Logo
Logo
×
   

Advertisement

বলিউড

রাজেশ খান্নার ‘আশীর্বাদ’ বাংলো কিনতে চেয়েছিলেন সালমান

Advertisement

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

রাজেশ খান্নার ‘আশীর্বাদ’ বাংলো কিনতে চেয়েছিলেন সালমান

Advertisement

১৯৬৯ থেকে ১৯৭২—এই সময়ের মধ্যে টানা ১৫টি একক হিট সিনেমার রেকর্ড, যা আজও বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে অক্ষত রেখেছেন কিংবদন্তি ‘প্রথম সুপারস্টার’ রাজেশ খান্না। তিনি ছিলেন বিলাসী জীবনযাপনের প্রতীক। তার ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে বিপুল সম্পদ ও সম্পত্তির মালিক হন এ অভিনেতা।

মুম্বাইয়ের কার্টার রোডে সমুদ্রমুখী একটি বাংলো কিনে তার নাম দেন ‘আশীর্বাদ’। খুব দ্রুতই এই বাংলো হয়ে ওঠে তার অতুলনীয় তারকাখ্যাতির প্রতীক। এই বাংলো একবার কিনতে চেয়েছিলেন সোহেল খান এবং বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলি ভাইজান খ্যাত অভিনেতা সালমান খান।

গৌতম চিন্তামণির বই ‘ডার্ক স্টার: দ্য লনলিনেস অব বিয়িং রাজেশ খান্না’ বইয়ে বলা হয়েছে— বাংলো ‘আশীর্বাদ’-এ উঠে আসার পর অভিনেতা রাজেশ খান্নার ‘রাজা সেজে থাকার আবরণ সম্পূর্ণ হয়। বই থেকে জানা যায়, সালমান খান চিত্রনাট্যকার রুমি জাফেরিকে ফোন করে জানান যে, তার ভাই সোহেল ‘আশীর্বাদ’ কিনতে আগ্রহী। খান পরিবার নাকি একাধিক আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিয়েছে।

এমনকি রাজেশ খান্নার আয়কর বকেয়া মেটানোর কথাও বলেছে। সালমান খান চুক্তিটি সম্পন্ন করতে মরিয়া ছিলেন এবং রাজেশ খান্নার প্রযোজনায় বিনা পারিশ্রমিকে অভিনয় করার প্রস্তাবও দেন।

কিন্তু ভাইজানের সেই প্রস্তাব শোনার পর রাজেশ খান্নার প্রতিক্রিয়া ছিল আহূত সিংহের মতো। রুমি জাফেরি বইয়ে স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘তিনি বলেছিলেন—আমি তোকে জামাইয়ের মতো ভাবি, আর তুই আমার বাড়ি বিক্রি করাতে চাস? আমাকে রাস্তায় নামাতে চাস? আমি বোঝাতে হিমশিম খেয়েছিলাম যে, আমি কেবল বার্তাবাহক।’

আশীর্বাদ বাংলোর ভেতরে নিজের তথাকথিত ‘দরবারে’ বসে রাজেশ খান্না প্রযোজকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করাতেন। অতিথিদের চেয়ে খানিকটা উঁচুতে রাখা চেয়ারে বসে তিনি রাজকীয় ভঙ্গিতে দর্শন দিতেন। অনেক প্রযোজক তার বিখ্যাত দরবারের বাইরে অনন্তকাল অপেক্ষা করতেন। সময় কাটানোর পরেই কেবল সাক্ষাৎ মিলত। তিনি তার পরিচিত সিল্কের লুঙ্গি-কুর্তা পরে আসতেন এবং অন্যদের থেকে একটু উঁচুতে রাখা চেয়ারে বসতেন-রাজা ও প্রজার পার্থক্য বোঝাতে।

আশীর্বাদের ভেতরের অংশে প্রবেশাধিকার ছিল হাতেগোনা কয়েকজনেরই। যারা অভিনেতার ঘনিষ্ঠ ছিলেন, কেবল তারা রাতভর উৎসব-উল্লাসে মেতে থাকতেন। শুধু নির্বাচিত কয়েকজনই ভেতরে ঢোকার সুযোগ পেত। ভেতরে রাতভর সবাই আকণ্ঠ পান করতেন।

সমালোচনা বা ভিন্নমত রাজেশ খান্না একেবারেই সহ্য করতেন না। কেউ তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলে বা বিপরীত মত দিলে, অনেক সময়ই তাকে দরবার ছাড়তে বলা হতো। নাটকীয় ভঙ্গিতে তিনি বলতেন, ‘আপনাকে আমাদের দরবার ছেড়ে যেতে হবে।’

তবে বিধির বিধান। রাজেশ খান্নার যেমন দ্রুত উত্থান ঘটে। ঠিক তেমনই দ্রুত তার পতনও ঘটে। ১৯৭৩ সালে ‘জঞ্জির’ মুক্তির পর অমিতাভ বচ্চনের উত্থানে রাজেশ খান্নার তারকাখ্যাতি ধীরে ধীরে ম্লান হতে থাকে। ‘শোলে’ ও ‘দিওয়ারের’ পর অমিতাভ তাকে ছাড়িয়ে যান। রাজেশ খান্না ফেরার চেষ্টা করলেও আগের সাফল্য আর ফিরে পাননি।

পরবর্তী সময়ে রাজেশ খান্নার আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, তিনি ‘আশীর্বাদ’ বিক্রি করতে চাইছেন। ঠিক এ সময়েই সালমান খানের ভাই সোহেল খান নাকি বাংলোটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, যা রাজেশ খান্না একেবারেই মেনে নিতে পারেননি। আয়কর বিভাগ থেকেও রাজেশ খান্নার কাছে দেড় কোটিরও বেশি টাকার বকেয়া দাবিতে নোটিশ আসে, যা তার অবস্থান আরও দুর্বল করে দেয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম