ঢাবির হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ
Advertisement
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে তার কার্যালয়ে ডেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ রেখে মানসিকভাবে হেনস্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন মো. ইব্রাহীম নামে ওই শিক্ষার্থী। হলের বিভিন্ন বিষয়ে প্রভোস্টের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক একটি পোস্ট শেয়ার করার পর এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইব্রাহীম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
ইব্রাহীমের অভিযোগ, এর আগে তিনি ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্টের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনামূলক একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। সেখানে হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি হলের শিক্ষার্থীদের পছন্দের একটি খাবারের দোকান বন্ধ করে দেওয়া, বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাজেট না দেওয়াসহ কয়েকটি বিষয়ে প্রভোস্টের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।
ইব্রাহীমের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পোস্ট শেয়ার করার পর তাকে হল প্রভোস্টের কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। আগের একটি ঘটনার কথা মাথায় রেখে তিনি নিজের নিরাপত্তার জন্য মোবাইল ফোনে অডিও রেকর্ড চালু করে সেটি পকেটে রেখে প্রভোস্টের কক্ষে প্রবেশ করেন বলে দাবি করেন ইব্রাহীম।
ইব্রাহীমের অভিযোগ, কথাবার্তার একপর্যায়ে প্রভোস্ট তার পকেটে থাকা মোবাইল ফোন বের করতে বলেন। তিনি ফোন বের করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলে প্রভোস্ট চিৎকার করেন এবং তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন স্টাফ এগিয়ে এসে জোর করে ফোনটি নিয়ে নেন। তাদের মধ্যে হলের ইলেকট্রিশিয়ান মারুফ ও প্রধান সহকারী আরিফ হোসেনসহ আরও কয়েকজন ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইব্রাহীমের দাবি, এ সময় তিনি কক্ষ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও স্টাফরা তাকে ধরে রাখেন এবং তাদের একজন দরজা বন্ধ করে দেন। পরে তার ফোনও পরীক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইব্রাহীম বলেন, এরপর প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। হলের আবাসিক সিট বাতিল করে দেওয়া হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে আবেদন করলেই তার ছাত্রত্ব বাতিল করা সম্ভব এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া ফেসবুকে ওই পোস্ট দেওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে সাইবার মামলা করা হবে বলেও ভয় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
ইব্রাহীম আরও অভিযোগ করেন, প্রভোস্টের স্টাফদের সঙ্গে নিয়ে একটি লিখিত বক্তব্য তৈরি করে তাকে সেটি নিজের হাতে লিখতে এবং স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। এ সময় তার মাকে ফোন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেখান থেকে বের হয়ে আসার জন্য তিনি প্রভোস্টের কাছে বারবার ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পোস্ট করবেন না বলে জানান। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ইব্রাহীম অভিযোগ করেন, কক্ষ থেকে বের হওয়ার আগে তাকে পুরো ঘটনাটি কাউকে না বলতে বলা হয়। বাইরে গিয়ে সবাইকে ‘ঝামেলা মিটে গেছে’—এমন কথা বলার জন্যও বলা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল-মামুন বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে ডেকে স্বাভাবিকভাবে কথা বললাম। তার অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলার পরে তাকে বুঝিয়ে নাস্তা করিয়ে বিষয়টার মিটমাট করলাম।
ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন চেক করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থী রুমে প্রবেশের শুরু থেকেই রেকর্ডিং চালু করে রেখেছিল। বিষয়টা আমি জানতে পারার পর তাকে বলি আমার পারমিশন ছাড়া রেকর্ড কীভাবে করতে পারো? এটা এখনই ডিলেট করো। আমি তার ফোন চেক করিনি। হলের স্টাফদের দিয়ে, তাকে দিয়ে ডিলিট করিয়েছি।
জোরপূর্বক ওই শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে কোনো জোরাজুরির ঘটনা ঘটেনি। ওই শিক্ষার্থীকে বোঝানোর পরে তাকে কারা কারা আমার বিরুদ্ধে ফান্ড না দেওয়ার অভিযোগ করেছে সেটা লিখতে বলার পরে সে তাদের নাম লিখে দিয়েছে।
