এবার চুয়েটে শিক্ষার্থীদের রোষানলে আরেক অধ্যাপক
Advertisement
চুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনার পর ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দুদিন ধরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর বুধবারও (১৪ অক্টোবর) ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।
একই সঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। চলমান অচলাবস্থা বুধবার ২৩তম দিনে গড়িয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। এ সময় তার সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও ছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা ওই দিন দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে ক্যাম্পাস ত্যাগের আলটিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ক্যাম্পাস না ছাড়ায় উপাচার্যসহ ১২ জন প্রশাসনিক ভবন-২-এ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই রাতে তাকে নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহায়তায় মুক্ত হন উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ ব্যক্তিরা। তাদের মধ্যে বর্তমান ও সাবেক ছাত্রদল নেতাকর্মীরাও ছিলেন। পরে অসুস্থ উপাচার্যকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে মেডিকেল বোর্ডের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
উপাচার্যকে মুক্তির শর্ত হিসেবে শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, তিনি আর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না। তবে এমন কোনো শর্তে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।
এ বিষয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী গোলাম মোর্শেদ রাতুল বলেন, মঙ্গলবার আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছিলাম, তিনি ক্যাম্পাসে আর প্রবেশ করবেন না—এই শর্তে তিনি মুক্ত। কিন্তু এরপরও যদি তিনি বলেন যে তিনি আবার ক্যাম্পাসে আসবেন, তবে আমরাও সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।
অন্যদিকে উপাচার্য তার বক্তব্যে বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে যে আমি পদত্যাগ করেছি এবং ভবিষ্যতে কখনো চুয়েট ক্যাম্পাসে পদার্পণ করব না। এ ধরনের কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি আমি দেইনি। কারণ, আপনারা জেনে থাকবেন, যখন আমাকে নিয়ে আসা হচ্ছিল, তখন আসলে আমি কথা বলার মতো অবস্থাতেই ছিলাম না। অসুস্থতার কারণেই আমি ক্যাম্পাস ছেড়েছিলাম। এখনো আমি অসুস্থ এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছি। সুস্থ হয়ে আমি আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করব, ইনশাআল্লাহ।
এদিকে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আরাফাত রহমানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত একমাত্র শিক্ষক ছিলেন। এর আগে গত ১১ ও ১২ অক্টোবর উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের অনুপস্থিতিতে তাকে রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ইউজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজে ঢাকায় যাওয়ার কথা জানিয়ে ই-মেইল বার্তায় এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
শিক্ষার্থীদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভিন্নমত থাকতে পারে। সেটা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রচেষ্টা চালানো পর্যন্ত তার গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। কিন্তু মুহাম্মদ আরাফাতের প্রত্যক্ষ মদদে ক্যাম্পাসের হৃৎপিণ্ড—ভিসি ভবনের মতো জায়গায় যখন চিহ্নিত ও বহিষ্কৃত সন্ত্রাসীরা প্রবেশ করে, তখন সেটা ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সুন্দর পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তার এহেন আচরণ চুয়েটের শিক্ষার্থীসমাজ কখনোই মেনে নেবে না।
