স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ পেলেন ডিআইইউ’র অধ্যাপক ড. এম এ রহিম
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার নিচ্ছেন অধ্যাপক ড. এম এ রহিম। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. এম এ রহিম গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ লাভ করেছেন।
বর্তমানে ড. রহিম বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন এবং কৃষি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কৃষি গবেষণা ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তিনি এই স্বীকৃতি পেয়েছেন, যা জাতীয় উন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছে।
বাংলাদেশ সরকার তার দীর্ঘদিনের গবেষণা ও প্রশিক্ষণমূলক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার ঘোষণা করে। কৃষি শিক্ষা ও উদ্ভাবন প্রসারে তার কাজ দেশের কৃষি খাতকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
এই অর্জনে ডিআইইউ পরিবার গভীর গর্ব ও সন্তোষ প্রকাশ করেছে। বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, প্রশাসন, শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা ড. রহিমকে এই জাতীয় স্বীকৃতির জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
ডিআইইউতে কর্মরত থাকাকালে ড. রহিম কৃষি গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তার নেতৃত্বে উচ্চফলনশীল ও উন্নত চারটি কাঁঠালের জাত—DIU Jackfruit-1, DIU Jackfruit-2, DIU Jackfruit-3 এবং DIU Jackfruit-4যা সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ড এবং কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত ও নিবন্ধিত হয়েছে। এই সাফল্য গবেষণাভিত্তিক উদ্ভাবন, টেকসই কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
ড. রহিম বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ও ফল উন্নয়নের ক্ষেত্রে একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। তিনি ১২৮টি নতুন ফলের জাত উদ্ভাবন করেছেন, যার মধ্যে বহুল জনপ্রিয় BAU Kul অন্তর্ভুক্ত। তার উদ্ভাবনী কাজ ফল চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে এবং কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
বিগত বছরগুলোতে তিনি একাধিক মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার লাভ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ২০০৪, ২০১২ ও ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক, ২০১৪ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার, ২০১২ সালে বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস স্বর্ণপদক এবং ২০১৬ সালে বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচার স্বর্ণপদক। ২০২৪ সালে তিনি প্রথম আলো কৃষি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। এছাড়া চ্যানেল আই ও আরটিভি কর্তৃক লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।
ড. রহিম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন এবং ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টডক্টরাল গবেষণাও সম্পন্ন করেছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং কৃষি অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ৪০০-এর বেশি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন, ২০টির বেশি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করেছেন এবং ১০১ জন পিএইচডি ও ৩৫০ জন এমএস শিক্ষার্থীকে তত্ত্বাবধান করেছেন। এছাড়া তিনি ১০টি বই রচনা করেছেন এবং অসংখ্য শিক্ষামূলক প্রকাশনা তৈরি করেছেন, যা কৃষিজ্ঞান বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এই জাতীয় স্বীকৃতি শিক্ষা ও গবেষণায় ডিআইইউ’র উৎকর্ষতার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। বিশ্ববিদ্যালয় মনে করে, ড. রহিমের এই অর্জন নতুন প্রজন্মের গবেষকদের উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে এবং জাতীয় ও বৈশ্বিক উন্নয়নে অবদান রাখতে অনুপ্রাণিত করবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৫ মার্চ জারি করা এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬-এর জন্য মোট ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছে।

