প্রবাসীর সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি দেবে সরকার, আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার জন্য আবেদন আহ্বান করেছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান এবং ২০২৫ সালের ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হয়ে চলবে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড গত ৬ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
কারা আবেদন করতে পারবেন
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণি বা সমমান কিংবা ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিক্যাল কলেজের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও এ বৃত্তির আওতায় আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের অন্যতম শর্ত হলো, শিক্ষার্থীর বাবা অথবা মাকে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বহির্গমন ছাড়পত্র গ্রহণকারী অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হতে হবে। একজন প্রবাসী কর্মীর সর্বোচ্চ দুই সন্তান এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এসএসসি ও সমমান উত্তীর্ণদের জিপিএ
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য বিভাগভিত্তিক ন্যূনতম জিপিএ নির্ধারণ করা হয়েছে।
- বিজ্ঞান বিভাগ: সাধারণ ক্ষেত্রে জিপিএ-৫ এবং প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে জিপিএ-৪।
- মানবিক বিভাগ: সাধারণ ক্ষেত্রে জিপিএ-৪.৭৫ এবং প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে জিপিএ-৪।
- ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ: সাধারণ ক্ষেত্রে জিপিএ-৪ এবং প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে জিপিএ-৪।
এইচএসসি ও সমমান উত্তীর্ণদের জিপিএ
২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যূনতম ফলাফল নির্ধারণ করা হয়েছে এভাবে—
- বিজ্ঞান বিভাগ: সাধারণ ক্ষেত্রে জিপিএ-৪.৮০।
- মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ: সাধারণ ক্ষেত্রে জিপিএ-৪.৫০।
- প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তান: সব বিভাগের জন্য ন্যূনতম জিপিএ-৪।
ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং উত্তীর্ণদের যোগ্যতা
২০২৫ সালের ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সাধারণ ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ-৩.২৫ থাকতে হবে। তবে প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ-৩ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে
আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনলাইনে জমা দিতে হবে। এগুলো হলো—
১. প্রবাসী কর্মীর পাসপোর্টের কপি।
২. বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদের প্রমাণ।
৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া প্রত্যয়নপত্র।
৪. শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট।
৫. শিক্ষার্থীর ছবি ও স্বাক্ষর।
৬. জন্মনিবন্ধন অথবা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্রে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মোবাইল নম্বর থাকতে হবে।
প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন থেকে ইস্যু করা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) জমা দিতে হবে। শিক্ষার্থীর নিজের নামে যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে হিসাব থাকতে হবে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের হিসাব গ্রহণযোগ্য হবে না।
কত বছর দেওয়া হবে বৃত্তি
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শিক্ষার স্তর ও কোর্সভেদে বৃত্তির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এসএসসি ও সমমান উত্তীর্ণ: একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত দুই বছর।
- ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে অধ্যয়নরত: সর্বোচ্চ চার বছর।
- এইচএসসি ও সমমান উত্তীর্ণ: ডিগ্রি (পাস) কোর্সে তিন বছর এবং স্নাতক পর্যায়ে চার বছর।
- এমবিবিএস, বিডিএস, ডিভিএম, বি.আর্ক ও অন্যান্য প্রযোজ্য কোর্স: পাঁচ বছর।
- ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত: চার বছর।
যেভাবে আবেদন করবেন
আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ওয়েবসাইট https://portal.wewb.gov.bd-এ প্রবেশ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। সরাসরি অথবা ডাকযোগে পাঠানো কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
প্রবাসী কর্মীর পাসপোর্টে থাকা নামের সঙ্গে শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত সনদে উল্লেখ করা বাবা বা মায়ের নামের অমিল থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এ ছাড়া অসম্পূর্ণ আবেদন ও ভুল তথ্যসংবলিত আবেদনও বাতিল বলে গণ্য হবে।
শিক্ষাবৃত্তি-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে প্রবাসী কল সেন্টারে যোগাযোগ করা যাবে। দেশের ভেতর থেকে টোল ফ্রি ১৬১৩৫ নম্বরে এবং বিদেশ থেকে +৮৮০৯৬১০২০৩০৩০ নম্বরে ফোন করা যাবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার থেকেও তথ্য নেওয়া যাবে।
