Logo
Logo
×

Advertisement

শিক্ষাঙ্গন

এইচএসসির ফল প্রকাশেও বিক্রি নেই মিষ্টির দোকানে

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম

এইচএসসির ফল প্রকাশেও বিক্রি নেই মিষ্টির দোকানে

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ মানেই একসময় মিষ্টির দোকানগুলোতে বাড়তি ব্যস্ততা। ফল ভালো হলে শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানাতে মিষ্টি কেনার ধুম পড়ত। ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতেন দোকানিরা। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই চিত্র। পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলেও এবার মিষ্টির দোকানগুলোতে নেই বাড়তি ক্রেতার ভিড়, নেই আগের মতো বিক্রির ব্যস্ততা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের নিউ সিনেমা হল রোড ও মহাদেবপট্টি এলাকার মিষ্টির দোকানগুলোতে প্রতি বছর এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের দিন বিশেষ প্রস্তুতি থাকে। ঐতিহ্যবাহী মাতৃ ভান্ডারসহ বড় দোকানগুলোতে মিষ্টি, ছানামুখী, বরফি ও রসমালাই কিনতে ভিড় করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। কোনো কোনো সময়ে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় বিক্রি বেড়ে যায় দুই থেকে তিন গুণ। কিন্তু এবার ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। শনিবার (৩১ অক্টোবর) শহরের ওই দুই এলাকার মিষ্টির দোকানগুলোতে নিয়মিত ক্রেতা থাকলেও ফল প্রকাশ ঘিরে বাড়তি কেনাকাটা চোখে পড়েনি।

ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান মাতৃ ভান্ডারের মালিক সজিব চন্দ্র পাল বলেন, ‘প্রতি বছর এই সময়ে দোকানে প্রচুর ভিড় থাকে। ক্রেতা সামলানোই কঠিন হয়ে যেত। কিন্তু এবার ফল প্রকাশের পর তেমন ক্রেতা চোখে পড়েনি।’

একই চিত্র দেখা গেছে মধুরাজ মিষ্টান্ন ভান্ডারেও। দোকানটির মালিক অসিত মোদক জানান, ফল প্রকাশ উপলক্ষে প্রতিবছর অতিরিক্ত প্রস্তুতি নেন তারা। এবারও সেই প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা আসেননি। নিয়মিত দিনের মতোই বিক্রি হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম বলেন, সমিতির সদস্য মিষ্টির দোকানগুলোর মালিকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বিক্রি অনেক কম। তার মতে, ফল প্রকাশ ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আগের মতো আগ্রহ নেই।

রাজধানীতেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। ফল প্রকাশের পর ঢাকার বিভিন্ন এলাকার মিষ্টির দোকান ঘুরে স্বাভাবিক দিনের মতোই বেচাকেনা করতে দেখা যায়। বিক্রমপুর, রস, ভাগ্যকূল, মধুমিতা, বস, মীনা, সালাম ডেইরি ও মুসলিম সুইটসের দোকানগুলোতে ছিল না আগের মতো ক্রেতাদের ভিড়।

দোকানিদের ভাষ্য, আগে এসএসসি বা এইচএসসির ফল প্রকাশের পর সকাল থেকেই মিষ্টি কেনার ধুম পড়ে যেত। ক্রেতাদের সামলাতে অতিরিক্ত কর্মচারীও রাখতে হতো। এবার সেই ব্যস্ততা নেই। রাজধানীর শান্তিনগর, বেইলি রোড ও পল্টন এলাকার কয়েকটি দোকানে বিকেলের দিকে কর্মচারীদের গল্প করে সময় কাটাতেও দেখা যায়।

তবে ফল প্রকাশের পর মিষ্টি কেনার প্রচলন একেবারে হারিয়ে যায়নি। রাজধানীর মুসলিম সুইটসে মেয়ের গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ার আনন্দে মিষ্টি কিনতে এসেছিলেন সালেহা নামের এক অভিভাবক। তিনি বলেন, আগে মিষ্টি খাওয়ানোর প্রচলন বেশি ছিল। কিন্তু নানা রোগের কারণে এখন অনেকেই মিষ্টির পরিবর্তে ফলমূল বা অন্য খাবার দিতে পছন্দ করেন। তারপরও স্বজনদের জন্য কিছু মিষ্টি কিনেছেন তিনি।

ভাগ্যকূল সুইটসের শান্তিনগর শাখার ব্যবস্থাপক সুজন ঘোষ বলেন, আগে পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন দোকানে ভালো বিক্রি হতো। মিষ্টি বিক্রির চাপ সামলাতে অতিরিক্ত কর্মচারীও রাখতে হতো। এখন সেই চিত্র আর নেই।

মুসলিম সুইটসের বিক্রয়কর্মী জাকির হোসেনও জানান, গত দুই বছর ধরে এসএসসি ও এইচএসসির ফল প্রকাশের দিন বিক্রি অনেক কমে গেছে। এবারের ফল প্রকাশের দিনও স্বাভাবিক দিনের মতোই বেচাকেনা হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

এইচএসসিতে ঢাবির উদয়ন ও ল্যাবরেটরি কলেজের পাশের হার ৯৭ ও ৯৩ শতাংশ

এইচএসসিতে ঢাবির উদয়ন ও ল্যাবরেটরি কলেজের পাশের হার ৯৭ ও ৯৩ শতাংশ

এবারও দেশসেরা নরসিংদীর আব্দুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ

এবারও দেশসেরা নরসিংদীর আব্দুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ

দুই বছরে অর্ধেকেরও নিচে নেমেছে জিপিএ-৫

দুই বছরে অর্ধেকেরও নিচে নেমেছে জিপিএ-৫

এইচএসসির একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট কীভাবে সংগ্রহ করবেন?

এইচএসসির একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট কীভাবে সংগ্রহ করবেন?

যেসব কারণে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে বড় ধস

যেসব কারণে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে বড় ধস

বরিশালে কমেছে পাশের হার ও জিপিএ-৫

বরিশালে কমেছে পাশের হার ও জিপিএ-৫

আরও পড়ুন

এইচএসসির ফল প্রকাশেও বিক্রি নেই মিষ্টির দোকানে

এইচএসসির ফল প্রকাশেও বিক্রি নেই মিষ্টির দোকানে

এইচএসসিতে ঢাবির উদয়ন ও ল্যাবরেটরি কলেজের পাশের হার ৯৭ ও ৯৩ শতাংশ

এইচএসসিতে ঢাবির উদয়ন ও ল্যাবরেটরি কলেজের পাশের হার ৯৭ ও ৯৩ শতাংশ

দুই বছরে অর্ধেকেরও নিচে নেমেছে জিপিএ-৫

দুই বছরে অর্ধেকেরও নিচে নেমেছে জিপিএ-৫

এইচএসসির একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট কীভাবে সংগ্রহ করবেন?

এইচএসসির একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট কীভাবে সংগ্রহ করবেন?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম