সম্পন্ন হলো প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডসের চূড়ান্ত বিচারকার্য
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪০ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সৃজনশীলতার বিকাশ, নতুন প্রতিভার স্বীকৃতি এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে সৃজনশীলতার নতুন সম্ভাবনা তুলে ধরার লক্ষ্যে আয়োজিত প্রাণ-আরএফএল প্রেজেন্টস প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর চূড়ান্ত বিচারকার্যে অংশ নিয়েছেন দেশের চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ডিং, ফ্যাশন, সংগীত, মার্কেটিং ও সৃজনশীল যোগাযোগশিল্পের বিশিষ্ট পেশাজীবীরা। চূড়ান্ত বিচারকার্য অনুষ্ঠিত হয় দ্য ডেইলি স্টার কনফারেন্স হলে।
স্পাইকস্টোরি লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত এই জাতীয় পর্যায়ের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ‘Human Creativity. AI Possibilities.’। মানুষের কল্পনা, সৃজনশীল চিন্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে নতুন ধরনের সৃজনশীল কাজকে উৎসাহিত করা এবং বাংলাদেশের এআই ক্রিয়েটিভ কমিউনিটিকে সামনে এগিয়ে নেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
চূড়ান্ত বিচারকমণ্ডলীতে দেশের বিশিষ্ট পেশাজীবীরা
প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর চূড়ান্ত বিচারকমণ্ডলীতে রয়েছেন বিভিন্ন শিল্পের অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বরা।
● অমিতাভ রেজা চৌধুরী — চলচ্চিত্র নির্মাতা
● তানজিলা বাহার চৌধুরী — হেড অব মার্কেটিং, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ
● হাসিব হাসান চৌধুরী — প্রতিষ্ঠাতা, সিবস সল্যুশন
● কিংকর আহসান — লেখক ও সিইও, হাভাস বাংলাদেশ
● সাজিদ মাহবুব — গ্রুপ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ও এক্সিকিউটিভ এডিটর, বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম
● হাসিবুল হোসেন উপল — ড্রামার, ড্রিক
● আহমেদ তুহিন রেজা — ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর, হাউস অব আহমেদ
● ইসমামুল ফারহাদ — লিড গিটারিস্ট, শূন্য; কমিউনিকেশনস স্ট্র্যাটেজিস্ট
● মাহাদী ফয়সাল — সংগীতশিল্পী ও মার্কেটিং ডিরেক্টর, এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেড
বিভিন্ন শিল্পে তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা এআই-নির্ভর সৃজনশীল কাজের মৌলিকত্ব, প্রযুক্তির ব্যবহার, গল্প বলার সক্ষমতা, নান্দনিকতা এবং সামগ্রিক প্রভাব মূল্যায়নে বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করেছে।
প্রযুক্তির বাইরে সৃজনশীলতার মূল্যায়ন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সৃজনশীল কাজের প্রচলিত পদ্ধতিকে দ্রুত পরিবর্তন করছে। এই বাস্তবতায় প্রিজমের লক্ষ্য শুধু এআই প্রযুক্তির ব্যবহারকে স্বীকৃতি দেওয়া নয়; বরং প্রযুক্তির পেছনে থাকা মানুষের নিজস্ব ভাবনা, মৌলিক ধারণা, গল্প বলার দক্ষতা ও সৃজনশীল সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া। চূড়ান্ত পর্যায়ে জমা পড়া কাজগুলোর বৈচিত্র্য বাংলাদেশের এআই-নির্ভর সৃজনশীলতার ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে। ফলে সেরা কাজ নির্বাচন করতে বিচারকদের সামনে ছিল মৌলিকত্ব, সৃজনশীল বাস্তবায়ন, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং সামগ্রিক প্রভাব বিবেচনার চ্যালেঞ্জ।
এবারের আয়োজনে চারটি বিভাগে কাজ মূল্যায়ন করা হচ্ছে—এআই বিজ্ঞাপন, এআই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, এআই মিউজিক ভিডিও এবং এআই ফ্যাশন। বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্র, সংগীত ও ফ্যাশনশিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বহুমুখী ব্যবহার এবং নতুন সৃজনশীল সম্ভাবনাকে সামনে আনাই এসব বিভাগের উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশের এআই ক্রিয়েটিভ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগ
স্পাইকস্টোরি লিমিটেডের উদ্যোগ প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মের ক্রিয়েটরদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, উদ্ভাবন ও নিজস্ব সৃজনশীল ভাষা বিকাশে উৎসাহিত করা। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ ক্রিয়েটরদের সঙ্গে শিল্পের অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের সংযোগ তৈরি এবং বাংলাদেশের এআই-নির্ভর সৃজনশীল কাজকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করতে চায়।
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে মানুষের সৃজনশীলতার সম্পর্ক কীভাবে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, তা তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার উপযোগী সৃজনশীল কাজ তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে চায় এই আয়োজন। প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানসংক্রান্ত পরবর্তী ঘোষণা আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো হবে।
প্রসঙ্গত, প্রাণ-আরএফএল প্রেজেন্টস প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ স্পাইকস্টোরি লিমিটেডের একটি উদ্যোগ। ‘Human Creativity. AI Possibilities.’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অসাধারণ সৃজনশীল কাজকে স্বীকৃতি দেয়া, নতুন প্রতিভাকে উৎসাহিত করা এবং বাংলাদেশের এআই ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রির বিকাশে অবদান রাখা।
