নিহত আরিফ শেখ (বামে) ও রুমি বেগম। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাদারীপুরের রাজৈরের পৃথক স্থান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহবধূসহ দুজনের লাশ উদ্ধার করেছে রাজৈর থানা পুলিশ।
শনিবার (২৮ মার্চ) উপজেলার পৃথক স্থান থেকে পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে।
মৃত দুজনই আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত সাহেব আলী শেখের বড় ছেলে আরিফ শেখ পেশায় একজন মাইক্রোবাস চালক ছিলেন। শনিবার ভোরে পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে ওঠে বাড়ির উঠানের গাছের মগডালে তার লাশ ঝুলতে দেখেন। খবর পেয়ে রাজৈর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এসে লাশটি নিচে নামিয়ে আনে।
মৃতের ছেলে আরাফাত বলেন, আরিফ শেখ প্রথমে লাকি বেগমকে বিয়ে করেন (আরাফাতের মা)। পরবর্তীতে তিনি কণা বেগম নামে আরেক নারীকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর প্রথম স্ত্রী লাকি বেগম সংসার ছেড়ে চলে যান। সন্তানের লালন-পালন এবং দুই স্ত্রীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিয়ে আরিফ ও তার বর্তমান স্ত্রী কণা বেগমের মধ্যে প্রতিনিয়ত ঝগড়া লেগেই থাকত।
স্বজনদের ধারণা, এই মানসিক যন্ত্রণা ও পারিবারিক অশান্তি সহ্য করতে না পেরেই আরিফ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
অন্যদিকে রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের শাখারপাড় গাঙ্গকান্দি গ্রামের প্রবাসী শিপন মোল্লার স্ত্রী গৃহবধূ রুমি বেগমের (২৯) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে রাজৈর থানা পুলিশ।
মৃত রুমির পরিবারের দাবি শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকলল্পিতভাবে সুমিকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে।
রুমির বড় বোন বলেন, বিয়ের পর থেকেই ওরা আমার বোনকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক চাপে রাখত। শুক্রবার রাত ১০টার দিকেও বোনের সঙ্গে কথা হয়েছে। রুমির মৃতদেহের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
রাজৈর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কুতুবউদ্দিন জানান, সংবাদ পেয়ে আরিফ শেখের লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। অন্যদিকে গৃহবধূ রুমির লাশও উদ্ধার করা হয়েছে। দুটি ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

