Logo
Logo
×
   

Advertisement

চিত্র বিচিত্র

কত দ্রুত চলতে পারত ভয়ংকর শিকারি ‘টি-রেক্স’

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

কত দ্রুত চলতে পারত ভয়ংকর শিকারি ‘টি-রেক্স’

Advertisement

মাংসাশী ডাইনোসরদের মধ্যে সবচেয়ে ভারী প্রজাতিগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্স। এবার যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটি জীবাশ্ম ট্র্যাকওয়ের সন্ধান পেয়েছেন প্যালিওন্টোলজিস্টরা, যা একটি পূর্ণবয়স্ক টি-রেক্সের হাঁটার পথ বলে ধারণা করা হচ্ছে। চারটি পরপর পায়ের ছাপ নিয়ে গঠিত এই ট্র্যাকওয়ে পাওয়া গেছে উত্তর ডাকোটার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যাডল্যান্ডস এলাকায়, মন্টানা সীমান্তের কাছাকাছি।

‘জার্নাল অব ভারটেব্রেট প্যালিওন্টোলজি’-তে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই আবিষ্কারের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এর আগে পূর্ণবয়স্ক টি-রেক্সের মাত্র দুটি নিশ্চিত পদচিহ্নের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল—একটি নিউ মেক্সিকোতে এবং অন্যটি মন্টানায়। তবে সেগুলো ছিল বিচ্ছিন্ন ছাপ। ফলে প্রাণীটি কীভাবে চলাফেরা করত, তা বোঝার সুযোগ ছিল সীমিত।

ডেনভার মিউজিয়াম অব নেচার অ্যান্ড সায়েন্সের ভার্টিব্রেট প্যালিওন্টোলজির জ্যেষ্ঠ কিউরেটর টাইলার লাইসনের মতে, জীবাশ্ম হাড় থেকে কোনো প্রাণীর শারীরিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়। কিন্তু পায়ের ছাপ সেই প্রাণীর আচরণের একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তকে ধরে রাখে। আর একাধিক পদচিহ্নের ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা গেলে প্রাণীটি কীভাবে মাটির ওপর দিয়ে চলত, সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়। টি-রেক্সের ক্ষেত্রে এমন প্রমাণ খুবই বিরল।

গবেষকদের ধারণা, নতুন আবিষ্কৃত পদচিহ্নগুলো প্রায় ৬ কোটি ৬৫ লাখ বছর আগের। গত বছর উত্তর ডাকোটার মারমার্থ এলাকার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের মালিকানাধীন জমিতে এগুলো আবিষ্কার করা হয়। প্রতিটি পায়ের ছাপের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ ফুট বা ০.৯ মিটার। আর একটি ছাপ থেকে পরবর্তী ছাপের দূরত্ব প্রায় ১৩ ফুট বা ৪ মিটার।

পদচিহ্নগুলোর আকৃতি ও গঠন বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এগুলো একটি পূর্ণবয়স্ক টি-রেক্সেরই তৈরি। ছাপগুলো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য গবেষণায় উচ্চ-রেজল্যুশনের থ্রিডি স্ক্যানিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পদচিহ্নগুলোর ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে মূল স্থানটি স্পর্শ না করেই কম্পিউটারে ছাপগুলো বিশ্লেষণ এবং এর বাস্তব প্রতিরূপ তৈরি করা যায়।

গবেষণার প্রধান লেখক ও লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটির প্যালিওবায়োলজির অধ্যাপক পিটার ফালকিংহ্যাম জানান, মাঠপর্যায়ের গবেষকরা পদচিহ্নগুলোর থ্রিডি স্ক্যান তৈরি করে তাকে পাঠিয়েছিলেন। এরপর তিনি কম্পিউটার ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে সেগুলো বিশ্লেষণ করেন। ফলে ঘটনাস্থলে থাকা গবেষকদের মতো করেই পদচিহ্নগুলো পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

ঘণ্টায় কত কিলোমিটার গতিতে হাঁটত টি-রেক্স?

পদচিহ্নগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং টি-রেক্সের সম্ভাব্য পদক্ষেপের দৈর্ঘ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা ধারণা করছেন, প্রাণীটি ঘণ্টায় প্রায় ৩.৫ থেকে ৪.৫ মাইল বা ৫.৬ থেকে ৭.২ কিলোমিটার গতিতে চলছিল। এই গতি একজন মানুষের দ্রুত হাঁটার কাছাকাছি।

অর্থাৎ, পদচিহ্নগুলো তৈরি করার সময় টি-রেক্সটি দৌড়াচ্ছিল না। বরং স্বাভাবিক গতিতে হাঁটছিল বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

তবে এই গতির হিসাবকে চূড়ান্ত হিসেবে দেখছেন না গবেষকরা। কারণ প্রায় ৬ কোটি ৬৫ লাখ বছর ধরে আবহাওয়া, ভূমিক্ষয় ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে পদচিহ্নগুলো আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই গতি নির্ধারণে কিছুটা অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

গবেষকরা চারটি পদচিহ্নের মধ্যে তিনটি উদ্ধার করার পরিকল্পনা করছেন। চলতি বছরের শেষ দিকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে এগুলো সরিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে। পরে পদচিহ্নগুলো ডেনভার মিউজিয়াম অব নেচার অ্যান্ড সায়েন্সে সংরক্ষণ করা হবে। সেখানে এগুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা চালানো হবে।

প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৮০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণ করত টি-রেক্স। লেট ক্রিটেশাস যুগের অন্যতম ভয়ংকর শিকারি এই ডাইনোসর ছিল পৃথিবীতে বিচরণকারী শেষ দিকের অ-এভিয়ান ডাইনোসরগুলোর একটি। একটি পূর্ণবয়স্ক টি-রেক্সের কোমর বা হিপ পর্যন্ত উচ্চতা প্রায় ১২ থেকে ১৩ ফুট হতে পারত।

সূত্র: এনডিটিভি

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম