Logo
Logo
×
   

শিক্ষাঙ্গন

ছাত্রীদের ‘যৌনকর্মী’ বলা সেই ছাত্রদল নেতা আজীবন বহিষ্কার

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৫৫ পিএম

ছাত্রীদের ‘যৌনকর্মী’ বলা সেই ছাত্রদল নেতা আজীবন বহিষ্কার

রাবি ছাত্রদল নেতা এ আর মিলন খান।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জুলাই ৩৬ হলের ৯১ জন শিক্ষার্থীকে ‘বিনা পারিশ্রমিকের যৌনকর্মী’ বলা শাহ মখদুম হল ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এ আর মিলন খানকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে রাবি শাখা ছাত্রদল। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মতিহার থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, ২ সেপ্টেম্বর থেকে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অন্য কারো নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল বলে দাবি করেন ওই ছাত্রদল নেতা। পরে তার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করে সত্যতা যাচাই করার জন্য দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে শাখা ছাত্রদল। 

তদন্ত কমিটির সদস্য ছিলেন- শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক। 

শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাফিউল ইসলাম জীবনের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জানানো হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জুলাই ৩৬ হল’-এর প্রভোস্ট কর্তৃক ৯১ জন শিক্ষার্থীকে অযাচিতভাবে তলব করার প্রতিবাদে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাঈমা তুহিনার ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে শাহ মখদুম হলের সহ-সভাপতি এ আর মিলন খান কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের পক্ষ থেকে এ আর মিলন খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব না দিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে উক্ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য তিনিই ইচ্ছাকৃতভাবে করেছেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল এ আর মিলন খানকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ হল সহ-সভাপতির পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার ঘোষণা করছে। একই সঙ্গে সংগঠনের সব নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হলো তার সঙ্গে কোনোপ্রকার সাংগঠনিক কোনো যোগাযোগ না রাখার জন্য। 

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট আহ্বান জানানো হচ্ছে-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ও সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল ইসলাম এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, রাবির ‘জুলাই ৩৬’ হলে নির্ধারিত সময়ের পরে প্রবেশ করায় ৯১ জন ছাত্রীকে তলব করেছিলেন হল প্রাধ্যক্ষ। নোটিশটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলে তা প্রত্যাহার করে হল প্রশাসন। এ বিষয়ে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ নামে এক ফেসবুক গ্রুপে করা এক পোস্টের কমেন্টে ওই ৯১ জন ছাত্রীকে বিনা পারিশ্রমিক যৌনকর্মী বলে আখ্যায়িত করেন রাবি’র শাহ মাখদুম হল শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান মিলন। 

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে তার ওই কমেন্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .