Logo
Logo
×
   

শিক্ষাঙ্গন

লিখিত পরীক্ষার নাম্বার কমিয়ে ভাইভার নাম্বার বাড়ানোর প্রতিবাদে জাকসুর বিক্ষোভ

Icon

জাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৭ এএম

লিখিত পরীক্ষার নাম্বার কমিয়ে ভাইভার নাম্বার বাড়ানোর প্রতিবাদে জাকসুর বিক্ষোভ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার নাম্বার কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)। 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

সমাবেশে জাকসুর এজিএস ফেরদৌস আল হাসান বলেন, আমরা কারও দয়া-দাক্ষিণ্যে চাকরি পেতে চাই না। আমরা চাই মেধার ভিত্তিতে চাকরি হোক। সরকারি চাকরির নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার নাম্বার কমিয়ে ভাইভার নাম্বার বাড়ানো হলে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরির পরীক্ষায় আগে লিখিত পরীক্ষায় ৯০ শতাংশ এবং ভাইভায় ১০ শতাংশ নাম্বার ছিল। বর্তমানে বিভিন্ন গ্রেডে ভাইভার নাম্বার বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যারা দিনের পর দিন লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত রেফারেন্সের মাধ্যমে নয়, নিজেদের মেধার ভিত্তিতে চাকরি পেতে চান। 

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো ধরনের তালবাহানা করা যাবে না। অবিলম্বে ভাইভার নাম্বার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে। অন্যথায় চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।

সমাবেশে জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে এখানে আসিনি। আমরা তাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছি, যারা দিন-রাত লাইব্রেরি, হলের রিডিং রুম কিংবা নিজের কক্ষে পড়াশোনা করে একটি ভালো চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে এবং পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে পরিশ্রম করছে।

তিনি বলেন, লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে একজন প্রার্থীর মেধা, যোগ্যতা ও জ্ঞান যাচাইয়ের সুযোগ থাকে। অন্যদিকে ভাইভায় পরীক্ষকের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ও মতামতের প্রভাব পড়ার সুযোগ থাকে। তাই লিখিত পরীক্ষার তুলনায় ভাইভাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হলে পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, চাকরির ভাইভা স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌখিক পরীক্ষার মতো নয়। নিয়োগের ক্ষেত্রে ভাইভা বোর্ডে থাকা ব্যক্তিদের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয়, রেফারেন্স কিংবা স্বজনপ্রীতির প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। আমরা এমন কোনো ব্যবস্থা চাই না, যেখানে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় থাকবেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম