যুগান্তরের ২৭ বছর, কলমের দীপ্তি ও সত্যের অটল যাত্রা
Advertisement
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬—বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক গৌরবময় ও স্মরণীয় দিন। সত্যনিষ্ঠ সংবাদচর্চার প্রতীক, প্রথিতযশা দৈনিক যুগান্তর পা রাখল তার ২৭তম বর্ষে।
এই ঐতিহাসিক ক্ষণে একজন লেখক ও কলামিস্ট হিসেবে গভীর শ্রদ্ধা, অভিনন্দন ও ভালোবাসা জানাই—একটি এমন পত্রিকাকে, যা দীর্ঘদিন ধরে বিবেকের ভাষায় কথা বলে চলেছে।
গত এক বছর ধরে নিয়মিতভাবে যুগান্তরের পাতায় সমসাময়িক ও সমাজসচেতন নানা বিষয়ে কলম ধরার সুযোগ আমার জন্য এক অনন্য সম্মান। এই পত্রিকার মাধ্যমে আমার লেখা বহু মানুষের দৃষ্টিসীমায় পৌঁছেছে, চিন্তার জগতে আলো জ্বেলেছে—এ জন্য আমি পরম কৃতজ্ঞ মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে। পাঠকের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা একজন লেখকের জন্য যে কত বড় প্রাপ্তি, যুগান্তর আমাকে তা উপলব্ধি করিয়েছে।
২০২০ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, আমার অভিজ্ঞতায় যুগান্তর একটি ব্যতিক্রমী নাম। কারণ, এ পত্রিকা সত্যকে সত্য হিসেবেই তুলে ধরতে জানে—কোনো ভণিতা ছাড়াই, কোনো চাপের কাছে মাথা নত না করে। নির্যাতিত, নিপীড়িত ও মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে নৈতিক সাহস যুগান্তর দেখিয়েছে, তা এই পত্রিকাকে জনমানসে আলাদা মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
বিশেষ করে ২৪ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় যুগান্তর ছিল এক দৃঢ় ও স্পষ্ট কণ্ঠস্বর—যে কণ্ঠ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছে নির্ভীকভাবে। সেই সময়ে যুগান্তরের ভূমিকা প্রমাণ করেছে, এটি কেবল সংবাদপত্র নয়; প্রয়োজনে এটি ইতিহাসের পক্ষেও দাঁড়ায়।
দীর্ঘ ২৭ বছরের পথচলায় যুগান্তর আজ বাংলাদেশের প্রথম সারির জাতীয় দৈনিকগুলোর অন্যতম। লেখালেখির শুরুতে আমার একটি স্বপ্ন ছিল—একদিন যুগান্তরের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ পত্রিকায় আমার লেখা প্রকাশিত হবে। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবতার আলোয় দাঁড়িয়ে আছে; যা আমার জন্য গর্ব, প্রেরণা ও দায়িত্ব—সবকিছু একসাথে।

এই শুভক্ষণে আমি পাঠকদের প্রতিও আন্তরিক আহ্বান জানাতে চাই—অতীতের মতো যুগান্তরকে আগলে রাখুন ভালোবাসা দিয়ে, বিশ্বাস দিয়ে, জনসমর্থন দিয়ে। একটি পত্রিকার শক্তি তার পাঠক; আর যুগান্তরের এই দীর্ঘ পথচলা সম্ভব হয়েছে পাঠকের ভালোবাসা ও আস্থার কারণেই।
একই সঙ্গে যুগান্তরের পরিবারভুক্ত সকল সম্পাদক, সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মীদের জানাই হৃদয়নিঃসৃত অভিনন্দন। তাদের নিরলস পরিশ্রম, ত্যাগ ও মেহনতের ফলেই যুগান্তর আজ এই উচ্চতায়। মহান আল্লাহ তাদের সকল শ্রম কবুল করুন, কলমকে আরও দৃঢ় করুন এবং সত্যের পথে অবিচল রাখুন।
আগামীতেও যুগান্তর যেন ন্যায়, সততা ও মানবিকতার দীপশিখা হয়ে দেশের মানুষের মনোজগত আলোকিত করে—এই কামনাই রইল।
‘যুগান্তরের কলমে জ্বলে সত্যের দীপ্তি,
হৃদয়ের আকাশে বয়ে যায় ন্যায়ের সুর লাবণ্যময়ী।’
লেখক: শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর

