অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেয়।
তবে অন্যান্য কিছু দেশের তুলনায় এখানে প্রস্তুতি ও কাগজপত্রের প্রয়োজন বেশি হতে পারে। পাসপোর্টের পাশাপাশি আয়ের প্রমাণ, ব্যাংকিং রেফারেন্স, পেশাগত পরিচয়ের নথি এবং অর্থের উৎসসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হতে পারে।
আন্তর্জাতিক আর্থিক বিধিনিষেধ মেনে চলার কারণে পানামার ব্যাংকগুলো গ্রাহকের পরিচয় ও আর্থিক তথ্য বিস্তারিতভাবে যাচাই করে। ফলে অনাবাসী হিসেবে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ ও জটিল হতে পারে।
অ্যাকাউন্ট খোলার আগে যেসব বিষয় খেয়াল করবেন
কোনো দেশে অনাবাসী বা পর্যটকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ থাকলেও সব ব্যাংক একই নিয়ম অনুসরণ করে না। ব্যাংকভেদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ন্যূনতম জমা, ফি এবং যোগ্যতার শর্তে পার্থক্য থাকতে পারে। একই সঙ্গে ব্যাংকের নীতিমালাও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
তাই বিদেশে যাওয়ার আগে নির্দিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বর্তমান নিয়ম, প্রয়োজনীয় নথি, সম্ভাব্য ফি এবং অ্যাকাউন্ট খোলার যোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সবচেয়ে ভালো। এতে বিদেশে গিয়ে অপ্রত্যাশিত জটিলতা ও সময়ের অপচয় এড়ানো সম্ভব।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
