উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুক্তবুদ্ধির চর্চা প্রতিষ্ঠার আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৩ এএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে বক্তব্য দিচ্ছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সহনশীলতা, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, পরমতসহিষ্ণুতা, নৈতিকতা ও ন্যায্যতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
রোববার (২ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফিলোসফিক্যাল সোসাইটি আয়োজিত ‘শান্তির জন্য দর্শন’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, সমাজে বিদ্যমান অস্থিরতা, বৈষম্য ও দুর্নীতি দূর করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, দেশের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্প ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে নেতৃত্ব দেয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সহনশীলতা, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারকেরা সমাজে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হতে পারেন। এর ফলে দুর্নীতি, বৈষম্য ও সামাজিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার কারণে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিপীড়ন, বৈষম্য ও অন্যায়ের শিকার হয়েছেন। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমাশীলতা, সংলাপ ও ন্যায়ভিত্তিক পুনর্মিলনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। একটি মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই সহনশীলতা, দায়িত্ববোধ এবং নৈতিক মূল্যবোধের প্রথম পাঠশালা।
ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে অতিরিক্ত পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে সফট স্কিল, নৈতিকতা ও মূল্যবোধবিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে ইউজিসি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ মডিউল প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়নকে শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; উন্নয়নের ভিত্তি হতে হবে নৈতিকতা, মানবিকতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। মূল্যবোধহীন উন্নয়ন সমাজে বৈষম্য ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে, কিন্তু স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে পারে না। তাই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধের বিকাশেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কেবল কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি নয়; বরং এটি একজন শিক্ষার্থীকে দায়িত্বশীল নাগরিক, নৈতিক নেতৃত্বসম্পন্ন ব্যক্তি এবং বিশ্বমানব হিসেবে গড়ে তোলার ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তিনি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সমালোচনামূলক চিন্তাচর্চা, নৈতিক শিক্ষা, আন্তঃবিষয়ক গবেষণা এবং যুক্তিনির্ভর সংলাপের সংস্কৃতি আরও জোরদারে দর্শনশাস্ত্রের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ফিলোসফিক্যাল সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহ কাওসার মুস্তাফা আবুলওলায়ী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, ভারতের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার পাল, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এবং বাংলাদেশ ফিলোসফিক্যাল সোসাইটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহজাহান মিয়া।
দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং দর্শনচিন্তাবিদরা অংশ নেন। সম্মেলনে শান্তি, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, দর্শনচর্চা এবং সমকালীন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দর্শনের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণাপত্র উপস্থাপন ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

