রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির অনন্য উদ্যোগ
হাওরের অসহায় মানুষের মাঝে ৬০ লাখ টাকা বিতরণ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের থানেশ্বর স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটরিয়ামে সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নাসিমা বেগম। ইটনা থানার বাদলা ইউনিয়নের থানেশ্বর গ্রামের অসহায় নারী। পুরো পরিবারের হাল ধরতে হচ্ছে তার। এজন্য ছোট্ট একটি টঙ দোকান দিয়েছেন তিনি। দোকানে তেমন মালামাল নেই। কাস্টমার এসে ফিরে যায়। পুরো মাসে মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা আয় হয় তার। অনেক সময় আরও কমও হয় আয়। এই টাকা দিয়েই টেনেটুনে সংসার চালাতে হয় তার। অনেক সময় তার ছেলেমেয়েরা স্কুলে যায় সকালের নাস্তা না করেই। উপোস তাদের নিত্য সঙ্গী।
কিশোরগঞ্জের হাওরের এমন অসহায় মানুষদের স্বাবলম্বী করতে এবার বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। ওই প্রকল্পের আওতায় দেড়শ’ অসহায় পরিবারকে ৪০ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ১৫০ পরিবার মোট ৬০ লাখ টাকার নিঃশর্ত নগদ সহায়তা পেয়েছেন।

হাওরবেষ্টিত ইটনা উপজেলার
বাদলা ইউনিয়নের থানেশ্বর কমিউনিটি এবং রায়টুটি ইউনিয়নের ধারা কমিউনিটির মোট ১৫০টি গরিব
ও অসহায় পরিবারের মাঝে সর্বমোট ৬০ লাখ টাকা নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। গত ২৯ ও ৩০
ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিকাশের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে ৪০ হাজার টাকা করে প্রদান করা
হয়।
হাওর অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত
ঝুঁকি মোকাবেলা ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ
উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। ড্যানিস রেড ক্রসের আর্থিক ও কারিগরি
সহায়তায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, কিশোরগঞ্জ জেলা ইউনিটের মাধ্যমে বাস্তবায়িত
হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা ও জীবিকায়ন সহায়তা প্রকল্প (সিসিএ-কিশোরগঞ্জ)।
এই নগদ সহায়তা সম্পূর্ণ নিঃশর্ত, যা শুধুমাত্র উপকারভোগী পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও টেকসই জীবিকায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রদান করা হয়েছে। সহায়তা প্রাপ্ত উপকারভোগীরা নিজেদের অবস্থান ও সক্ষমতা অনুযায়ী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য বিভিন্ন ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। পরবর্তীতে সরকারি কৃষি বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান শেষে অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের নিজ নিজ বিকাশ অ্যাকাউন্টে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্টের
জাতীয় সদর দপ্তরের ডিসিআরএম বিভাগের সিসিএ-কিশোরগঞ্জ প্রকল্প কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন
রানার উপস্থাপনায় বিতরণ অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) নগদ সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক যুগান্তরের সহসম্পাদক ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট
সোসাইটি, কিশোরগঞ্জ জেলা ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য যোবায়ের আহসান জাবের।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, কিশোরগঞ্জ জেলা ইউনিটের উপ-সহকারী পরিচালক ও ইউনিট কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোতালিব, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রকল্প কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন রানা, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তরের হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা মো. আবু হোসেন, ড্যানিস রেড ক্রস বাংলাদেশ অফিসের পিএমইআর এস. এম. এম. জোবায়ের আলম খান, ড্যানিস রেড ক্রস বাংলাদেশ অফিসের ফাইন্যান্স ও কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা মো. নাজিবুল আলম, কিশোরগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের অ্যাসোসিয়েট ভলান্টিয়ার মো. আয়তুল্লাহ, থানেশ্বর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. রুকন উদ্দিন ভূঁইয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সিডিএমসি কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারি, সিডিআরটি দলনেতা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কমিউনিটি অর্গানাইজার এবং উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যোবায়ের আহসান জাবের বলেন, মানুষের সংকটে পাশে দাঁড়ানোই রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মূল উদ্দেশ্য। গরিব ও অসহায় পরিবারগুলো যেন নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে এবং আজকের এই ৪০ হাজার টাকা যেন ভবিষ্যতে তাদেরকে লাখোপতি হওয়ার পথে এগিয়ে নেয়—সে লক্ষ্যেই এই সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এই সহায়তার মাধ্যমে এই এলাকার মানুষ স্বাবলম্বী হবে, কেউ উপোস থাকবে না, উপকারভোগী সবাই নিজেরা উদ্যোক্তা হয়ে আরও কর্মসংস্থান তৈরি করবে।
ক্তব্যে
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, কিশোরগঞ্জ জেলা ইউনিটের উপ-সহকারী পরিচালক ও ইউনিট
কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোতালিব বলেন, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যেকোনো ধরনের সহায়তা সম্পূর্ণ
বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। সহায়তা গ্রহণের জন্য কাউকে কোনো ধরনের অর্থ বা বিনিময় প্রদান
করার প্রয়োজন নেই।
উপকারভোগীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কোনো অনিয়ম বা সমস্যা দেখা দিলে উপকারভোগীদের বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির হটলাইন নম্বর ১৬২২৬-এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

যুব রেড ক্রিসেন্ট কিশোরগঞ্জ ইউনিট, স্থানীয় সিডিএমসি, সিডিআরটি এর সার্বিক সহায়তায় ও স্থানীয় প্রশাসন এর সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, যাদের
যে উদ্দেশ্যে সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তারা যেন সেই নির্দিষ্ট কাজেই অর্থ ব্যবহার করেন।
এতে করে উপকারভোগীদের জীবনমান টেকসইভাবে উন্নত হবে এবং ভবিষ্যতেও অসহায় মানুষের পাশে
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাবে।
সহায়তা পেয়ে আবেগে আপ্লুত ধারা গ্রামের নাসিমা বেগম বলেন, আমার খুব উপকার হয়েছে। আমি অহন এই ৪০ হাজার ট্যাহা দিয়া দোহানের (দোকানের) মাল কিনবাম। এইডাতেই মাসে মাসে যে লাভ অইব হেই আয় দিয়াই পোলাপানরে নিয়ে চলতারাম (চলতে পারব)। আর অভাব আমার থাকতো না। খুব ভালা অইছে। চেষ্টা করাম (করব) দোহান আরও বড় করার।
