রাজধানীতে বিএনপি নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা
হাজারীবাগ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
বিএনপি নেতা আলী জামান।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর হাজারীবাগে পূর্ববিরোধ ও একটি মাদক মামলায় সাজা হওয়াকে কেন্দ্র করে আলী জামান (৫৫) নামে বিএনপির এক নেতাকে মারধর করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোহসীন নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। আহত আলী জামান হাজারীবাগ থানার ২২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক। তিনি হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ এলাকায় গাড়ির পার্টসের দোকান পরিচালনা করেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে হাজারীবাগের কুলাল মহল এলাকার হাজী ইয়াসিন বানু স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত আলী জামানকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত দেড়টার দিকে তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে তিনি বাসায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
হাজারীবাগ থানা সূত্র জানায়, কুলাল মহলের হাজী ইয়াসিন বানু স্কুলের সামনে বিএনপি নেতা গাজী সেলিমের ছেলে রিফাত মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাজা শেষে বুধবার তিনি জামিনে বের হয়ে আসেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বিএনপি নেতা জনি, বাবলুসহ কয়েকজন প্রথমে কাজী সেলিমের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে মোহসীন ও আলী জামান সেখানে এলে তাদের সঙ্গেও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন তারা। পরে আলী জামান ও মোহসীন একটি ম্যাটাডোরের সামনে গেলে কয়েকজন মিলে তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করে জখম করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত মোহসীন পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। অন্যদিকে গুরুতর আহত আলী জামানকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখে।
তবে আলী জামানের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আহত আলী জামানের স্ত্রী ঝর্না জামান জানান, এলাকায় চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত রিপন, জনি ও বাবুলসহ কয়েকজন বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে কুলাল মহলে তার স্বামী আলী জামানের গাড়ির পার্টসের দোকানের সামনে অতর্কিত হামলা চালান।
তার অভিযোগ, রিপন, জনি, বাবলু, শামীম, জসিম ও সাহাবুদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা ৭০ থেকে ৮০ জন হামলায় অংশ নেন। তারা ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আলী জামানের ওপর হামলা চালান। এতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাত দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঝর্না জামান আরও জানান, আলী জামানের বাসা হাজারীবাগের কালুনগর এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে তিনি হাজারীবাগ থানার ২২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক হামলা ও আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাজারীবাগের বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে আলী জামান নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে এসেছেন। তিনি বিএনপির মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক বলে জানা গেছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রাত দেড়টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয় এবং জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।
হাজারীবাগ থানার ওসি মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আলী জামান নামে একজনকে ঘুষি মারায় তার চোখ-মুখের কয়েকটি স্থানে আঘাত লেগেছে এবং তিনি আহত হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

