Logo
Logo
×
   

Advertisement

দৃষ্টিপাত

জনসংখ্যাভিত্তিক পুলিশ ইউনিট গঠন এবং অপরাধের ধরন অনুযায়ী কর্ম বিভাজন

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন বাস্তবতা

Advertisement

ড. মোঃ রুহুল আমিন সরকার

ড. মোঃ রুহুল আমিন সরকার

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১২:০৬ পিএম

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন বাস্তবতা

ফাইল ছবি

Advertisement

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে পুলিশ বাহিনী নানা পর্যায়ে আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে, তদন্তে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি যুক্ত হয়েছে, জরুরি সেবার জন্য ৯৯৯ চালু হয়েছে, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষ সক্ষমতা গড়ে উঠেছে এবং কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার চেষ্টা হয়েছে।

তবুও একটি মৌলিক বাস্তবতা আজও রয়ে গেছে—দেশের অধিকাংশ থানা এখনও প্রায় একই ধরনের সাংগঠনিক কাঠামো ও জনবল নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, যদিও তাদের জনসংখ্যা, ভৌগোলিক বিস্তৃতি, অপরাধের ধরন এবং কাজের চাপ একেবারেই এক নয়। 

বাংলাদেশে এমন বহু থানা রয়েছে, যেখানে প্রতিদিনের কাজের চাপ একটি ছোট জেলার সমান, আবার কোথাও একটি থানার জনসংখ্যা একটি জেলার জনসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে এমন অনেক থানা রয়েছে, যেখানে মামলার সংখ্যা, অপরাধের প্রকৃতি এবং জননিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। কিন্তু জনবল বণ্টন, দায়িত্ব নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক কাঠামোতে এই বৈষম্যের যথাযথ প্রতিফলন এখনও দৃশ্যমান নয়।

রাজধানীর পাশের কেরানীগঞ্জ, সাভার, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা কিংবা চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মতো থানাগুলো এ বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। এসব থানায় জনসংখ্যার ঘনত্ব, দ্রুত নগরায়ণ, শিল্পকারখানার বিস্তার, ব্যবসা-বাণিজ্য, মহাসড়ক, শ্রমিকের চলাচল এবং প্রতিদিনের জনসমাগমের কারণে পুলিশকে বহুমাত্রিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। 

স্থানীয় প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় দীর্ঘদিন ধরে এ ধারণা প্রচলিত যে কেরানীগঞ্জ থানার জনসংখ্যা দেশের কয়েকটি ছোট জেলার সমপর্যায়ের, এমনকি তিন পার্বত্য জেলার সম্মিলিত জনসংখ্যার সঙ্গেও তুলনা করা হয়।

একইভাবে ফটিকছড়ি থানায় মামলার চাপ ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ অনেক জেলার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে মাঠপর্যায়ে আলোচিত হয়। এসব তুলনা সরকারি হালনাগাদ তথ্য দিয়ে যাচাই করা উচিত হলেও, বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট করে—সব থানাকে একই কাঠামোয় পরিচালনা করা আর কার্যকর সমাধান নয়।

আজকের বাংলাদেশে অপরাধের ধরনও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একসময় একটি থানার প্রধান কাজ ছিল চুরি, ডাকাতি, মারামারি বা হত্যা মামলার তদন্ত। এখন সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে সাইবার প্রতারণা, মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি, অনলাইন ব্ল্যাকমেইল, মাদক চক্র, কিশোর গ্যাং, নারী ও শিশু নির্যাতন, সড়ক নিরাপত্তা, শিল্পাঞ্চলের শ্রম অসন্তোষ, ভিআইপি নিরাপত্তা, বড় জনসমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জরুরি সেবায় তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়ার মতো অসংখ্য নতুন দায়িত্ব। একজন পুলিশ সদস্যের পক্ষে একই সঙ্গে এসব বিষয়ে সমান দক্ষতা অর্জন করা বাস্তবসম্মত নয়।

আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিশেষায়ন (Specialization) একটি স্বীকৃত নীতি। চিকিৎসা বিজ্ঞানে যেমন একজন চিকিৎসক একই সঙ্গে হৃদরোগ, ক্যানসার, স্নায়ুরোগ ও শিশু চিকিৎসার বিশেষজ্ঞ হন না। তেমনি পুলিশিংয়েও প্রতিটি সদস্যের কাছ থেকে সব ধরনের কাজে সমান দক্ষতা প্রত্যাশা করা যৌক্তিক নয়। উন্নত বিশ্বের অধিকাংশ দেশে তাই থানা বা স্থানীয় পুলিশ ইউনিটের ভেতরেই তদন্ত, সাইবার অপরাধ, জনশৃঙ্খলা, গোয়েন্দা তথ্য, ভিকটিম সাপোর্ট এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার জন্য পৃথক বিশেষায়িত দল গড়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশেও সেই বাস্তবতা এখন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। শুধু পুলিশের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশ ইউনিট গঠন করতে হবে এবং থানার ভেতরে অপরাধের ধরন অনুযায়ী কর্মবিভাজন করতে হবে। একই সঙ্গে বড় বড় থানাগুলোকে প্রচলিত থানার কাঠামো থেকে বের করে মেট্রোপলিটন আদলের ছোট প্রশাসনিক ইউনিটে রূপান্তর করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।

একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশে কার্যকর পুলিশিংয়ের মূল প্রশ্ন আর শুধু ‘কতজন পুলিশ আছে’ নয়; বরং ‘কোথায় কতজন পুলিশ দরকার, তারা কী কাজে নিয়োজিত থাকবেন এবং কোন দক্ষতা নিয়ে কাজ করবেন’—এই তিনটি প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক উত্তর খুঁজে বের করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

পরবর্তী পর্বে আমি ‘কেন জনসংখ্যাভিত্তিক পুলিশ ইউনিট গঠন এখন সময়ের দাবি’ শিরোনামে বিস্তারিত আলোচনা করব। সেখানে জনসংখ্যা, নগরায়ণ, অপরাধের পরিবর্তিত ধরণ, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের বাস্তবতার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হবে।

কেন জনসংখ্যাভিত্তিক পুলিশ ইউনিট গঠন এখন সময়ের দাবি

বাংলাদেশের জনসংখ্যা গত কয়েক দশকে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে নগরায়ণ, শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং মানুষের অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের কারণে দেশের অনেক থানা আজ আর কেবল একটি প্রশাসনিক এলাকার পুলিশি দায়িত্ব পালন করছে না; বরং সেগুলো একটি বৃহৎ নগরাঞ্চলের মতো বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। অথচ এসব থানার সাংগঠনিক কাঠামো অনেক ক্ষেত্রে এখনও বহু বছর আগের বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

একটি থানার দায়িত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু ভৌগোলিক আয়তন বিবেচনা করলেই চলবে না। বরং অন্তত পাঁচটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে—(১) জনসংখ্যা, (২) দৈনিক জনসমাগম বা ভাসমান জনগোষ্ঠী, (৩) অপরাধের ধরন ও সংখ্যা, (৪) শিল্পকারখানা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং (৫) গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও যোগাযোগব্যবস্থা। এই পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে থানার জনবল, যানবাহন, প্রযুক্তি, তদন্ত সক্ষমতা এবং নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হলে পুলিশি সেবা আরও কার্যকর হবে।

