জাবির ভর্তি পরীক্ষা ১৭ জানুয়ারি, হচ্ছে না বিভাগীয় পর্যায়ে
Advertisement
জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নানা আলোচনা, উদ্যোগ ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পরও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় পর্যায়ে হচ্ছে না। সময়সূচি, পরীক্ষা কেন্দ্রের সংকট, ব্যবস্থাপনা জটিলতা ও বাড়তি ব্যয়সহ নানা কারণে এবারও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার দিকে যাচ্ছে প্রশাসন।
আগামী ১৭ জানুয়ারি থেকে ভর্তি পরীক্ষা শুরুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভা শেষে সংশ্লিষ্টরা এসব তথ্য জানান।
বিষয়টি আগামী একাডেমিক কাউন্সিল ও কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভায় চূড়ান্ত করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম বলেন, আগামী ১৭ জানুয়ারি থেকে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভর্তি পরীক্ষা কোন পদ্ধতিতে এবং কী সময়সূচিতে হবে, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
বিভাগীয় পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময়সূচির কারণে এবার বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। যেসব সময়ে পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেসব স্পট ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা নিতে হলে এপ্রিল-মে মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এতে ভর্তি কার্যক্রম অনেক দেরিতে শুরু হবে। তাই এ বছর বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে আগামী বছর থেকে এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মো. আলী রেজা বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাস্তব সমস্যা সামনে এসেছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র ও সময় আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। ফলে জাবির জন্য প্রয়োজনীয় কেন্দ্র ও সময় পাওয়া কঠিন হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা আয়োজন করলে আনুষঙ্গিক খরচও বেড়ে যাবে। বিষয়গুলো জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় উপস্থাপন করা হবে। চলতি মাসেই একাডেমিক কাউন্সিলের সভা হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা আয়োজন করলে শিক্ষক সম্মানী, অ্যাসিস্ট্যান্ট ফি, আবেদন ফি, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়বে। এতে বর্তমান ব্যবস্থার তুলনায় ভর্তি পরীক্ষার খরচ দেড় থেকে দুই গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার ফি প্রায় ১ হাজার ৬শ থেকে ১ হাজার ৭শ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে সভায় আলোচনা হয়েছে। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে আয়োজনের দাবি নতুন নয়।
২০২২ সালের এপ্রিলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) জাবির ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে আয়োজনের সুপারিশ করেছিল। তবে সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের বাইরে পরীক্ষা কেন্দ্র না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় যানজট, পরিবহণ সংকট, পার্কিং, পানি, খাবার ও পরীক্ষাকেন্দ্র নিয়ে নানা ভোগান্তির অভিযোগ ওঠে। এতে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জোরালো হয়।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও জাবির ভর্তি পরীক্ষা ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। সেই সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানও ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ৮ জুলাই বিভাগীয় পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য চারটি পৃথক উপকমিটি গঠন করে জাবি প্রশাসন। আগস্টেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়ে কাজ চলার কথা জানানো হয়। তবে শেষপর্যন্ত কেন্দ্র ও সময়সূচি ব্যবস্থাপনার জটিলতা এবং বাড়তি ব্যয়ের কারণে চলতি শিক্ষাবর্ষে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
