সাংবাদিকদের ওপর হামলা
রাবিতে তিন ছাত্রদল নেতা-এক হল জিএসের ছাত্রত্ব বাতিল
Advertisement
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার নেতার ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া আরও চার নেতার বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার এবং তিন নেতাকে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে তদন্ত কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম।
সাময়িকভাবে ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া চার নেতা হলেন—বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, ছাত্রদল কর্মী বিশাল চক্রবর্তী এবং শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস (সাধারণ সম্পাদক) আরিফুল ইসলাম।
এছাড়া রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, ছাত্রদল কর্মী সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ও তানিম রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণাদি অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
অন্যদিকে একই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বুলবুল রহমান ও শরীফুল ইসলাম এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করা হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অপরাধের ধরন ও মাত্রা বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই তিনটি সিদ্ধান্ত আমরা পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করে স্থায়ী ও যথাযথ ব্যবস্থা নেব।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ পদক্ষেপের বিষয়ে সাংবাদিকদের পক্ষে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মীর কাদির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে সিন্ডিকেটে তা পাশ করতে হবে। একই সঙ্গে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃতদের স্থায়ী বহিষ্কার এবং যাদের ছাত্রত্ব ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, তাদের সনদ বাতিল করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে তৈরি লিখিত তদন্ত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম সেই সুপারিশগুলো বিবেচনায় নিয়ে এসব প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।
