ত্রিভুজ প্রেমের জেরে প্রবাসীকে হত্যা, গ্রেফতার ৩
Advertisement
সবুজবাগ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
এ ঘটনায় র্যাব-৩ এর সংবাদ সম্মেলন। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর সবুজবাগে ত্রিভুজ প্রেমের জেরে কাতারপ্রবাসী সিফাত উল্লাহ (২৭) হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান আসামি আল আমিন হোসেন জয় ও দ্বিতীয় আসামি সাজিদুল ইসলাম সাজিদকে র্যাব-৩ এবং মামলার সপ্তম আসামি নাফিজা শেখ নেহাকে সবুজবাগ থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সবুজবাগ থানার মাদারটেক আদর্শপাড়া বড়ইতলা কালভার্টসংলগ্ন এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত অবস্থায় সিফাতকে প্রথমে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত সিফাত উল্লাহ কাতারপ্রবাসী ছিলেন। প্রায় দেড় মাস আগে তিনি দেশে আসেন। তার বাবা জয়নাল আবেদীন এ ঘটনায় সবুজবাগ থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে আরও ২-৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে- সিফাতের সঙ্গে নাফিজা শেখ নেহার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে সিফাত জানতে পারেন, নেহার সঙ্গে সাজিদেরও প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে সিফাত ও নেহার মধ্যে মনোমালিন্য হয়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নেহা পূর্বপরিকল্পিতভাবে সিফাতকে ডেকে আনেন। পরে অন্য আসামিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
তবে র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে এজাহারের বর্ণনায় কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। র্যাব বলছে, গত ২৫ আগস্ট নেহার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সাজিদ জানতে পারেন নেহার সঙ্গে সিফাতেরও প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে সাজিদের সঙ্গে নেহার সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে নেহার ভাড়া বাসায় সিফাত দেখা করতে গেলে ইয়াসিন, অনিক, তুহিন ও রাজুসহ কয়েকজন সেখানে যায়। এ সময় সিফাতের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে সিফাত নিচে নেমে মোটরসাইকেলযোগে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে পেছন থেকে ইট ছুড়ে মারা হয়। এতে তিনি পড়ে গেলে জয় তার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে। পরে অন্যরা মিলে ধারালো ছুরি দিয়ে তাকে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। তার মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়।
র্যাব-৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ইন্ট অ্যান্ড মিডিয়া কর্মকর্তা মো. মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, এ ঘটনায় মামলার দ্বিতীয় আসামি মো. সাজিদুল ইসলাম সাজিদকে সোমবার রাত ২টার দিকে খিলগাঁও থানাধীন হাজীবাড়ি বালুরপাড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সাজিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন ভোর ৫টার দিকে খিলগাঁওয়ের শেখের জায়গা বাজার এলাকা থেকে প্রধান আসামি আল আমিন হোসেন জয়কে গ্রেফতার করা হয়।
অন্যদিকে সবুজবাগ থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, মামলার সপ্তম আসামি নাফিজা শেখ নেহাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ মামলায় মোট তিনজন গ্রেফতার হলেন।
মামলায় গ্রেফতারদের পাশাপাশি ইয়াসিন আরাফাত (২২), তুহিন (২২), অনিক (২৩), রাব্বি (২৫), নাফিজা শেখ নেহা (২৩) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে প্রধান আসামি হিসেবে জয়কে উল্লেখ করা হলেও র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তার নাম আল আমিন হোসেন জয় (২৭) এবং পিতার নাম রফিকুল ইসলাম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

