চোরের উপর বাটপারি
jugantor
পাঠকবাড়ি রসের হাঁড়ি
চোরের উপর বাটপারি

  সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান  

০২ মার্চ ২০২১, ২২:২৩:০৬  |  অনলাইন সংস্করণ

একবার থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করতে গিয়ে ঘটল এক মজার কাণ্ড। তখন আমরা ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র।

মহল্লার সমবয়সি বন্ধুরা মিলে রাত সাড়ে এগারোটার দিকে নির্ধারিত স্থানে এসে মিলিত হই। তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে আমাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আয়োজনের সব ব্যবস্থা শুরু করে দিই।

যেই না রাত বারোটা বেজে এক মিনিট, অমনি তুমুলভাবে পটকা ফোটানো শুরু হয়ে গেল। সাইরেন বাজিয়ে পুলিশের গাড়ি আসার আগেই আমরা দৌড়ে নিরাপদ স্থানে পালিয়ে গেলাম। তারপর এক বন্ধুর খালি বাসায় গিয়ে জোরে গান বাজিয়ে শাখা মৃগের মতো নাচানাচি শুরু করলাম। নাচতে নাচতে ক্লান্ত হয়ে এক সময় পেটে প্রচণ্ড রকম ক্ষুধা অনুভব করলাম। তখন আমাদের স্বল্প আয়োজনে যা কিছু ছিল, সবকিছুই চেটেপুটে সাবাড় করে দিলাম। তারপর আরেক দফা নাচগান শুরু হলো এবং পেটের খাবার হজম হতেও সময় লাগল না। তখনই হঠাৎ আমাদের মাথায় এলো এক দুষ্টু বুদ্ধি। আরেক দফা খাবারের ব্যবস্থা করতে মুরগি চুরির সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা।

যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। আমাদের মধ্যে যে দুজন সবচেয়ে ভীতু, তাদের ভাত রান্নার দায়িত্ব দিয়ে বাকিরা নিশিকুটুম্বের মতো চুরিসারে অভিযানে বের হয়ে গেলাম। দূরে কোথাও গিয়ে সুবিধা করতে পারব না ভেবে প্রথমে মহল্লার একজনের মুরগির খোঁয়াড়ে হামলা চালালাম। অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে তালা ভেঙে মুরগি চুরি করতে না পারলেও মুরগিদের ঘুম ঠিকই ভাঙিয়ে দিলাম। মুরগিগুলো সমস্বরে ‘কক-খক-কক-খক’ শব্দে ডেকে উঠতেই আমরা সেখান থেকে দৌড়ে পালালাম। এক সময় আবিষ্কার করলাম, আমাদের এক ভীতু বন্ধু, যে তখন ভাত রান্নায় ব্যস্ত, সে বেশ কিছু কবুতর পালে। শীতের রাতে পাইপ বেয়ে বহুকষ্টে ওদের দোতলা বাসার বারান্দায় উঠে কবুতরের খোঁপ থেকে এক হালি কবুতর চুরি করে নেমে এলাম আমরা।

পূর্বের ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের দুই দুঃসাহসী চোর বন্ধু এক হাতে কবুতরের গলা চেপে ধরে অন্য হাতে পাইপ বেয়ে নিচে নেমে এলো। দুজনের হাতে দুটি করে কবুতর। বীরদর্পে ওরা নিচে নেমে আসার পর নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে আমরা আবিষ্কার করলাম, একটা কবুতরও বেঁচে নেই! ভয় ও চাপা উত্তেজনা, সেই সঙ্গে পাইপ বেয়ে নিচে নেমে আসার সময় হাতের মুঠোয় অতিরিক্ত চাপে কবুতরগুলো শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়! আমরা বাকিরা আমাদের দুই চোর বন্ধুর বীরেত্বর প্রশংসার বদলে চরম ভৎর্সনা শুরু করি। যদিও এতে ওদের খুব একটা দোষ নেই!

যা হোক, অত্যন্ত ব্যথিত মনে একটা ঝোপের মতো নোংরা ডোবায় মৃত কবুতর চারটিকে ফেলে দিই আমরা। কী আর বলব কষ্টের কথা, আমাদের অবাক করে দিয়ে কবুতর চারটি তখন মুহূর্তের মধ্যে ডানা মেলে উড়াল দিল। ওদের কাণ্ড দেখে আমরা থ! আসলে কবুতরগুলো কয়েক মিনিট শ্বাসরুদ্ধ থাকায় সাময়িকভাবে চেতনা হারিয়ে ফেলে। যখন ডোবায় বরফ শীতল পানির স্পর্শ পায়, তখনই হয়তো চেতনা ফিরে আসে। ওদের এমন বিস্ময়কর কাণ্ড দেখে আমাদের এক চোর বন্ধু তখন বলে উঠল, ‘একেই বলে চোরের উপর বাটপারি!’

পাঠকবাড়ি রসের হাঁড়ি

চোরের উপর বাটপারি

 সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান 
০২ মার্চ ২০২১, ১০:২৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

একবার থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করতে গিয়ে ঘটল এক মজার কাণ্ড। তখন আমরা ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট  ইয়ারের ছাত্র।

মহল্লার সমবয়সি বন্ধুরা মিলে রাত সাড়ে এগারোটার দিকে নির্ধারিত স্থানে এসে মিলিত হই। তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে আমাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আয়োজনের সব ব্যবস্থা শুরু করে দিই।

যেই না রাত বারোটা বেজে এক মিনিট, অমনি তুমুলভাবে পটকা ফোটানো শুরু হয়ে গেল। সাইরেন বাজিয়ে পুলিশের গাড়ি আসার আগেই আমরা দৌড়ে নিরাপদ স্থানে পালিয়ে গেলাম। তারপর এক বন্ধুর খালি বাসায় গিয়ে জোরে গান বাজিয়ে শাখা মৃগের মতো নাচানাচি শুরু করলাম। নাচতে নাচতে ক্লান্ত হয়ে এক সময় পেটে প্রচণ্ড রকম ক্ষুধা অনুভব করলাম। তখন আমাদের স্বল্প আয়োজনে যা কিছু ছিল, সবকিছুই চেটেপুটে সাবাড় করে দিলাম। তারপর আরেক দফা নাচগান শুরু হলো এবং পেটের খাবার হজম হতেও সময় লাগল না। তখনই হঠাৎ আমাদের মাথায় এলো এক দুষ্টু বুদ্ধি। আরেক দফা খাবারের ব্যবস্থা করতে মুরগি চুরির সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা।

যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। আমাদের মধ্যে যে দুজন সবচেয়ে ভীতু, তাদের ভাত রান্নার দায়িত্ব দিয়ে বাকিরা নিশিকুটুম্বের মতো চুরিসারে অভিযানে বের হয়ে গেলাম। দূরে কোথাও গিয়ে সুবিধা করতে পারব না ভেবে প্রথমে মহল্লার একজনের মুরগির খোঁয়াড়ে হামলা চালালাম। অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে তালা ভেঙে মুরগি চুরি করতে না পারলেও মুরগিদের ঘুম ঠিকই ভাঙিয়ে দিলাম। মুরগিগুলো সমস্বরে ‘কক-খক-কক-খক’ শব্দে ডেকে উঠতেই আমরা সেখান থেকে দৌড়ে পালালাম। এক সময় আবিষ্কার করলাম, আমাদের এক ভীতু বন্ধু, যে তখন ভাত রান্নায় ব্যস্ত, সে বেশ কিছু কবুতর পালে। শীতের রাতে পাইপ বেয়ে বহুকষ্টে ওদের দোতলা বাসার বারান্দায় উঠে কবুতরের খোঁপ থেকে এক হালি কবুতর চুরি করে নেমে এলাম আমরা।

পূর্বের ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের দুই দুঃসাহসী চোর বন্ধু এক হাতে কবুতরের গলা চেপে ধরে অন্য হাতে পাইপ বেয়ে নিচে নেমে এলো। দুজনের হাতে দুটি করে কবুতর। বীরদর্পে ওরা নিচে নেমে আসার পর নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে আমরা আবিষ্কার করলাম, একটা কবুতরও বেঁচে নেই! ভয় ও চাপা উত্তেজনা, সেই সঙ্গে পাইপ বেয়ে নিচে নেমে আসার সময় হাতের মুঠোয় অতিরিক্ত চাপে কবুতরগুলো শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়! আমরা বাকিরা আমাদের দুই চোর বন্ধুর বীরেত্বর প্রশংসার বদলে চরম ভৎর্সনা শুরু করি। যদিও এতে ওদের খুব একটা দোষ নেই!

যা হোক, অত্যন্ত ব্যথিত মনে একটা ঝোপের মতো নোংরা ডোবায় মৃত কবুতর চারটিকে ফেলে দিই আমরা। কী আর বলব কষ্টের কথা, আমাদের অবাক করে দিয়ে কবুতর চারটি তখন মুহূর্তের মধ্যে ডানা মেলে উড়াল দিল। ওদের কাণ্ড দেখে আমরা থ! আসলে কবুতরগুলো কয়েক মিনিট শ্বাসরুদ্ধ থাকায় সাময়িকভাবে চেতনা হারিয়ে ফেলে। যখন ডোবায় বরফ শীতল পানির স্পর্শ পায়, তখনই হয়তো চেতনা ফিরে আসে। ওদের এমন বিস্ময়কর কাণ্ড দেখে আমাদের এক চোর বন্ধু তখন বলে উঠল, ‘একেই বলে চোরের উপর বাটপারি!’
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন