কামরাঙ্গীরচরে অচেতন বৃদ্ধের মৃত্যু, ৯৯৯-এ ফোন করেও মেলেনি পুলিশের সহায়তা
Advertisement
হাজারীবাগ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত বৃদ্ধের নাম মো. হাবিব রহমান।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে রাস্তায় অচেতন ও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা আনুমানিক ৬৫ বছর বয়সি এক বৃদ্ধকে উদ্ধারে ৯৯৯ নম্বরে একাধিকবার ফোন এবং থানায় সশরীরে গিয়ে জানানোর পরও সময়মতো পুলিশের সহায়তা মেলেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় রাস্তায় পড়ে থাকার পর আনুমানিক ভোর পাঁচটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
পরদিন সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে। এর আগে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঝাউলাহাটি আলোকিত স্কুলের গলিতে ওই বৃদ্ধকে অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী দোকানদার বাবুল হোসেন জানান, রোববার রাতে কামরাঙ্গীরচরের নুরু মেম্বারের গলির মসজিদের সামনে তিনি প্রথম বৃদ্ধকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। সেখানে তিনি প্রস্রাব-পায়খানা করে অসুস্থ অবস্থায় বসেছিলেন। পরে মোয়াজ্জেমসহ কয়েকজন তাকে ধরে বাবুলের বাড়ির সামনে একটি মাদ্রাসার কাছে নিয়ে আসেন। সেখানে দেখা যায়, বৃদ্ধ এতটাই অসুস্থ যে দাঁড়ানো, বসা ও ঠিকমতো কথা বলা—কোনোটিই পারছিলেন না।
বাবুল বলেন, মসজিদের ইমামসহ এলাকার লোকজন মিলে বৃদ্ধকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে খাবার চাইলে তাকে একটি রুটি দেওয়া হয়। রুটি খাওয়ার পর পানি দিলে তিনি পান করেন। রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত তিনি তার পাশে ছিলেন বলেও জানান।
বাবুলের অভিযোগ, বৃদ্ধের এমন গুরুতর অবস্থা দেখেও তাকে উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সকালে স্থানীয়দের কাছে তিনি জানতে পারেন, ফজরের নামাজের সময় বৃদ্ধ সেখানেই মারা গেছেন। পরে দোকান খোলার পর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। তার ভাষ্য, ৯৯৯-এ ফোনের পর পুলিশ সময়মতো ঘটনাস্থলে এলে বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হতে পারত।
স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী আনোয়ার হোসেন জানান, রোববার রাত ১১টার দিকে তিনি খবর পান, ঝাউলাহাটি আলোকিত স্কুলের সামনে এক বৃদ্ধ পড়ে আছেন। সেখানে গিয়ে তিনি বৃদ্ধের ঠিকানা জানতে চান। প্রথমে বৃদ্ধ ঠিকানা দিতে না চাইলেও পরে অল্প অল্প কথা বলেন। একপর্যায়ে জানান, তার বাড়ি ভোলা এবং নিজের নাম হাবিব রহমান।
তার ভাষ্য, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানান, এক বৃদ্ধ অত্যন্ত জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছেন, কারও সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না এবং তাকে দ্রুত উদ্ধার করা প্রয়োজন। আশপাশে পর্যাপ্ত লোকজন না থাকায় একা তাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব নয় বলেও জানান। কিন্তু ৯৯৯-এ ফোনের পরও কোনো পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে আসেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত বৃদ্ধের নাম মো. হাবিব রহমান। তার পিতার নাম হাজী ইউসুফ আলী। বাড়ি ভোলার চরফ্যাশনের চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায়।
এ বিষয়ে কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তার স্বজনরা অসুস্থ বৃদ্ধকে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় রেখে গেছেন। দীর্ঘদিন তিনি চকবাজার এলাকায় স্বজনের বাসায় থাকতেন বলেও প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। বর্তমানে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা রয়েছেন এবং তদন্ত চলছে।
ওসি বলেন, কামরাঙ্গীরচরের ঝাউলাহাটি এলাকায় একটি মসজিদের পাশে বৃদ্ধকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ও মসজিদের হুজুররা তাকে পাশে বসিয়ে খাবার দেন। পরে আনুমানিক ভোর ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে তার নাম জানা গেলেও পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে তার পরিচয় শনাক্ত করা হবে।
৯৯৯-এ ফোন ও থানায় গিয়ে জানানোর পরও পুলিশ সহায়তা করেনি—এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই এবং এ বিষয়ে তিনি প্রথমবার শুনেছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

-6aa7115e7af5d.jpg)
