Logo
Logo
×

Advertisement

শিক্ষাঙ্গন

নিকাব পরায় ছাত্রীকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা, ঢাবি শিক্ষককে ক্লাস থেকে অব্যাহতি

Advertisement

Icon

ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম

নিকাব পরায় ছাত্রীকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা, ঢাবি শিক্ষককে ক্লাস থেকে অব্যাহতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব।

Advertisement

নেকাব পরা এক ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবকে সব ধরনের ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। 

শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিভাগের জরুরি একাডেমিক কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিভাগীয় সূত্র জানায়, ওই শিক্ষকের নেওয়া কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের একটি ক্লাসে নেকাব পরে আসায় এক ছাত্রীকে ওই শিক্ষক ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ (মৌলবাদী) ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। নেকাব পরা ওই ছাত্রী তাকে আক্রমণ করতে পারেন এমন আশঙ্কাও শিক্ষক প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

ঘটনার পর নেকাব পরা ওই ছাত্রী ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান। পরে অধিকাংশ শিক্ষার্থীও ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ জানান। বিষয়টি বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে জানালে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে জরুরি একাডেমিক কমিটির সভা ডাকা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জরুরি একাডেমিক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি রেজুলেশন নেওয়া হয়। সেই রেজুলেশনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বর্তমানে তার কোর্সগুলো থেকে পুনর্বণ্টন করা হয়েছে এবং কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। বিভাগীয় চেয়ারম্যান বা বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই।

অধ্যাপক তাজিন আজিজ চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের বিষয়ে উপাচার্য, একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। বিভাগ থেকে ঘটনাটি তাদের অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হবে।

যা ঘটেছিল ক্লাসে

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার ক্লাসের শুরুতে ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা ও পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে নেকাব পরা এক ছাত্রীকে সামনে না বসে পেছনে বসতে বলেন তিনি। নেকাব পরা অবস্থায় ওই ছাত্রী তাকে অস্বস্তিতে ফেলছেন এবং মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষক।

এ সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সুমি আক্তার এর প্রতিবাদ করেন। নেকাব ওই ছাত্রীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় এবং এ কারণে তাকে পেছনে বসতে বাধ্য করা উচিত নয় বলে যুক্তি দেন তিনি। এ নিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে তার তর্ক হয়।

সুমি আক্তারের ভাষ্য, একপর্যায়ে শিক্ষক তাকে প্রশ্ন করেন- নেকাব পরা ওই ছাত্রী ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ বা ‘সন্ত্রাসী’ নন, সেটি তিনি কীভাবে নিশ্চিত করবেন। নেকাব পরা কেউ শিক্ষককে আক্রমণ করতে পারেন বলেও মন্তব্য করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার প্রতিবাদে প্রথমে নেকাব পরা ওই ছাত্রী এবং পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান। এরপর অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীর অভিযোগ

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সুমি আক্তার বলেন, ঘটনাটি তাকে হতাশ করেছে। নেকাব ও হিজাব নিয়ে ওই শিক্ষকের মন্তব্য এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার আচরণ নিয়ে এর আগেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি ছিল। তবে এতদিন তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেননি।

তিনি বলেন, ইংরেজি বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল। তাদের ধর্ম, পোশাক বা মতের কারণে সাধারণত কোনো শিক্ষার্থীকে বিব্রত করা হয় না। ফলে একজন শিক্ষকের আচরণের দায় পুরো বিভাগের শিক্ষকদের ওপর চাপানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি।

সুমি আরও অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক নিয়মিত ক্লাসের বড় একটি সময় একাডেমিক বিষয়ের বাইরে বিভিন্ন আলোচনা করেন এবং নিজের অবস্থান ও মতামতকে প্রাধান্য দেন। শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা নিয়েও তার মন্তব্যে অনেকেই বিব্রত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

নেকাব পরা ওই ছাত্রীর বিষয়ে সুমি বলেন, তিনি চার বছর অনার্স শেষ করে বর্তমানে মাস্টার্সের শেষ সেমিস্টারে পড়ছেন। এর আগে একাধিক মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক তার ধর্মীয় অনুশীলনের বিষয়টি সম্মান করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ অবস্থায় একজন শিক্ষার্থীকে পোশাকের কারণে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন সুমি।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ঢাবিতে ছাত্রদলের দুপক্ষের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে আহত ৪

ঢাবিতে ছাত্রদলের দুপক্ষের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে আহত ৪

অভিযোগ প্রমাণিত হলে ঢাবি শিক্ষক তাসনিমের ব্যবস্থা নিতে হবে: ইউটিএল

অভিযোগ প্রমাণিত হলে ঢাবি শিক্ষক তাসনিমের ব্যবস্থা নিতে হবে: ইউটিএল

ঢাবি শিক্ষক তাসনিমকে বহিষ্কারের দাবি ওলামা অ্যালায়েন্সের

পর্দা নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ ঢাবি শিক্ষক তাসনিমকে বহিষ্কারের দাবি ওলামা অ্যালায়েন্সের

ঢাবি অধ্যাপক জামাল উদ্দিন ফের গ্রেফতার

ঢাবি অধ্যাপক জামাল উদ্দিন ফের গ্রেফতার

ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেকাব পরা ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী-সন্ত্রাসী’ বলার অভিযোগ

ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেকাব পরা ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী-সন্ত্রাসী’ বলার অভিযোগ

ঢাবির ৮ শিক্ষার্থী পেলেন আলী রীয়াজ গবেষণা পুরস্কার ও বৃত্তি

ঢাবির ৮ শিক্ষার্থী পেলেন আলী রীয়াজ গবেষণা পুরস্কার ও বৃত্তি

আরও পড়ুন

ইউজিসি সদস্য ড. মামুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে ৩ বিশেষ কোর্স

চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে ৩ বিশেষ কোর্স

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাংবাদিকতায় ট্রমা-স্ট্রেস’ বিষয়ক সেশন শুরু

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাংবাদিকতায় ট্রমা-স্ট্রেস’ বিষয়ক সেশন শুরু

নিকাব পরায় ছাত্রীকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা, ঢাবি শিক্ষককে ক্লাস থেকে অব্যাহতি

নিকাব পরায় ছাত্রীকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা, ঢাবি শিক্ষককে ক্লাস থেকে অব্যাহতি

ঢাবিতে ছাত্রদলের দুপক্ষের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে আহত ৪

ঢাবিতে ছাত্রদলের দুপক্ষের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে আহত ৪

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম