শিক্ষকদের বদলির ফল ফেসবুকে, যা বলছে মাউশি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ফলাফল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশ করা হবে—এমন খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ খবরের কোনো সত্যতা নেই বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বদলির জটিলতা নিরসনে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট সময়ও জানাতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মাউশির একটি সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বর্তমানে চীন সফরে রয়েছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকও দেশের বাইরে আছেন। এ ছাড়া বদলি কার্যক্রম ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন জটিলতার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে শিগগিরই ফল প্রকাশ করা হবে—এমনটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ফেসবুকে বদলির ফল প্রকাশের খবরটি গুজব। এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি। শিক্ষামন্ত্রী দেশে ফেরার পর বদলির জটিলতা নিরসনে সভা হবে। এরপর ফল কবে প্রকাশ করা হতে পারে, সে বিষয়ে সম্ভাব্য সময় জানানো যাবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ সফটওয়্যারসংক্রান্ত কোনো জটিলতা নয়। বরং ঢাকায় বদলি হতে ইচ্ছুক শিক্ষকদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তদবির ও জটিলতা তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষক ঢাকায় বদলি হয়ে আসতে চান। তাদের পক্ষে বিএনপি সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তদবির করছেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে। পাশাপাশি, অধিকাংশ শিক্ষককে ঢাকায় বদলি করা হলে কে কোন প্রতিষ্ঠানে পদায়ন পাবেন, তা নিয়েও তদবির চলছে।
এদিকে বদলির আবেদন বাতিল করতে চান—এমন শিক্ষকদের একটি অংশ। এ জন্য তারা আবেদন মুছে ফেলার সুবিধা বা ‘ডিলিট অপশন’ চালুর দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে আবেদন করা হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীকে অবহিত করেছেন। এ নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
অন্যদিকে, বদলির আবেদনে পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচনসহ বিভিন্ন তথ্য সংশোধনের সুযোগ চান আরেকটি পক্ষ। এ জন্যও পৃথকভাবে আবেদন জমা পড়েছে।
বদলিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের আরেকটি অংশ শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের আওতায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তারা আপাতত বদলি হতে আগ্রহী নন। এ কারণে তারা বর্তমান কর্মস্থলে থাকার জন্য তদবির করছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের দাবি, কিছু শিক্ষকের পারিবারিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ার কারণে তারাও বদলির সুযোগ নিতে চাইছেন না। তারা বর্তমান কর্মস্থলে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আসা একাধিক আবেদন, তদবির ও চাপের কারণে বদলি কার্যক্রমে অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এনটিআরসিএ ১৯২ জনকে প্রতিস্থাপন করেছে। প্রতিস্থাপিত হওয়া পদগুলোতে বদলির জন্য আগে থেকেই আবেদন করেছেন বদলিপ্রত্যাশীরা। তাদের বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সব মিলিয়ে বদলির ফল প্রকাশে একাধিক জটিলতা রয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ১৩ সেপ্টেম্বর এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলির আবেদন গ্রহণ শেষ হয়। এ সময় মোট ১৩ হাজার ৬৭৮টি আবেদন জমা পড়ে। তবে একজন প্রার্থী একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দ দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় প্রকৃত আবেদনকারীর সংখ্যা এখনো নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি।
