সোলার ইকোসিস্টেম উন্মোচন করলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী
Advertisement
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শিল্পখাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের পথে এক নতুন মাইলফলক ও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ওয়ালটন।
সূর্যের আলো বা সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে শতভাগ পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চয়, জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের পাশাপাশি বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত দৈনন্দিন ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য পরিচালনায় এক সমন্বিত ‘সোলার ইকো-সিস্টেম‘ প্রযুক্তি ব্যবস্থা উন্মোচন করেছে ওয়ালটন।
এই সোলার ইকোসিস্টেম ব্যবস্থায় নিজস্ব কারখানায় রূফটপ, ফ্লোটিং বা ভাসমান সোলার পাওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ৩২ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুত উৎপাদন করছে ওয়ালটন। যা দেশের বড় এক জেলা শহরের মোট বিদ্যুত চাহিদার সমান। ওয়ালটনের উৎপাদিত সৌরবিদ্যুতের বড় অংশ নিজস্ব উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যবহারের মাধ্যমে কারখনার জ্বালানি সাশ্রয় করার পাশাপাশি নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডেও বছরে গড়ে প্রায় ১১৫০ মেগাওয়াট-ঘন্টা সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
সোলার ইকোসিস্টেম ব্যবস্থায় ওয়ালটন শুধু শতভাগ পরিববেশবান্ধব সৌরবিদ্যুত উৎপাদনই করছে না; বাসাবাড়ির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, খাদ্য সংরক্ষণ, বিনোদন, রান্নাবান্না, আলোকসজ্জ্বা, কাপড় ধোয়া ইত্যাদি দৈনন্দিন কাজে জ্বালানি সাশ্রয়ী সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারিসহ সৌরশক্তি নির্ভর পণ্যও উৎপাদন করছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর, ২০২৬) রাজধানীর ওয়ালটন করপোরেট অফিসে এক জমকালো আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে ‘ওয়ালটন সোলার ইকো-সিস্টেম’ এর উন্মোচন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সে সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি‘র চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম, ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলমম, ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এম মাহবুবুল আলম, পরিচালক এস এম রেজাউল আলম, এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি এবং তাহমিনা আফরোজ তান্না।
উদ্বোধনের পরে ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেমের সৌরবিদ্যুত উৎপাদন প্যানেল, সোলার পাওয়ার ক্যাবলস, স্টোরেজ ইনভার্টার ব্যাটারি, সোলার হাই-ব্রিড প্রযুক্তিনির্ভর ফ্রিজ, এসি ও স্মার্ট টিভিসহ সৌরবিদ্যুত চালিত ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক কুকার, ওভেন, রাইস কুকার, বিএলডিসি ফ্যান, সোলার বেজড প্যাডেস্টাল ও টেবিল ফ্যান, বাল্ব, স্ট্রিট লাইটসহ ইত্যাদি পণ্যের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও জ্বালানি সাশ্রয় সম্পর্কে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি সোলার হাইব্রিড প্রযুক্তিনির্ভর এয়ার কন্ডিশনার, রেফ্রিজারেটর ও স্মার্ট টেলিভিশনে সৌরবিদ্যুৎ ও প্রচলিত গ্রিড বিদ্যুতের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নতুন সুযোগ তৈরি করায় ওয়ালটনের প্রশংসা করেন।অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সোলার পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ। সোলারের মাধ্যমে ওয়ালটন যেটা করছে, সেটা সারা বাংলাদেশে হতে যাচ্ছে। সোলারের মাধ্যমে আগামি এক দুই বছরে দেশে বড় অংকের বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এরফলে কম খরচে জনগণের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি কমবে। ফলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। পর নির্ভরশীলতা কমে যাবে।
সোলারের মাধ্যমে শুধু বাতি নয়, ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন থেকে শুরু করে সব ধরনের ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবহার করা যাবে। আমরা আশা করছি দেশের সব মানুষ সৌরশক্তি ব্যবহারের বিষয়ে এগিয়ে আসবেন।ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম বলেন, ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম’ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, কার্বন নিঃস্বরণ হ্রাস এবং সবুজ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম বলেন, ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুত উৎপাদন, সঞ্চয় ও জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের পাশাপাশি গৃহস্থালির দৈনন্দিন কাজে সৌরশক্তি নির্ভর অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদন সক্ষমতার এক সমন্বিত প্রযুক্তি ব্যবস্থা।
সোলার ইকোসিস্টেম আমাদের ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। এর মাধ্যমে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও মৌলভিত্তি আরও শক্তিশালী করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টিই আমাদের লক্ষ্য। ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও কার্যকর ব্যবহারের সমন্বিত প্রযুক্তিব্যবস্থা হলো ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম।
