নিষিদ্ধ আ.লীগের বিরুদ্ধে শ্রমিক আন্দোলনে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকা ও গাজীপুরে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলন করছেন পোশাক শ্রমিকরা। তবে এই আন্দোলনে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ ওঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। দলটির নিজের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ মিলেছে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, ছাত্রলীগের পদধারী অনেকেই আন্দোলনে অংশে নিয়ে অস্থিরতা তৈরির ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। তাদেরই একজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজিবুল ইসলাম। তিনি শ্রমিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার ছবি দিয়ে উস্কানিমূল পোস্ট দিয়েছেন।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কারো উপর ভর করে ক্ষমতায় আসবে না। আমরা জনগণের শক্তি সাথে নিয়ে কর্মসূচি দিব।’
এই পোস্টের ৫১ মিনিট আগে তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তার আগে ১২ টা ৫১ মিনিট তিনি আরেকটি ভিডিও পোস্ট করেন। এর আগে পোস্ট করেন ১০ টা ৬ মিনিটে। সেই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘শ্রমিকের বেতন ৩০০০০ বৃদ্ধির দাবিতে টানা চতুর্থদিনের মতো আজকেও শ্রমিক আন্দোলন চলছে।’
এ ছাড়া গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে তিনি আগুন জ্বালানোর একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে স্লোগানে বলছিলেন, ‘৩০ হাজার বেতন দে, নইলে গদি ছেড়ে দে।’
এদিকে মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে গার্মেন্টসকর্মী হিসেবে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন।
রোববার (১ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি লিখেছেন, আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ আন্দোলনে নেমে এসেছে গার্মেন্টসকর্মী হিসেবে। মিরপুরে কথিত শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে জবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজবুল ইসলাম।
তিনি লেখেন, আন্দোলনে আগে থেকে উসকানি দিয়ে আসছিল জামায়াত-এনসিপি। মিরপুর-১০ মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও পুলিশ বক্স ভাঙচুর করেছে গার্মেন্টসকর্মী নামধারী আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ।
পোস্টে এনসিপি নেতা সারজিসের একটি পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে শেষে তিনি লেখেন, বর্তমান বিরোধীদল ও পতিত শক্তি কীভাবে এক হয়েছে, তার একটা ছোট্ট উদাহরণ সারজিস আলমের ফেসবুক পোস্ট। জামায়াত-এনসিপির নেতাকর্মীরা এভাবেই রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার জন্য আওয়ামী পতিত শক্তিকে উসকে দিচ্ছে।
গত চার দিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করে আসছে পোশাক শ্রমিকরা। প্রথমে একটি শ্রমিক আন্দোলন মনে হলেও সময় যাওয়া সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসছে আওয়ামী নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা। বিভিন্ন স্থানে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আন্দোলন করতে দেখা গেছে। আন্দোলনের নামে ভাঙচুর করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই আন্দোলন শুরু হয়। বেলা ১১টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালালে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ সময় সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
এরই মধ্যে আন্দোলনে নাশকতার অভিযোগে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পদধারী ১১ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ডিবি মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খাঁন বলেন, কয়েক দিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। তবে গতকাল শনিবার থেকে তারা বেশ সহিংস হয়ে উঠেছেন। আজও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মূলত সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকাতার চেষ্টা করছে। শ্রমিকদের আন্দোলনের মাঝে থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মিরপুর ১০ ও এর আশপাশের এলাকায় অভিযানে আটকরা বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলার তৃনমূল নেতা। মিরপুরের পলাতক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে আলিফ মোল্লা মূলত এই নাশকতার সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন। আলিফই মূলত ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে এসব নেতাকর্মীকে ঢাকায় এনেছেন। প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী এখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের শনাক্ত করে আটক অভিযান চলমান।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে।

-6ae704b387e61.webp)
