হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু ঠাকুরগাঁও, নষ্ট হচ্ছে ফসল
Advertisement
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম
ফের ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ল ঠাকুরগাঁও। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তিন দিনের ক্ষণস্থায়ী স্বস্তি কাটিয়ে ফের ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ল ঠাকুরগাঁও। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকেই কুয়াশার দাপটে কার্যত থমকে গেছে জনজীবন। উত্তর জনপদের এই জেলায় বইছে হিমেল হাওয়া, যার জেরে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কৃষি অর্থনীতি।
স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দপ্তরের উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলাম জানান, ভোররাতে পারদ আরও নিচে নেমে গিয়েছিল। সূর্যের দেখা না মেলায় দিনের বেলাতেও কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।
প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চাষিরা। পীরগঞ্জ উপজেলার ভেলাতৈর গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে বেগুনের খেতে মড়ক লেগেছে। ফলন নেই বললেই চলে। অনেক চাষি বাধ্য হয়ে খেতের গাছ তুলে ফেলছেন।
শুধু বেগুনই নয়, আলুর খেতেও হানা দিয়েছে মরণব্যাধি ‘লেট ব্লাইট’ রোগ। সবজি বিক্রেতা আব্দুল কুদ্দুসের কথায়, প্রচণ্ড ঠান্ডায় খেত নষ্ট হওয়ায় বাজারে বেগুন ও শিমের সরবরাহ তলানিতে। ফলে দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
কৃষি দপ্তরও ফসলের এই ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করে নিয়েছে।
প্রকৃতির এই মারের পাশাপাশি সরকারি ত্রাণের অপ্রতুলতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। সদর উপজেলার আরাজি পাইক পাড়া গ্রামের সোনামতি আক্ষেপের সুরে বলেন, এই শীতে কাঁপছি, কেউ একটা কম্বলও দিল না। হামরা গরিব মানুষ, কাজ করে ভাত জোগাড় করব না কাপড় কিনব?
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা জানিয়েছেন, অসহায় মানুষদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ চলছে। তবে সদর উপজেলার রহিমান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান হান নূর দাবি, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অত্যন্ত নগণ্য। তিনি একে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন।
উল্লেখ্য, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলেও আজ (বৃহস্পতিবার) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মুজিবুর রহমান যুগান্তরকে জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ও ৯টায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