ধরা যাক, একটি থানায় ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ বসবাস করে, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কর্মস্থল, বাজার, আদালত, শিল্পাঞ্চল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। সেখানে প্রতিদিন শত শত সাধারণ ডায়েরি (জিডি), বহু অভিযোগ, অসংখ্য ট্রাফিক সমস্যা, পারিবারিক বিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ, সাইবার প্রতারণা, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ এবং বিভিন্ন ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে একটি ছোট জেলায় বা কম জনসংখ্যার থানায় একই মাত্রার চাপ নাও থাকতে পারে। কিন্তু যদি উভয় থানাকে প্রায় একই প্রশাসনিক কাঠামো ও সীমিত জনবল দিয়ে পরিচালনা করা হয়, তাহলে বড় থানার জনগণ স্বাভাবিকভাবেই কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হবে।

এই বাস্তবতা রাজধানীর আশপাশের কেরানীগঞ্জ, সাভার, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল এবং চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মতো এলাকায় আরও স্পষ্ট। এসব থানায় জনসংখ্যার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, যানবাহনের চাপ, শ্রমিকের চলাচল, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি এবং অপরাধের বৈচিত্র্য অন্য অনেক জেলার তুলনায় অনেক বেশি। ফলে একটি সাধারণ থানার প্রচলিত কাঠামো দিয়ে এসব এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অপরাধের প্রকৃতি বদলে গেছে। বর্তমানে পুলিশের কাজ শুধু মামলা নেওয়া বা তদন্ত করা নয়। একটি থানাকে একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ, অনলাইন প্রতারণা শনাক্ত, নারী ও শিশু সুরক্ষা, মাদকবিরোধী অভিযান, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, বড় জনসমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং জরুরি সেবায় তাৎক্ষণিক সাড়া দিতে হয়। এত ভিন্নধর্মী দায়িত্ব একই কর্মকর্তা বা একই টিমের ওপর অর্পণ করলে দক্ষতা ও জবাবদিহি—দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

সেজন্য এখন সময় এসেছে প্রতিটি থানায় দায়িত্বের স্পষ্ট বিভাজন করার। এই ধরনের কর্মবিভাজনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—প্রতিটি ইউনিট তাদের নিজস্ব কাজে দক্ষতা অর্জন করবে। একই সঙ্গে দায়িত্ব নির্ধারণ স্পষ্ট হওয়ায় জবাবদিহিও বাড়বে। কোন মামলার তদন্ত কেন বিলম্বিত হলো, কোন জরুরি কলে কেন সময়মতো সাড়া দেওয়া গেল না, অথবা জনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোথায় ঘাটতি রইল—এসব বিষয় সহজেই মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

জনসংখ্যাভিত্তিক পুলিশ ইউনিট গঠন এবং অপরাধভিত্তিক কর্মবিভাজন কেবল প্রশাসনিক সংস্কার নয়। এটি জনগণের সাংবিধানিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ। কারণ আধুনিক রাষ্ট্রে কার্যকর পুলিশিং মানেই শুধু অপরাধ দমন নয়, বরং মানুষের কাছে দ্রুত, দক্ষ, জবাবদিহিমূলক এবং বিশেষায়িত সেবা পৌঁছে দেওয়া।এর পরের অংশে আমি ‘প্রতিটি থানায় কী ধরনের বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে, কতজন সদস্য থাকবে এবং কেন বড় থানাগুলোকে এসপি বা অতিরিক্ত ডিআইজির নেতৃত্বে 'মিনি মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিট' হিসেবে গড়ে তোলা উচিত’—এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

থানায় বিশেষায়িত ইউনিট গঠন ও আধুনিক পুলিশিংয়ের অপরিহার্য রূপরেখা

বর্তমান সময়ে একটি থানার কাজ শুধু মামলা নেওয়া বা আসামি গ্রেফতার করা নয়। একটি থানা এখন একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধ তদন্ত, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, নারী ও শিশু সুরক্ষা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ভিআইপি নিরাপত্তা, দুর্যোগে উদ্ধার কার্যক্রম এবং জনগণের জরুরি সেবার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এত বহুমুখী দায়িত্ব একটি সাধারণ ডিউটি অফিসার বা কয়েকজন তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা বাস্তবসম্মত নয়। 

তাই প্রতিটি থানায় অপরাধের ধরন ও দায়িত্ব অনুযায়ী বিশেষায়িত ইউনিট গঠন এখন সময়ের দাবি।

বিশ্বের উন্নত পুলিশ বাহিনীগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, থানার ভেতরেই পৃথক পৃথক ইউনিট গঠন করে প্রতিটি ইউনিটকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে একজন কর্মকর্তা বছরের পর বছর একই বিষয়ে কাজ করতে করতে সেই ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন। বাংলাদেশেও সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা গেলে তদন্তের মান যেমন বাড়বে, তেমনি জনগণও দ্রুত ও উন্নত সেবা পাবে।

১. পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট ইউনিট (Public Order Management Unit)

এটি হবে থানার সবচেয়ে বড় ইউনিট। রাজনৈতিক কর্মসূচি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ঈদ, পূজা, নির্বাচন, শ্রমিক আন্দোলন, বড় জনসমাবেশ, সড়ক অবরোধ, ভিআইপি সফর, আকস্মিক সংঘর্ষ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এই ইউনিট মাঠে কাজ করবে। সাধারণ থানায় এই ইউনিটে ৮০ থেকে ১৫০ জন সদস্য থাকতে পারে। 

তবে কেরানীগঞ্জ, সাভার, ফতুল্লা, ফটিকছড়ি, সীতাকুণ্ড, আশুলিয়া বা শিল্পাঞ্চলভিত্তিক বড় থানায় ৩০০ থেকে ৪০০ জন সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট ইউনিট থাকা উচিত। কারণ এসব এলাকায় যেকোনো সময় হাজার হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে এবং দ্রুত বিপুল সংখ্যক প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের প্রয়োজন হয়।

২. মামলা তদন্ত ও ফরেনসিক ইউনিট

বাংলাদেশে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ার অন্যতম কারণ তদন্তের ওপর অতিরিক্ত চাপ। একজন তদন্ত কর্মকর্তাকে একই সঙ্গে মামলা তদন্ত, আদালতে হাজিরা, আসামি গ্রেফতার, ভিআইপি ডিউটি এবং প্রশাসনিক কাজ করতে হয়। ফলে তদন্তের গতি কমে যায়। প্রতিটি থানায় একটি স্বতন্ত্র তদন্ত ইউনিট গঠন করা উচিত, যেখানে থানার আকার অনুযায়ী ২০ থেকে ৬০ জন তদন্ত কর্মকর্তা থাকবেন। তাদের অন্য কোনো দায়িত্ব দেওয়া হবে না। তারা শুধু তদন্ত করবেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করবেন, ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করবেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে মানসম্পন্ন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

৩. সাইবার ক্রাইম ও ডিজিটাল ফরেনসিক ইউনিট

বর্তমানে প্রতারণার বড় অংশই অনলাইনে সংঘটিত হচ্ছে। বিকাশ, নগদ, ব্যাংকিং জালিয়াতি, ফেসবুক হ্যাকিং, অনলাইন ব্ল্যাকমেইল, ডিজিটাল প্রতারণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অপরাধ দ্রুত বাড়ছে। তাই প্রতিটি থানায় কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়ে একটি সাইবার ইউনিট থাকতে হবে। 

বড় থানাগুলোতে এই সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ জন পর্যন্ত হওয়া উচিত। এই ইউনিট সরাসরি সিআইডি ও পিবিআইয়ের প্রযুক্তিগত সহায়তা গ্রহণ করবে এবং প্রাথমিক পর্যায়েই ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ করবে।

৪. জরুরি সাড়া ও ৯৯৯ রেসপন্স ইউনিট

অনেক সময় দেখা যায়, জরুরি ফোন পাওয়ার পরও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়। কারণ নির্দিষ্ট রেসপন্স টিম থাকে না। প্রতিটি থানায় ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত একটি রেসপন্স ইউনিট থাকতে হবে, যেখানে ১৫ থেকে ৩০ জন সদস্য পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। তারা শুধুমাত্র জরুরি কল, দুর্ঘটনা, ডাকাতি, ছিনতাই, পারিবারিক সহিংসতা এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য কাজ করবেন।

৫. কমিউনিটি পুলিশিং ও ভিকটিম সাপোর্ট ইউনিট

অপরাধ দমন শুধু গ্রেফতার করলেই হয় না; অপরাধ প্রতিরোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অপরিহার্য। এই ইউনিটে ১০ থেকে ২০ জন সদস্য থাকবেন। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, মসজিদ, মন্দির, শিল্পকারখানা, নারী সংগঠন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করবেন। নারী ও শিশু নির্যাতনের ভুক্তভোগীদের আইনি ও মানবিক সহায়তাও দেবেন।

৬. গোয়েন্দা ও অপরাধ বিশ্লেষণ ইউনিট

অপরাধ ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে অপরাধ ঘটার আগেই তথ্য সংগ্রহ করা বেশি কার্যকর। প্রতিটি থানায় ১০ থেকে ১৫ জন সদস্যের একটি গোয়েন্দা ও ক্রাইম অ্যানালাইসিস ইউনিট থাকতে হবে। তারা অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করবে, কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ চক্র এবং সংঘবদ্ধ অপরাধীদের তথ্য বিশ্লেষণ করবে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধের প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

বড় থানাগুলোকে কেন মিনি মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিটে রূপান্তর করতে হবে?

বাংলাদেশের অনেক থানার কাজের চাপ ইতোমধ্যে একটি জেলার সমান বা তারও বেশি। কিন্তু প্রশাসনিক কাঠামো এখনও একটি সাধারণ থানার মতো। এর ফলে একজন পুলিশ সুপারকে পুরো জেলার পাশাপাশি এমন একটি বিশাল থানার দিকেও সমানভাবে নজর দিতে হয়, যা বাস্তবে কঠিন। এ কারণে কেরানীগঞ্জ, সাভার, ফতুল্লা, ফটিকছড়ি, আশুলিয়া, সীতাকুণ্ড, রূপগঞ্জ, টঙ্গীসহ উচ্চ জনসংখ্যা ও উচ্চ অপরাধপ্রবণ থানাগুলোকে ‘মিনি মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিট’ হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। যেসব থানার জনসংখ্যা ১০ লাখের বেশি, বছরে হাজার হাজার মামলা রুজু হয়, গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল রয়েছে এবং নিয়মিত বড় জনসমাগম ঘটে—সেসব ইউনিটের নেতৃত্বে একজন পুলিশ সুপার (এসপি) থাকা উচিত।

আর যেসব থানার জনসংখ্যা ১৫-২০ লাখ বা তার বেশি, যেখানে শিল্প, বন্দর, মহাসড়ক, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জটিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একসঙ্গে বিদ্যমান, সেসব এলাকাকে পৃথক প্রশাসনিক পুলিশ ইউনিট হিসেবে গঠন করে একজন অতিরিক্ত ডিআইজি-এর নেতৃত্বে পরিচালনা করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে।

এই ইউনিটের অধীনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার, পর্যাপ্ত সংখ্যক পরিদর্শক, তদন্ত কর্মকর্তা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং পর্যাপ্ত যানবাহন, ড্রোন, সিসিটিভি মনিটরিং সেন্টার ও আধুনিক কন্ট্রোল রুম থাকবে। অর্থাৎ এটি একটি ছোট আকারের মেট্রোপলিটন পুলিশের মতো কাজ করবে।

এ ধরনের সংস্কারের ফলে একদিকে জেলার পুলিশ সুপার পুরো জেলার সার্বিক তদারকিতে মনোযোগ দিতে পারবেন, অন্যদিকে বড় থানাগুলোও নিজেদের বাস্তবতা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব ও পর্যাপ্ত জনবল পাবে। এতে মামলা তদন্তের মান উন্নত হবে, জনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ হবে, জরুরি সেবায় সাড়া দেওয়ার সময় কমবে, পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা বাড়বে এবং সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন ঘটবে। 

বাংলাদেশের অর্থনীতি, জনসংখ্যা এবং অপরাধের ধরন গত তিন দশকে যেভাবে বদলেছে, পুলিশ প্রশাসনের কাঠামোও এখন সেই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিবর্তিত হওয়া জরুরি। জনসংখ্যাভিত্তিক পুলিশ ইউনিট এবং অপরাধভিত্তিক বিশেষায়িত কর্মবিভাগ আর বিলাসিতা নয়। এটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব পুলিশিং প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত।পরবর্তী অংশে আন্তর্জাতিক উদাহরণ (যুক্তরাজ্য, জাপান, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র), জনসংখ্যা অনুযায়ী পুলিশ সদস্যের ধারণা, এবং বাংলাদেশে এই সংস্কার বাস্তবায়নের প্রশাসনিক ও আইনগত রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলে নিবন্ধটি আরও শক্তিশালী হবে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের জন্য করণীয়

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর পুলিশ ব্যবস্থার দিকে তাকালে একটি বিষয় খুব স্পষ্টভাবে দেখা যায়—তারা পুলিশ সদস্যদের শুধু সংখ্যায় বাড়ায়নি, বরং জনসংখ্যা, অপরাধের ধরন এবং এলাকার গুরুত্ব অনুযায়ী প্রশাসনিক কাঠামোও পরিবর্তন করেছে। আধুনিক পুলিশিংয়ের মূল দর্শন হলো— সব এলাকার জন্য একই ধরনের পুলিশ কাঠামো কার্যকর নয়।

বাংলাদেশেও দীর্ঘদিন ধরে জেলার ভিত্তিতে পুলিশ প্রশাসন পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে দেশের অর্থনীতি, নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং জনসংখ্যার বিস্তার এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শুধুমাত্র জেলার সীমারেখা ধরে পুলিশ প্রশাসন পরিচালনা করলে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

যুক্তরাজ্যের অভিজ্ঞতা

যুক্তরাজ্যে প্রতিটি পুলিশ বাহিনী তাদের এলাকার জনসংখ্যা, অপরাধের ধরণ এবং ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে জনবল নির্ধারণ করে। স্থানীয় থানার ভেতরেই তদন্ত, সাইবার অপরাধ, কমিউনিটি পুলিশিং, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য পৃথক ইউনিট রয়েছে। ফলে একজন তদন্ত কর্মকর্তা সারাদিন ভিআইপি ডিউটি করে আবার রাতে হত্যা মামলার তদন্ত করেন—এ ধরনের পরিস্থিতি খুব কম দেখা যায়।

জাপানের অভিজ্ঞতা

জাপানের পুলিশ ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম সফল মডেল হিসেবে বিবেচিত। সেখানে ছোট ছোট পুলিশ বক্স (কোবান) জনগণের একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করে। একই সঙ্গে বড় শহরগুলোতে অপরাধ বিশ্লেষণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, তদন্ত এবং জনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বিশেষায়িত ইউনিট রয়েছে। ফলে পুলিশ শুধু অপরাধ দমন করে না, অপরাধ প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে।

সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা

আয়তনে ছোট হলেও সিঙ্গাপুর অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ। সেখানে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং, দ্রুত সাড়া প্রদান, সিসিটিভি মনিটরিং, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিশেষায়িত ইউনিটের সমন্বিত ব্যবস্থার কারণে আইনশৃঙ্খলা অত্যন্ত কার্যকরভাবে বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের দায়িত্ব নির্দিষ্ট হওয়ায় জবাবদিহিও স্পষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি শহরের পুলিশ বিভাগের কাঠামো সেই শহরের জনসংখ্যা ও অপরাধ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। বড় শহরগুলোতে হোমিসাইড ইউনিট, সাইবার ইউনিট, নারকোটিকস ইউনিট, স্পেশাল ওয়েপনস অ্যান্ড ট্যাকটিকস, ট্রাফিক ইউনিট, গ্যাং ইউনিট, ভিকটিম অ্যাসিস্ট্যান্স ইউনিটসহ অসংখ্য বিশেষায়িত বিভাগ রয়েছে। এর ফলে দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং প্রতিটি ইউনিট নির্দিষ্ট কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে মূল্যায়িত হয়।

বাংলাদেশে কেন এই পরিবর্তন জরুরি

বাংলাদেশ আজ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে, অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্পাঞ্চল এবং দ্রুত নগরায়ণের ফলে মানুষের চলাচল ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বহুগুণ বেড়েছে।

কিন্তু পুলিশের অনেক থানার সাংগঠনিক কাঠামো এখনও বহু বছর আগের বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে পরিচালিত হচ্ছে। একটি থানায় যদি ১৫-২০ লাখ মানুষ বসবাস করে, প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষের যাতায়াত হয়, শত শত শিল্পপ্রতিষ্ঠান থাকে এবং বছরে হাজার হাজার মামলা হয়, তাহলে সেই থানাকে একটি ছোট জেলার সমান গুরুত্ব দেওয়া যৌক্তিক। সেখানে একজন অফিসার ইনচার্জ ও সীমিত সংখ্যক কর্মকর্তার ওপর পুরো দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন।

কোন ভিত্তিতে নতুন পুলিশ ইউনিট গঠন করা উচিত?

ভবিষ্যতের বাংলাদেশে নতুন পুলিশ ইউনিট গঠনের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত সূচকগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে—

- জনসংখ্যার পরিমাণ।

- বছরে রুজুকৃত মামলার সংখ্যা।

- অপরাধের ধরন ও জটিলতা।

- শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিমাণ।

- দৈনিক ভাসমান জনসংখ্যা।

- গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক, বন্দর, বিমানবন্দর বা রেল যোগাযোগ।

- রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির ঘনত্ব।

- দুর্যোগ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বৈশিষ্ট্য।

এই সূচকগুলোর ভিত্তিতে থানাগুলোকে ক্যাটাগরি-এ, ক্যাটাগরি-বি এবং ক্যাটাগরি-সি—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যেতে পারে।

- ক্যাটাগরি-এ: অত্যন্ত উচ্চ জনসংখ্যা ও উচ্চ অপরাধপ্রবণ থানা; নেতৃত্বে এসপি বা প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ডিআইজি।

- ক্যাটাগরি-বি: মাঝারি আকারের থানা; নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

- ক্যাটাগরি-সি: তুলনামূলক কম জনসংখ্যার থানা; প্রচলিত কাঠামো বজায় রেখে প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত ইউনিট।

কেন এই সংস্কার অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ

আইনশৃঙ্খলা শুধু নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম পূর্বশর্ত। যেখানে মামলা দ্রুত তদন্ত হয়, অপরাধ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পুলিশ দ্রুত সাড়া দেয়, সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত হয়। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ পুলিশ প্রশাসনের আধুনিকায়ন কেবল পুলিশের স্বার্থে নয়; এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। অতএব, বাংলাদেশ পুলিশের আগামী দিনের সংস্কার কেবল নতুন পদ সৃষ্টি বা জনবল বৃদ্ধি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। প্রকৃত সংস্কার হবে তখনই, যখন জনসংখ্যা, অপরাধের ধরন, অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং প্রযুক্তিগত বাস্তবতাকে ভিত্তি করে প্রতিটি থানার জন্য পৃথক সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। সেই সংস্কারের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠতে পারে একটি দক্ষ, জবাবদিহিমূলক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং সত্যিকার অর্থে জনবান্ধব বাংলাদেশ পুলিশ।

ড. মো. রুহুল আমিন সরকার

অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম