Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

ধানের শীষ না পেলেও হতাশ নন অভির অনুসারীরা, হবেন স্বতন্ত্র প্রার্থী

Advertisement

আকতার ফারুক শাহিন

আকতার ফারুক শাহিন

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০২:৪০ পিএম

ধানের শীষ না পেলেও হতাশ নন অভির অনুসারীরা, হবেন স্বতন্ত্র প্রার্থী

Advertisement

নব্বইয়ের দশকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচিত নাম গোলাম ফারুক অভি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক। সেই সময় অভি-নীরু (ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম আহ্বায়ক সানাউল হক নীরু) ছিল ছাত্র রাজনীতির আইকন। তার ক্রেজ ছিল সারা দেশব্যাপী।দলীয় কোন্দলে জড়িয়ে ১৯৯০ সালে দুজনই বহিষ্কার হন ছাত্রদল থেকে। বেশ কয়েকটি মামলাও হয় অভির বিরুদ্ধে। এরপর জাতীয় পার্টিতে (মঞ্জু) যোগ দেন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বাইসাইকেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ-সদস্য হন বরিশাল-২ নির্বাচনি এলাকা থেকে।

সপ্তম জাতীয় সংসদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন তিনি। তখন বরিশালের বাবুগঞ্জ ও উজিরপুর উপজেলা মিলে ছিল এই আসন। পরে অবশ্য আসনটি পুনর্বিন্যাস হয় উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলা নিয়ে। সংসদ-সদস্য থাকাবস্থায় নির্বাচনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করে দেশব্যাপী আলোচিত হন এই নেতা। তার সময়েই মূলত যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় আসে বেশ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন এলাকা নিয়ে গঠিত উজিরপুর উপজেলা। বিপুলসংখ্যক সেতু-কালভার্ট আর সড়ক নির্মাণ করে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন তিনি। যে কারণে এখনো নির্বাচনি এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় অভি। 

মডেল অভিনেত্রী তিন্নি হত্যা মামলার আসামি হন অভি। এই মামলায় সাজা এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২০০২ সালে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন অভি। এরপর একাধিক রাজনৈতিক মামলাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানার কারণে আর দেশে ফিরতে পারেননি। প্রায় দুই যুগ বসবাস করছেন কানাডায়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই অভির দেশে ফেরার গুঞ্জন শুরু হয়। ফিরে জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হবেন-এমনটাও ধারণা তার নির্বাচনি এলাকার অনেকের। প্রথমে গুঞ্জন ছিল বিএনপি থেকে মনোনয়ন নেবেন। পরে অবশ্য সেখানে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সরফুদ্দিন সান্টুকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। ধানের শীষের মনোনয়ন না পেলেও অবশ্য হতাশ নন নির্বাচনি এলাকায় থাকা অভির অনুসারীরা। 

তারা বলছেন, অন্য যে কোনো দল, নয়তো স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবেন তিনি। খোদ অভিও উড়িয়ে দেননি এই সম্ভাবনা। তবে সবার আগে তার কাছে জরুরি দেশে ফেরা, এমনটাই বলেছেন যুগান্তরকে। আর দেশে ফেরার জন্য আবারও ট্রাভেল পাশ চেয়েছেন সরকারের কাছে। 

দেশে ফিরে আবারও নির্বাচনে অংশ নেবেন কিনা—এমন প্রশ্নে অভি যুগান্তরকে বলেন, ‘দেশে ফিরব—এটাই আমার কাছে প্রায়োরিটি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া সেকেন্ডারি।’ তবে স্থানীয় রাজনীতিতে তার ফেরাকে ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, তিনি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।

এই বিষয়ে অভি বলেন, ‘কারো সঙ্গেই আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। ইসলামপন্থি কোনো জোটে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে বিশ্বাসী।’

অভি সার্বিক বিষয়ে আরও বলেন, ‘দেশে ফেরার জন্য বহু বছর ধরেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে বারবার বাধা দেওয়া হয়েছে আমাকে। কানাডায় আসার পর ২০০৬ সালে ফুরিয়ে যায় আমার পাসপোর্টের মেয়াদ। নবায়ন কিংবা নতুন পাসপোর্ট চেয়ে ওই সময়ই আবেদন জমা দিই কানাডায় বাংলাদেশ দূতাবাসে। কিন্তু দেওয়া হয়নি নতুন পাসপোর্ট। একাধিকবার আবেদন করেও ব্যর্থ হওয়ার পর দেশে ফেরার ট্রাভেল ডকুমেন্ট পেতে ২০১৩ সালে আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করি। ওই বছরের ৪ এপ্রিল দেওয়া রায়ে ট্রাভেল ডকুমেন্ট দিতে সরকারকে নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। হাইকোর্টের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে আমাকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট দেওয়ার জন্য ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু তারপরও আমাকে দেশে ফেরার অনুমতি বা ট্রাভেল পারমিট দেওয়া হয়নি।’

রাজনৈতিক সরকারগুলোর আমলে নানা হিসাবনিকাশ মিলিয়ে দেশে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা গোলাম ফারুক অভি আবারও সরকারের কাছে চেয়েছেন দেশে ফেরার ট্রাভেল পাশ। অনুমতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে ৬ নভেম্বর প্রথম তিনি যোগাযোগ করেন কানাডায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে। প্রাথমিক যোগাযোগের পর ১৪ নভেম্বর জমা দেন ট্রাভেল ডকুমেন্ট পাওয়ার আবেদন। ফরম পূরণ করে আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর একটি আবেদনও করেন। এর দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও দেশে ফেরার অনুমতি তথা ট্রাভেল পাশ দেওয়া হয়নি তাকে।

সাধারণত এ ধরনের আবেদনের নিষ্পত্তি ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস। কেননা, দেশে ফেরার ক্ষেত্রে কোনো নাগরিককে বাধা দেওয়ার অধিকার কারও নেই। এমনকি মামলার আসামি হলেও দিতে হয় ট্রাভেল পাশ। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বিদেশে অবস্থানরত বহু রাজনৈতিক নেতা এই পদ্ধতিতে খুব সহজেই পেয়েছেন ট্রাভেল পারমিট। কিন্তু গোলাম ফারুক অভির ক্ষেত্রে কেন দেড়ি হচ্ছে, এর কোনো উত্তর নেই কারও কাছে।

এ ব্যাপারে গোলাম ফারুক অভি যুগান্তরকে বলেন, ‘নিজের দেশে যেতে আমাকে কেন এত রেড টেইপের মধ্যে পড়তে হচ্ছে, বুঝতে পারছি না। সাংবিধানিক অধিকার থেকে আমাকে ডিপ্রাইভ করা হচ্ছে। তবে এসবেরও নিশ্চয়ই শেষ আছে।’

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম