প্রাথমিকে নিয়োগপত্র পেয়েও যোগ দেননি ১ হাজার ৪৭১ প্রার্থী
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও ১ হাজার ৪৭১ জন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দেননি। এর মধ্যে ৫৫৩ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি এবং নিয়োগপত্র পেয়েও ৯১৮ জন নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দেননি। এ ছাড়া পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও বিভিন্ন ধাপে যাচাই-বাছাইয়ে ৮৩ জন শেষ পর্যন্ত নিয়োগ পাননি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫’-এর মাধ্যমে দুই ধাপে ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়।
পরে যাচাই-বাছাই শেষে গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলো নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করে। প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে ১ অক্টোবরের মধ্যে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদান শুরু হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, কয়েক ধাপে দেওয়া নির্দেশনার পর ১৩ হাজার ৮৩১ জন প্রার্থী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। তবে ৫৫২ জন কোনো কাগজপত্র জমা দেননি। এ ছাড়া একজন প্রার্থী মারা গেছেন। ফলে কাগজপত্র জমা না দেওয়া ও মৃত প্রার্থী মিলিয়ে ৫৫৩ জন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আর এগোতে পারেননি।
কাগজপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৮ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। তবে তাদের সবাই চাকরিতে যোগ দেননি। এর মধ্যে ১২ হাজার ৮৩০ জন কর্মস্থলে যোগ দিলেও ৯১৮ জন নির্ধারিত সময়ে যোগ দেননি।
সব মিলিয়ে কাগজপত্র জমা না দেওয়া ৫৫৩ জন এবং নিয়োগপত্র পেয়েও যোগ না দেওয়া ৯১৮ জন—মোট ১ হাজার ৪৭১ জন সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেননি।
কর্মকর্তারা জানান, যোগ না দেওয়া প্রার্থীদের কেউ অন্য চাকরিতে চলে গেছেন। আবার কেউ কেউ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আর আগ্রহ দেখাননি। ফলে নিয়োগপত্র পেয়েও অনেকে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দেননি।
এদিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও বিভিন্ন ধাপে যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন অনেকে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একপর্যায়ে নিয়োগপত্র পেলেও শেষ পর্যন্ত ৮৩ জন প্রার্থী নিয়োগ পাননি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে প্রার্থীদের কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়।

