রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্ধারিত সময়ে মেলেনি তদন্ত প্রতিবেদন
Advertisement
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।
উপাচার্য বলেন, ‘আমরা তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য সার্বক্ষণিক অপেক্ষা করছি। শুনেছি প্রতিবেদনটি তৈরির কাজ শেষপর্যায়ে রয়েছে এবং এটি এখনো প্রক্রিয়াধীন। কমিটির সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি জমা হতে হয়তো মধ্যরাত বা শেষরাত হতে পারে। যদি মধ্যরাত পেরিয়ে যায়, তবে শুক্রবার সকালে অফিস খুলে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।’
এদিকে নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ার বিষয়ে জানতে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক রেজাউল করিমের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এর আগে গত সোমবার দিবাগত রাত ২টায় ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ ও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম। সেই হিসেবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তরের কথা ছিল। উপাচার্যের দেওয়া আশ্বাসের ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বৃহস্পতিবার রাতেই শেষ হচ্ছে।
আন্দোলন চলাকালে সাংবাদিকদের দাবির মুখে হামলার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার (ডিলিট) দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন উপাচার্য। বর্তমানে ওই হলের আবাসিক শিক্ষক মো. মতিউর রহমান ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনিক কার্যক্রমে অভিজ্ঞ এমন কাউকেই নিয়মিত প্রাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং এতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিক এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সাংবাদিকদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল—সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নামে মামলা দায়ের করতে হবে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে রাতেই জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে এবং হামলায় অংশ নেওয়া যেসব শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে তাদের শিক্ষাসনদ বাতিল করতে হবে। উপাচার্য তখন এসব দাবির প্রতি নীতিগত একমত পোষণ করেছিলেন।
এর আগে গত রোববার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে চারজন সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের ভাষ্যমতে, ছাত্রদলের ১০-১২ জন নেতাকর্মী সরাসরি ওই হামলায় অংশ নেন। আহত সাংবাদিকরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
